চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

নতুন এক আশার আলো যেন এ দুঃসময়ে

বিশ্ববাসীর এখন যেন একটাই চাওয়া। করোনাভাইরাস এর ভ্যাকসিনের দিকে সবাই তাকিয়ে আছে। কবে আসবে ভ্যাকসিন। কবে এই ভ্যাকসিন দিয়ে করোনাভাইরাসকে ঠেকিয়ে দেয়া যাবে। সারা বিশ্বের মানুষ বিজ্ঞানের দিকে তাকিয়ে আছে। মানব সভ্যতা বিকাশে বিজ্ঞানের ভূমিকা অপরিসীম। যুগে যুগে বিজ্ঞান আটকে দিয়েছে অনেক ভয়াবহ মহামারি।

আশার কথা হলো, যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা মানবদেহে প্রথম করোনাভাইরাস ভ্যাকসিনের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করেছে। বৃহস্পতিবার অক্সফোর্ডের দুজন স্বেচ্ছাসেবী বিজ্ঞানীর শরীরে প্রথম করোনা ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

অক্সফোর্ডের বিশ্ববিদ্যালয় ব্রিটিশ সরকার ও ব্রিটেনের কয়েকটি দাতব্য সংস্থার অর্থায়নে ২০০৫ সালে গড়ে তোলা হয় জেনার ইনস্টিটিউট। সংক্রমণজনিত রোগ নিয়ে গবেষণা আর টিকা তৈরি এই প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য। এই প্রতিষ্ঠানের প্রধান বিজ্ঞানী ড. সারাহ গিলবার্ট। তার নেতৃত্বেই তিন মাসের কম সময়ে করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন তৈরি করা হয় এবং পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করা হলো গতকাল।

তিনি বলেছেন, ব্যক্তিগতভাবে আমার এই ভ্যাকসিনের প্রতি উচ্চতর আত্মবিশ্বাস রয়েছে। অবশ্যই আমাদের এটি পরীক্ষা করতে হবে এবং মানুষের কাছ থেকে তথ্য নিতে হবে। বিস্তৃত জনগোষ্ঠীর ভ্যাকসিন ব্যবহারের আগে আমাদেরকে প্রমাণ করতে হবে যে, এই ভ্যাকসিন করোনাভাইরাস আক্রান্ত বন্ধ করছে। এই ভ্যাকসিন একটি ইন্ট্রামাস্কুলার ইনজেকশন। এটিকে জৈবপ্রযুক্তরি মাধ্যমে মানব দেহে বংশবিস্তারে ভাইরাসকে অক্ষম করা হবে। আর এর জেনেটিক কোডে পরিবর্তন আনা হয়েছে যাতে স্পাইক প্রোটিনটি গড়ে তুলতে পারে প্রতিরোধ। এতে মানবদেহে তৈরি হবে স্পাইক প্রোটিনবিরোধি এন্টিবডি। যার কারণেমানুষের দেহে কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তালিকায় আছে এখন পরীক্ষমূলক ৭০টি ভ্যাকসিন। এর ভেতর ৪টি অত্যন্ত সম্ভাবনাময়।

এই গবেষক দল আশা করছে যে, সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর নাগাদ ভ্যাকসিন তৈরি হয়ে যাবে। আমরাও আশা করি এই পরীক্ষার সফল প্রয়োগ হোক। এছাড়া বিশ্বে নানা জায়গায় আরও অনেকেই সফল ভ্যাকসিন তৈরির চেষ্টা করছেন। তারা সফল হোক আমরা সেই কামনা করি। করোনাভাইরাস এর অবিশ্বাস্য ভয়ংকর আতংক থেকে মানব জাতি মুক্তি পাক। আমরা দৃঢ়ভাবে আশা করি, গবেষণালব্ধ ভ্যাকসিন দ্রুতই মানবজাতির নতুন ত্রাতা হয়ে আসবে।