চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

নতুন ইতিহাস গড়ার দ্বারপ্রান্তে ‘মিশন এক্সট্রিম’!

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একসঙ্গে তিন মহাদেশে মুক্তি পেতে যাচ্ছে সিনেমা…

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশসহ বিশ্বের তিনটি মহাদেশে একই দিনে (৩ ডিসেম্বর) মুক্তি পেতে যাচ্ছে বহুল আলোচিত এবং প্রতীক্ষিত পুলিশ অ্যাকশন থ্রিলার সিনেমা ‘মিশন এক্সট্রিম’। 

শনিবার দুপুরে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এমনটাই জানিয়েছে সিনেমাটির প্রযোজনা সংস্থা কপ ক্রিয়েশন।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঢাকার দর্শকদের সঙ্গে একই সময়ে নিউইয়র্ক, সিডনি এবং অবল্যান্ডের প্রেক্ষাগৃহেও প্রবাসীরা এই সিনেমাটি দেখতে পাবেন। যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড ছাড়া আরও ১১টি দেশে সিনেমাটির মুক্তি বিষয়টি নিশ্চিত করেছে প্রযোজনা সংস্থা।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি বায়োস্কোপ ফিল্মস -এর কর্ণধার রাজ হামিদ বলেন, হলিউডের বিখ্যাত সব সিনেমাগুলোর মতো নিউইয়র্কে ‘মিশন এক্সট্রিম’-এর প্রিমিয়ার শো হবে ৩ ডিসেম্বর রাত ১২টা ১ মিনিটে। জ্যামাইকা মাল্টিপ্লেক্সে সিনেমা কমপ্লেক্সে ৩ ডিসেম্বর থেকে ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ২৭টি শো চূড়ান্ত করা হয়েছে। আমরা এই সিনেমাটি দিয়ে কোভিড পরবর্তী পৃথিবীতে সবাইকে স্বাগত জানাতে চাই। মুক্তির খবর শুনে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশিরাও খুব আনন্দিত।

বায়োস্কোপ ফিল্মস-এর আরেক কর্ণধার নউশাবা রশিদ বলেন, ‘৩ ডিসেম্বর নিউইয়র্ক ছাড়াও লসএঞ্জেলস, সানফ্রানসিসকো, মিয়ামীর অদূরে ওয়েস্ট পামবীচ-এ সিনেমাটি মুক্তি দেয়া হচ্ছে। পরবর্তী ধাপে মুক্তি পাবে- ডালাস, অস্টিন, হিউস্টন, ভার্জিনিয়ার কয়েকটি সিটি, ডিসি, বোস্টন, নিউজার্সি, এটলান্টা, ফিনিক্স, সিয়াটল, পোর্টল্যান্ড, ডেট্রয়েট, সাক্রোমেন্টো, রিভারসাইড এবং প্রথমবারের মতো নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের অ্যালবানি ও অ্যালাবামার হান্টসভিল-এ। ‘মিশন এক্সট্রিম’-এর প্রতি যুক্তরাষ্ট্র দর্শকদের প্রবল আকাঙ্ক্ষা বিবেচনা করে এতটা ব্যাপকভাবে মুক্তির আয়োজন করেছি। আশা করি সিনেমাটি এখানকার দর্শক হৃদয় জয় করে নিতে সামর্থ্য হবে।’

এদিকে অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ড ভিত্তিক ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি বঙ্গজ ফিল্মস-এর কর্ণধার তানিম মান্নান বলেন, ‘প্রবাসে বাংলা সিনেমা নির্বাচনের ক্ষেত্রে আমরা বরাবরই রুচিশীল সিনেমার সাথে থাকার চেষ্টা করি। আমাদের প্রচেষ্টার মূলে থাকে প্রবাসী দর্শকরা যেন তাদের মূল্যবান সময় এবং অর্থের বিনিময়ে কোনোভাবেই সিনেমা হলে এসে হতাশ না হন। আমাদের ভীষণ জনপ্রিয় আয়োজনের মধ্যে ‘ঢাকা অ্যাটাক’ অন্যতম এবং আমি বিশ্বাস করি ‘মিশন এক্সট্রিম’ আমাদের দর্শকদের তার থেকেও বেশি বিনোদিত করবে।’

বিজ্ঞাপন

বঙ্গজ ফিল্মের সাফিন আজম জানান, ‘অস্ট্রেলিয়ার সিডনি, ক্যানভেরা, পার্থ, মেলবোর্নসহ আরও বেশ কয়েকটি শহরে সিনেমাটি প্রদর্শিত হবে, সে সঙ্গে রয়েছে নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ড। সে লক্ষ্যে আগামী ১ অক্টোবর থেকে বঙ্গজ ফিল্মস অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে অগ্রিম টিকেট বিক্রয় শুরু করতে যাচ্ছে। টিকেট কেনা যাবে www.bongozfilms.com ওয়েবসাইট থেকে।

এর আগে ‘মিশন এক্সট্রিম’র অন্যতম পরিচালক, প্রযোজক ও লেখক সানী সানোয়ার আনুষ্ঠানিকভাবে ৩ ডিসেম্বর বিশ্বব্যাপী মুক্তির ঘোষণা দেন। জাতীয় চলচ্চিত্র বিজয়ী সিনেমা ‘ঢাকা অ্যাটাক’-এর এই প্রযোজক ও লেখক বলেন, ‘দেশের আগেই বিদেশে বুকিং শুরু হওয়াতে আমরা বেশ খুব আনন্দিত। তবে, দেশ-বিদেশে ডিস্ট্রিবিউশনের পাশাপাশি আমরা ‘মিশন এক্সট্রিম’র প্রচারণার কাজ ফের ব্যাপক আয়োজনে শুরু করতে যাচ্ছি। খুব শিগগিরই প্রকাশ করবো সিনেমার ট্রেলার এবং চমকপ্রদ সব কনটেন্ট। সর্বোচ্চ এফোর্ট দিয়ে প্রচারণা কার্যক্রম চালানো হবে যাতে সর্বোচ্চা সংখ্যক মানুষের কাছে আমাদের ম্যাসেজ পৌঁছে দিতে পারি।’

অচিরেই সিনেমাটি বিশ্বব্যাপী মুক্তির চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে বলেও জানায় সিনেমাটির অপর পরিচালক ফয়সাল আহমেদ।

‘মিশন এক্সট্রিম’র কেন্দ্রীয় চরিত্রে রয়েছেন ‘মাসলম্যান’খ্যাত অভিনেতা আরিফিন শুভ। তিনি বলেন, বিশ্ব সিনেমার আধুনিকতার দৌড়ে ‘মিশন এক্সট্রিম’ দেশীয় সিনেমার পক্ষে একটি শক্ত প্রতিনিধি। তাই পৃথিবীর নানা প্রান্তে বসবাসকারী প্রবাসীরা বুকে গর্ব নিয়ে সিনেমাটি দেখার জন্য মুখিয়ে আছে। এটা তাদের দেশপ্রেম। রেসপেক্ট।

কপ ক্রিয়েশনের ব্যানারে নির্মিত সিনেমাটি অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন- তাসকিন রহমান, জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী, সাদিয়া নাবিলা, সুমীত সেনগুপ্ত, রাইসুল ইসলাম আসাদ, ফজলুর রহমান বাবু, শতাব্দী ওয়াদুদ, মনোজ প্রামাণিক, ইরেশ জাকের, মাজনুন মিজান, সুদীপ বিশ্বাস, সৈয়দ আরেফ, রাশেদ খান অপু, দীপু ইমাম, এহসানুর রহমান, ইমরান শওদাগর প্রমুখ।

কুল নিবেদিত ‘মিশন এক্সট্রিম’ সিনেমাটি পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট (সিটিটিসি)-এর কিছু শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। কাহিনী, চিত্রনাট্য ও সংলাপ লিখেছেন পুলিশের এন্টি টেররিজম ইউনিটের পুলিশ সুপার সানী সানোয়ার। সিনেমাটির সহযোগী প্রযোজক হিসেবে রয়েছে মাইম মাল্টিমিডিয়া ও ঢাকা ডিটেকটিভ ক্লাব।