চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ধর্ষণ-হত্যার তিন মামলায় চার আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল

আট বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যাসহ পৃথক তিনটি হত্যা মামলায় আজ চার আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে রায় দিয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের ভার্চুয়াল বেঞ্চ
সোমবার পৃথক তিনটি রায় ঘোষণা করেন। এই তিনটি মামলাই রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিৎ দেবনাথ।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

মাইক্রো চালক হত্যায় দুজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল

২০০৫ সালের ২৫ এপ্রিলের ঘটনা। এইদিন ভাড়ার কথা বলে রংপুর থেকে লিটন আলী ব্যাপারির মাইক্রোবাসটি ভাড়া করে ছিনতাইচক্র। একপর্যায়ে যমুনা সেতুর পশ্চিম পাশে এসে আসামিরা লিটনের গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যা করে ফেলে দেয়। এই ঘটনায় করা মামলায় ছিনতাইচক্রের সদস্য খোকন আকন্দকে ২০০৫ সালের ৩০ এপ্রিল গ্রেফতার করে পুলিশ। এর এক মাস পর ২৯ মে আসামি আল আমিনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে এই মামলার বিচার শেষে সিরাজগঞ্জের আদালত ছিনতাই চক্রের দুই সদস্য খোকন আকন্দ ও আল আমিনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে অন্য আসামিদের খালাস দেয়।

পরে আসামিরা রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন হাইকোর্টে। সে আপিলের শুনানি নিয়ে দুজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন হাইকোর্ট। এরপর হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি আপিল বিভাগে জেল আপিল করেন। সেই জেল আপিল আজ খারিজ করে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখের সর্বোচ্চ আদালত। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন রংপুরের হাসানপুর গ্রামের প্রয়াত মজিদ মিয়ার ছেলে আলামীন (২৫) ও বগুড়ার শিবগঞ্জ থানার রোহা চরপাড়া গ্রামের নান্নু মিয়ার ছেলে খোকন আকন্দ (২৪)। আদালতে এই মামলায় আসামি পক্ষে শুনানি করেন রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী ছিলেন শিরিন আফরোজ।

বিজ্ঞাপন

স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদণ্ড বহাল

যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার বটবাটা গ্রামের মো. আব্দুল লতিফকে মৃত্যুদণ্ড দেন সিরাজগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল। এই রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট আব্দুল লতিফের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। সে রায়ের বিরুদ্ধে আব্দুল লতিফ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে জেল আপিল করেন। সেই জেল আপিল আজ খারিজ করে আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখের সর্বোচ্চ আদালত। আদালতে এই মামলায় আসামি পক্ষে শুনানি করেন রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী সৈয়দ মুহাইমেন বকস কল্লোল।

শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ড বহাল

২০০৮ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর রাতে তারাবির
নামাজের সময় আট বছরের শিশুকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ ও গলাটিপে হত্যা করে শাহিদুল ইসলাম শেখ। ওই রাতেই গ্রামবাসীরা শাহিদুলকে আটক করে ও শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে। পরদিন নিহতের মা
জীবননেসা বাদী হয়ে মামলা করলে পুলিশ শাহিদুলকে গ্রেপ্তার করে। এই মামলার বিচার শেষে সিরাজগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২০১৩ সালের ২ জানুয়ারি শাহিদুলকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে রায় ঘোষনা করেন। এই রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট শাহিদুলের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। এরপর হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে শাহিদুল সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে জেল আপিল করেন। সে জেল আপিল খারিজ করে আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে আজ রায় দেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের ভার্চুয়াল বেঞ্চ। আদালতে আসামি পক্ষে শুনানি করেন রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী সৈয়দ মুহাইমেন বকস কল্লোল।

বিজ্ঞাপন