চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ধবধবে ঝরঝরে লবণ নিয়ে ভয়ংকর তথ্য

লবণ বলে বিক্রি করা হচ্ছে ক্ষতিকর সোডিয়াম সালফেট

বাজারে যে ধবধবে ঝরঝরে লবণ বিক্রি হচ্ছে, তাতে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর সোডিয়াম সালফেট রয়েছে বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ লবণ মিল মালিক সমিতি। তাই লবণে ব্যবহৃত সোডিয়াম সালফেট আমদানি নিষিদ্ধের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

মঙ্গলবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ লবণ মিল সমিতি আয়োজিত ‘বিসিক’র তথ্য বিভ্রাট ও লবণ মিশ্রিত সোডিয়াম সালফেট আমদানি বন্ধকরণ’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়।

বিজ্ঞাপন

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সমিতির সভাপতি নুরুল কবির বলেন, সোডিয়াম সালফেট এক ধরনের কেমিক্যাল। এটা সাধারণত পোশাক শিল্পসহ বিভিন্ন শিল্পে ব্যবহৃত হয়। এ খাতে বছরে এই পণ্যটির চাহিদা রয়েছে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টন। কিন্তু বিসিকের প্ররোচনায় একটি চক্র বছরে ৯ লাখের বেশি সোডিয়াম সালফেট আমদানি করে।

‘‘এই সোডিয়াম সালফেট এর সাথে আয়োডিন মিশিয়ে তা খাবার লবণ হিসেবে বাজারজাত করছে। এটি স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। ইতিমধ্যে মানুষ নানাবিধ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।’’

তিনি বলেন, ‘বিএসটিআইয়ের ভ্রাম্যমান আদালত সোডিয়াম সালফেট মেশানো লবণ জব্দ করলেও এক্ষেত্রে বিসিক কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

লিখিত বক্তব্যে নুরুল কবির আরো বলেন, বছরে দেশে সোডিয়াম সালফেটের প্রয়োজন কতটুকু। আর কারাই বা তা আমদানি করতে পারবে। এ বিষয়ে বিসিক থেকে কোনো দিক নির্দেশনা নেই। এতে বোঝা যাচ্ছে সোডিয়াম সালফেট আমদানিতে বিসিকের ষড়যন্ত্র রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

লবণ মিল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ২০১৭ সালের আগ পর্যন্ত দেশের গার্মেন্টস, ডাইং, প্রিন্টিং, ডিটারজেন্টসহ বিভিন্ন পণ্যের কারখানায় দেশে উৎপাদিত লবণ সরবরাহ করা হতো। কিন্তু বিসিকের শিল্প বিদ্বেষী মনোভাবের কারণে দেশিয় লবণ এসব ক্ষেত্রে এখন আর ব্যবহৃত হচ্ছে না। ফলে লবণ ব্যবসায়ীরা হারিয়েছে তাদের শত বছরের লবণের বাজার। বন্ধ হয়ে যাচ্ছে লবণের কারখানা।  বেকারত্ব বরণ করছে হাজার লবণ চাষী।

‘‘দেশে ধবধবে ঝরঝরে যে লবণগুলো বিক্রি হচ্ছে সেগুলোর কারখানা বাংলাদেশের কোথায়? সরকারের নিকট এমন প্রশ্ন রেখে সংগঠনটি বলেছে, এগুলো মূলত সোডিয়াম সালফেট লবণ বিদেশ থেকে আমদানি করা হয় দেশের গার্মেন্টস কারখানাসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহারের জন্য। কম শুল্কে কেমিক্যাল হিসেবে সোডিয়াম সালফেট আমদানি করে তা লবণ হিসেবে বিক্রি করা হচ্ছে।’’

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বিসিক বলছে লবণের কোনো ঘাটতি নাই। আমরা এর প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছি লবণের বার্ষিক চাহিদা ২৪ লাখ টন। যেখানে বিসিক বলছে লবণের চাহিদা মাত্র সাড়ে ১৮ লাখ টন।  এই হিসেবে বিসিক লবণের ঘাটতি কম দেখিয়েছে ৬ লাখ টন।

বিসিকের ৩ কোটি ৩১ লাখ ৩৮ হাজার মণ লবণ মজুদের তথ্য বাস্তবে খুঁজে পাওয়া যায়নি দাবি করে নুরুল কবির বলেন, যে পরিমাণ লবণ মজুদ আছে সারা বছর ব্যবহারের পর আরো উদ্বৃত্ত থাকবে। কিন্তু প্রশ্ন হল এত মণ লবণ কোথায় দেখলো? সরকারের কাছে বলতে চাই বিসিকের জোন, কেন্দ্র, পরিবহন চ্যানেলে খোঁজ নিয়ে তথ্য অনুসন্ধান করলে বিসিকের দেয়া তথ্য মিথ্যা প্রমাণিত হবে।

‘‘বিসিক লবণ উৎপাদনের মাঠ দেখিয়েছে ৬০ হাজার একর। কিন্তু বর্তমানে এর পরিমাণ রয়েছে ৪৫ হাজার একর। বিভিন্ন কারণে ১৫ একর মাঠ কমে গেছে। তবে কোরবানির চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণে দেশে পর্যাপ্ত লবণের মজুদ রয়েছে। কোরবানির ঈদকে ঘিরে কোনোক্রমেই লবণের দাম বাড়ার শঙ্কা নেই। ৭৫ কেজি লবণের বস্তা ৭০০ টাকার উপরে দাম উঠবে না।’’

এই সংবাদ সম্মেলনে সরকারের কাছে ৪টি দাবি তুলে ধরা হয়। এগুলো হলো- উৎপাদন ও চাহিদা সঠিক তথ্য নির্ধারণ করা, বাণিজ্যের জন্য আনা সোডিয়াম সালফেট আমদানি নিষিদ্ধ করা, লবণ মিল মালিকদের ইস্যুকৃত বন্ড লাইসেন্স বাতিল ও নতুন কোনো লাইসেন্স না দেওয়া এবং দেশীয় লবণ চাষিদের রক্ষায় দ্রুত প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ করা।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের অন্যান্য নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।

Bellow Post-Green View