চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

দুর্ব্যবহার সহ্য করেও সালমানের পাশে ছিলাম: ঐশ্বরিয়া

সালমান-ঐশ্বরিয়ার প্রেমে একসময় সরগরম ছিল বলিউড। তাদের প্রেম শুরু হয়েছিল সঞ্জয় লীলা বানসালি পরিচালিত ‘হাম দিল দে চুকে সানম’ ছবির শুটিং সেট থেকে। কিন্তু সেই প্রেমের পরিণতি সুখের হয়নি।

সালমান প্রেমকে বিয়েতে রূপ দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ঐশ্বরিয়া চেয়েছিলেন মন দিয়ে ক্যারিয়ার গড়তে। তাই বিয়ের প্রস্তাব অ্যাশ ফিরিয়ে দেন। সালমান ঐশ্বরিয়াকে রাজি করানোর জন্য ২০০১ সালের নভেম্বরে এক গভীর রাতে তার ফ্ল্যাটে গিয়ে হাজির হন। ঐশ্বরিয়ার ফ্ল্যাটের দরজা পেটাতে থাকেন। কিন্তু কিছুতেই অ্যাশ ফ্ল্যাটের দরজা খোলেননি। ভোরে যখন অভিনেত্রী দরজা খোলেন, ততক্ষণে দরজা পেটাতে পেটাতে সালমানের হাতে ফোস্কা পড়ে যায়। রক্ত ঝরতে থাকে।

এরপরেই ঐশ্বরিয়ার সঙ্গে সালমানের বেপরোয়া আচরণের বিষয়টি জানাজানি হয়ে যায়। ঐশ্বরিয়ার বাবা সালমানের বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে এই ব্যাপারে অভিযোগ দায়ের করেন।

এরমধ্যে সালমানের সাবেক প্রেমিকা সোমি তাকে ফোন করে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। সালমান যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। ঐশ্বরিয়া বিষয়টি জানতে পেরে ভীষণ কষ্ট পান এবং সালমানের সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নেন।

বিজ্ঞাপন

এরপর সালমান যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরে ঐশ্বরিয়ার ‘কুছ না কাহো’ ছবির সেটে যান। শুটিং সেটেই ঐশ্বরিয়ার সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন সালমান। এরপর সালমানের সঙ্গে সব সম্পর্ক শেষ করে ফেলেন ঐশ্বরিয়া।

২০০২ সালে টাইমস অব ইন্ডিয়ায় দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ব্রেকআপ প্রসঙ্গে মুখ খুলেছিলেন ঐশ্বরিয়া। তিনি বলেছিলেন, ‘সালমান ও আমি গত মার্চে ব্রেকআপ করেছি। ব্রেকআপের পরে আমাকে ফোন করে আজেবাজে কথা বলতো। সহশিল্পীদের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে সন্দেহ করতো। অভিষেক থেকে শাহরুখ খান, সবাইকে নিয়েই সন্দেহ ছিলো তার।

তিনি বলেন, সালমান আমার গায়েও হাত তুলেছে, সৌভাগ্যবশত কোনো দাগ থেকে যায়নি। কাজে যেতাম এমনভাবে, যেন কিছুই হয়নি। সালমান আমাকে আতঙ্কে রাখতো, নিজের ক্ষতি করে ফেলতো যখন আমি তার ফোন না ধরতাম।’

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে দেয়া আরেক সাক্ষাৎকারে ঐশ্বরিয়া বলেছেন, ‘মদ্যপ দশার দুর্ব্যবহার সহ্য করেও সালমানের পাশে ছিলাম। ফলস্বরূপ শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের স্বীকার হয়েছিলাম। সেকারণেই আত্মসম্মান রক্ষা করতে সম্পর্ক শেষ করেছি।’

বিজ্ঞাপন