প্রকাশক দীপন ও ব্লগার নিলয় হত্যার নির্দেশদাতা ছিলেন সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত পলাতক মেজর জিয়া। পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন কাজ সমন্বয় করে আনসারুল্লা বাংলা টিম এবিটি’র গোয়েন্দা শাখার প্রধান খায়রুল ওরফে জিসান। গোয়েন্দা জালে আটক হয়ে মেজার জিয়ার প্রধান সহযোগী জিসানই ফাঁস করেছে এসব তথ্য।
ডিবির জয়েন্ট কমিশনার মোঃ আব্দুল বাতেন ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন, “আনসার আল ইসলাম সংশ্লিষ্ট যতগুলো খুন হয়েছে, প্রত্যেকটাতেই মেজর জিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে এবং সেই এসব খুনের নেতৃত্বে ছিলো। সংগঠনের নেতাকর্মীরা মেজর জিয়াকে বড় ভাই হিসেবে ডাকে। গত ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জিসানের সঙ্গে বড় ভাইয়ের যোগাযোগ ছিলো। ঢাকার আশেপাশেই মেজর জিয়ার সঙ্গে জিসানের সরাসরি সাক্ষাৎ হয়েছে।”
ব্রিফিংয়ে আরো জানানো হয়, ব্লগার নিলয়কে ৫ মাস ধরে অনুসরণ তার তার সম্পর্কে বড় ভাইয়ের কাছে বিস্তারিত তথ্য দিয়েছে জিসান। তারপর বড়ভাইয়ের নির্দেশে নিলয়কে হত্যা করা হয়। প্রকাশক দীপন সম্পর্কেও একইভাবে তথ্য সংগ্রহ করে বড় ভাইকে দেওয়া হয়। পরে আঁটঘাট বেঁধে অপারেশন পরিচালনা করে জিসান।
গত বছর ৩১ অক্টোবর রাজধানীর আজিজ সুপার মার্কেটে নিজের প্রকাশনী অফিসে কুপিয়ে হত্যা করা হয় প্রকাশক ফয়সাল আরেফিন দীপনকে। এর দু’মাস আগে গোড়ানে নিজ বাসায় একই কায়দায় খুন হয়েছিলেন ব্লগার নিলাদ্রী চট্রোপাধ্যায় নীলয়।
রাজধানীর কমলাপুর থেকে আটক আনসারউল্লাহ বাংলা টীমের ইন্টেলিজেন্স উইং প্রধান জিসান জানিয়েছে দুটি হত্যার সমন্বয় করেছে সে নিজেই। নির্দেশদাতা ছিলেন সেনাবাহিনীতে অভ্যুত্থান চেষ্টায় জড়িত অভিযোগে বরখাস্ত মেজর সৈয়দ জিয়াউল হক।
বইমেলাতে অভিজিত রায় হত্যার সময়ে সেখানকার যে ফুটেজ ডিবি পেয়েছে সেগুলো জিসানকে দেখানো হয়েছে। সেখান থেকে জিসান কয়েকজনকে সনাক্ত করেছে বলে জানিয়েছে ডিবি। যাদেরকে সনাক্ত করেছে তারাও আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্য বলে জানিয়েছে জিসান।
চট্রগ্রাম পাহাড়তলী কলেজের বিবিএ’র ছাত্র থাকাবস্থায় নিউমার্কেট মসজিদে নামাজ পড়তে গিয়ে জিসানের সঙ্গে পরিচয় হওয়া আমিনুল নামে এক ব্যাক্তির হাত ধরে সে এবিটিতে যোগ দেয়। এরপর বড় ভাই হিসেবে তার সঙ্গে পরিচয় হয় পলাতক মেজর জিয়ার। তাকে দায়িত্ব দেয়া হয় ইন্টেলিজেন্স উইং প্রধানের।
জঙ্গি নেতা জিসান কোন নাশকতা ঘটাতে রাজধানীতে এসেছিলো কি না তা জানতে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞসাবাদের কথা জানিয়েছে ডিবি।










