চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

দিল্লিতে শীতকালীন বায়ুদূষণে কোভিড বিপর্যয়ের আশঙ্কা

ভারতের রাজধানী দিল্লিসহ উত্তরাঞ্চলের আরও কয়েকটি নগরীতে শীতের শুষ্ক আবহাওয়ায় বায়ুদূষণের সঙ্গে কোভিড-১৯ সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়তে পারে এবং যার কারণে মানুষের স্বাস্থ্যের ক্ষতির ঝুঁকি আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং আরও ভয়ানক পরস্থিতির সৃষ্টি হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। 

বিশেষজ্ঞদের পক্ষ থেকে সতর্ক করে বলা হয়েছে যে, এর ফলে যাদের অতীতে করোনা ভাইরাস হয়েছে তাদের নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে।

বিজ্ঞাপন

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের এই দিল্লিতে শুধুমাত্র বুধবার ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে ৮ হাজার ৫০০ জন। দৈনিক হিসেবে এটাই সর্বোচ্চ সংখ্যা রেকর্ড করা হয়েছে। এবং মৃত্যু হয়েছে ৮৫ জন, দিল্লিতেই মোট মৃত্যু ৭ হাজার।

এরই মধ্যে নভেম্বরের শুরু থেকেই হাসপাতালগুলিতে কোভিড আক্রান্ত রোগীর চাপ সৃষ্টি হয়েছে। অর্ধশতাধিকেরও বেশি বিছানা ইতিমধ্যেই আক্রান্ত রোগীদের।

দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল সরকারি হাসপাতালে কোভিড রোগীদের আরও বিছানা চেয়ে এবং জনগণের চাপ সামাল দিতে এরই মধ্যে সরকারকে চিঠি পাঠিয়েছেন।

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি ঘনমিটার বাতাসে অতি সূক্ষ্ম বস্তুকণা-পিএম ২.৫- এক মাইক্রোগ্রাম বৃদ্ধিতেই ভাইরাসে মৃত্যুহার ৮ শতাংশ বেড়ে যেতে পারে।

যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের আরেকটি গবেষণাতেও বায়ুদূষণের সঙ্গে কোভিড-১৯ সংক্রমণ মারাত্মক আকার ধারণ করার যোগসূত্র পাওয়া গেছে। বাতাসে নাইট্রোজেন অক্সাইড, যানবাহনের ধোঁয়া, জীবাশ্ম জ্বালানি দূষণ দীর্ঘমেয়াদে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ভারত এখনও দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আক্রান্তের তালিকায় রয়েছে, তবে আক্রান্তের সংখ্যাটি সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝিতে কিছুটা কমতে শুরু করলেও নভেম্বরের শুরুতে বাড়ছে।

ওয়ার্ল্ডোমিটার তথ্য অনুযায়ী,গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে ভারতে আক্রান্ত হয়েছে ৪৮ হাজার এবং মৃত্যু হয়েছে ৫৫০ জন। এই দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৮৬ লাখ ৮৪ হাজার ৩৯ জন। মৃত্যু ১ লাখ ২৮ হাজারেরও বেশি।

মহামারীর শুরুর দিকে বেশ কয়েক মাস লকডাউনে থেকে ভারতে বায়ুদূষণ কমে জেগে উঠেছিল নির্মল, পরিচ্ছন্ন বাতাস। কিন্তু সম্প্রতি আবারও বেড়ে গেছে দূষণ।

দিল্লিতে পিএম ২.৫ এর মাত্রা সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে প্রতি ঘনমিটারে গড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮০ -৩০০ মাইক্রোগ্রামে। এ মাত্রা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নির্ধারিত সহনীয় মাত্রার চেয়ে ১২ গুণ বেশি।

‘দিল্লির পরিস্থিতি এই শীতে সত্যিই মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে’, বিবিসি- কে বলেছেন, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী ও শীর্ষ গবেষক অধ্যাপক ড. ফ্রান্সেসকা ডোমিনিক।

নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারির শীতের সময়টিতে বিষেশত বাতাস বেশি দূষিত থাকে। কেননা, এসময় যানবহান ও শিল্প কারখানার দূষণের পাশাপাশি কৃষকদের ফসলের উচ্ছিষ্ট পোড়ানো, বিভিন্ন উৎসবে আতশবাজি পোড়ানোর কারণে দূষণ বাড়ে।

সুস্বাস্থ্যের অধিকারী মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বায়ুদূষণের কারণে দুর্বল হয়ে পড়ে। ক্ষতিগ্রস্ত হয় মানুষের ফুসফুস। আর ফুসফুসের কোনরকম ক্ষতি কোভিড-১৯ এর মারাত্মক ঝুঁকির আশঙ্কা আরও বাড়ায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সমস্ত নানা কারণে বায়ুদূষণের প্রভাবে করোনাভাইরাস সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ারও ঝুঁকি আছে। তাই এই বিপর্যয় এড়াতে দূষণ কমানো ছাড়া পথ নেই।