চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

থাকার জন্য প্রথম পছন্দ উত্তরা

ঢাকায় আবাসন চাহিদার মাত্র ৩৪ শতাংশ পূরণ হচ্ছে

ঢাকায় আবাসন চাহিদার ক্ষেত্রে বর্তমানে মাত্র ৩৪ শতাংশ পূরণ হচ্ছে। অ্যাপার্টমেন্ট কেনে বসবাসের ক্ষেত্রে ঢাকাবাসীর প্রথম পছন্দ উত্তরা এলাকা। দ্বিতীয় অবস্থানে আছে মিরপুর। পছন্দের তালিকায় এরপরে আছে যথাক্রমে মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি এবং বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা।

ঢাকার আবাসন সমস্যা বিষয়ে এক গবেষণায় এমন তথ্য প্রকাশ করেছে রিয়েল এস্টেট মার্কেটপ্লেস বিপ্রপার্টি ডটকম।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার বিপ্রপার্টি ডটকম এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকায় অ্যাপার্টমেন্ট চাহিদার ট্রেন্ড অ্যানালাইসিস করে একটি পরিপূর্ণ ইনফোগ্রাফিক তৈরি করেছে বিপ্রপার্টি ডটকম। ওই ইনফোগ্রাফিকে দেখানো হয়েছে, গ্রাহকরা বসবাসের জন্য বা বিনিয়োগ করার জন্য কি ধরনের অ্যাপার্টমেন্ট চান এবং তারা কোন এলাকায় থাকতে সবচেয়ে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

২০১৮ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৯ সালের মার্চ পর্যন্ত ছয় মাসে বিপ্রপার্টি ডটকমের ওয়েবসাইট ভিজিট করা গ্রাহকদের চাহিদার তথ্য বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

বিপ্রপার্টির গবেষণার ফলাফলে বলা হয়, বসবাসের জন্য ঢাকার বেশির ভাগ মানুষ উত্তরা এলাকাকে বেছে নিয়েছে। যা মোট তথ্যদাতাদের ২৪ শতাংশ। পছন্দের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে আছে মিরপুর। যা মোট তথ্যদাতাদের ২০ শতাংশ। এরপর নগরবাসীদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে যথাক্রমে মোহাম্মদপুরে ১৪ শতাংশ, ধানমন্ডিতে ১১ শতাংশ এবং বসুন্ধরা এলাকা ১০ শতাংশ।

গবেষণায় আরও দেখা যায়, অধিকাংশ গ্রাহক ১,৫০০ বর্গফুটের আয়তনের ফ্ল্যাট বেশি চান। বিপ্রপার্টির কাছে আসা মোট অনুরোধের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি গ্রাহক (৫৩.৬৬ শতাংশ) ১,৫০০ বর্গফুট ফ্ল্যাট বা অ্যাপার্টমেন্ট এবং ২৭ শতাংশ গ্রাহক ১০০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট খোঁজেন। এছাড়া ২০০০ বর্গফুট এবং তার চেয়ে বেশি বর্গফুটের ফ্ল্যাট খোঁজেন যথাক্রমে ১৫ শতাংশ এবং ৪ শতাংশ গ্রাহক।

বিজ্ঞাপন

গবেষণায় ঢাকার বিভিন্ন জায়গা পৃথকভাবে পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, প্রায় ১,০০০ বর্গফুট অ্যাপার্টমেন্টের জন্য খুব জনপ্রিয় ঢাকার দক্ষিণখান, মিরপুর ও বাড্ডা এলাকা। আবার বেশির ভাগ গ্রাহক রামপুরা, বনশ্রী এবং মোহাম্মদপুর এলাকায় থাকার জন্য মাঝারি আকারের ফ্ল্যাটের (১৫০০ বর্গফুট) জন্য অনুরোধ করেন। তবে প্রায় ২,০০০ বর্গফুট বা তার চেয়ে বড় ফ্ল্যাটের অনুরোধ আসে গুলশান, বনানী ও বসুন্ধরা এলাকার জন্য।

বিপ্রপার্টির গবেষণাটিতে বলছে, মোট অনুরোধের ৭৪ শতাংশ ছিল তিন বেডরুম, ১৫ শতাংশ দুই বেডরুম এবং ০.৫ শতাংশ এক বেডরুমের। আবার ১০.৫ শতাংশ অনুরোধ ছিল তিনের বেশীসংখ্যক বেডরুমের। তবে ঢাকায় গ্রাহকরা যে ধরনের অ্যাপার্টমেন্ট চান তার মাত্র ৩৪ শতাংশ পূরণ হয়।

এ বিষয়ে বিপ্রপার্টির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মার্ক নসওয়ার্দি বলেন, ঢাকায় অ্যাপার্টমেন্টের চাহিদা, বিশেষ করে পুনরুজ্জীবিত রিয়েল এস্টেট মার্কেটের জন্য, সবসময় বাড়ছেই। অ্যাপার্টমেন্টের ক্ষেত্রে ক্রেতাদের চাহিদা আমাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আমরা রিয়েল এস্টেট খাতে ই-কমার্স প্রপার্টি পোর্টালের মাধ্যমে সর্বোত্তম সেবা দিতে চাই।

ইমারজিং মার্কেটস প্রপার্টি গ্রুপ (ইএমপিজি)-এর অঙ্গসংস্থা বিপ্রপার্টি ডটকম বাংলাদেশে যাত্রা করে ২০১৬ সালে। বর্তমানে ২৫,০০০ এরও বেশি প্রপার্টির তথ্য দেয়া আছে ওয়েবসাইটে। উঠতি মার্কেটগুলোর চাহিদা অনুযায়ী রিয়েল এস্টেট খাতে বিশ্বমানের সেবা দেয়ার ক্ষেত্রে ইএমজিপি বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে বলে জানায় কর্তৃপক্ষ।

এছাড়া এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য এবং উত্তর আফ্রিকার রিয়েল এস্টেট খাতেও ইএমজিপি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে জানায় তারা।

ইএমজিপি-এর সদরদপ্তর সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত। বাংলাদেশে বিপ্রপার্টির সদরদপ্তর ঢাকার গুলশান ১-এ।

Bellow Post-Green View