চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

তিনি জন্মেছিলেন বলেই

আজ ১৭ মার্চ। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মদিন। দিনটিকে শুধু তার জন্মদিন বলা ভুল হবে। এইদিন বাঙালি জাতির জীবনে বিরাট অর্থবহ দিন, অর্জনের আর প্রাপ্তিরও দিন। আরও সহজ করে বলতে গেলে এই মাহেন্দ্রক্ষণে বিশাল এক মহিরুহের জন্ম হয়েছিল বলেই আজ বিশ্বের বুকে বাংলাদেশ নামের একটি স্বাধীন দেশ আছে। যে দেশ সৃষ্টির পেছনে তার অনন্য আত্মত্যাগ আর অপরিসীম অবদানের কথা সর্বজন বিদিত।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সরকার গঠনের পর থেকে দিনটি জাতীয় শিশু দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। তবে এবার শিশু দিবসের পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ নিয়ে পরিকল্পনা ছিল অন্যরকম। যার শুরু হয়েছিল ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দিন ক্ষণগণনা দিয়ে। ১৯৭২ সালের ঠিক যেদিন করাচির কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরেছিলেন তিনি। তাই সেই দিনটিকেই বেছে নেওয়া হয় জন্ম ক্ষণগণনার দিন হিসেবে। যার শেষ হয় জাতির পিতার জন্মদিনে। আবার আজ ১৭ মার্চ থেকে শুরু হয়ে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ পর্যন্ত বছরজুড়ে আছে মুজিববর্ষের সুবিস্তৃত আয়োজন।

বিজ্ঞাপন

যদিও সেই আয়োজনে বাধা হয়ে দাঁড়ায় বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাস। বাংলাদেশও এতে আক্রান্ত হওয়ার পর মুজিববর্ষের অনুষ্ঠান পুনর্বিন্যাস করে ক্ষুদ্র পরিসরে উদযাপনের কথা জানায় জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি। জনসমাগম হবে অনুষ্ঠানগুলো বাতিল করে দেয়া হয়। এমনকি দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয় দুই সপ্তাহের জন্য। এমন প্রতিকূলতার মধ্যে জাতির পিতার প্রতি অতল শ্রদ্ধা আর অকৃত্রিম ভালোবাসায় পালিত হয়েছে দিনটি।

বিজ্ঞাপন

আমরা জানি, স্বাধীন বাংলাদেশের এ স্থপতি ছিলেন ক্ষণজন্মা পুরুষ। এমন মানুষের জন্ম পৃথিবীর ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকে। তার মতো অনন্য, অসাধারণ নেতা শুধু বাঙালি জাতির কাছেই নয়, পুরো বিশ্বেরও গর্ব। তবে কিছু ক্ষমতালোভী, কুচক্রী উচ্চাভিলাষের কারণে হারাতে হয় বাঙালির এ শ্রেষ্ঠ সন্তান।

ষড়যন্ত্রকারীদের হাতে তার অকাল মৃত্যু না হলে আমরা নিশ্চিত করেই বলতে পারি বাংলাদেশকে তিনি নিয়ে যেতে অনন্য এক উচ্চতায়। কেননা তিনি ছিলেন দূরদৃষ্টিসম্পন্ন এক মহান নেতা।

তার জন্মশতবর্ষে আমাদের বিনম্র শ্রদ্ধা।

শুভ জন্মদিন পিতা।