চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

তালেবানের ভয়ে সোশ্যাল মিডিয়ার প্রোফাইল মুছে ফেলছে আফগানরা

তালেবানের কাবুল দখলের পর সাধারণ নাগরিকদের মতো আতঙ্কে ভুগছেন দেশটির সোশ্যাল মিডিয়ার তারকারা।

ফেসবুক, টিকটক ও ইনস্টাগ্রামে জনপ্রিয় হওয়া ইনফ্লুয়েন্সাররা বন্ধ করে দিচ্ছেন একের পর এক অ্যাকাউন্ট।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

তাদেরই একজন সাদিকা মাদাদগার। তালেবান আসার আগে তার অ্যাকাউন্টটি ছিল অন্য ১০ জন সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারের অ্যাকাউন্টের মতো।

তালেবানের হাতে ক্ষমতা আসার কারণে সাদিকার মতো অন্যরাও অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছেন। অনেকেই পালিয়েছেন বা লোকচক্ষুর আড়ালে চলে গেছেন।

সাদিকা দেশটির জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শো ‘আফগান স্টার’-এ অংশ নিয়ে জনপ্রিয়তা পান সাদিকা। তার অসাধারণ কণ্ঠ ও গায়কির সঙ্গে ‘পাশের বাড়ির মেয়ের’ ইমেজ খুব দ্রুত তাকে ভক্তদের কাছে পৌঁছে দেয়।

ধর্মপ্রাণ মুসলিম হিসেবে মাথা সব সময় ঢেকে রাখা সাদিকার দিন কাটত ইউটিউব ও ইনস্টাগ্রামে নিজের ভিডিও আপলোড করে। ইউটিউবে তার সাবস্ক্রাইবার ছিল ২১ হাজারের বেশি। আর ১ লাখ ৮২ হাজার ফলোয়ার ছিল ইনস্টাগ্রামে।

নিজের গানের পাশপাশি দিনের নানা মুহূর্তের ভিডিও করে আপলোড করতেন সাদিকা। কোনোটিতে থাকত তার তরমুজ কাটার দৃশ্য, কোনোটিতে আবার বন্ধুদের সঙ্গে কান্দাহারে বেড়াতে গিয়ে পিৎজা খাওয়ার ঘটনা।

এমন সব হালকা ও বিনোদনমূলক পোস্টের ফাঁকেই সাদিকা নিজের ইনস্টাগ্রামে তালেবানের বিরুদ্ধে নিজের শক্ত অবস্থানের কথা জানান।

এক পোস্টে লেখেন, ‘আমি আমার দুঃখ-কষ্ট অনলাইনে দিই না, কিন্তু যা হচ্ছে এটাতে আমি চরম বিরক্ত। চোখের সামনে আমার মাটি, মাতৃভূমিকে ধীরে ধীরে ধ্বংস হতে দেখে আমার হৃদয় ভেঙে যাচ্ছে।’

পরদিন তালেবান কাবুল দখল করে নেয়; সাদিকা পোস্ট করা বন্ধ করে দেন।

বিজ্ঞাপন

লাখ লাখ তরুণ আফগান (যাদের অধিকাংশই নারী ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু) অনলাইনে নিজেদের করা পোস্টের জন্য জীবনের ভয়ে আছেন।

তালেবান যখন ১৯৯৬ সালে প্রথমবার ক্ষমতায় আসে, তখনকার ভয়াবহ অবস্থা খুব কম মানুষই ভুলতে পেরেছে।

জনসমক্ষে আসা থেকে নারীদের নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। মেয়েরা স্কুলে যেতে পারত না। বিনোদন নিষিদ্ধ ছিল। বিবাহ বহির্ভূত যৌন সম্পর্কের জন্য পাথর ছুড়ে মৃত্যুর মতো নির্মম শাস্তির প্রচলন হয়।

সাদিকার মতো আরেকজন জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া তারকা আয়েদা শাদাব। আফগান তরুণীদের কাছে আয়েদা একজন ফ্যাশন আইকন, যার ইনস্টাগ্রামে ২ লাখ ৯০ হাজার ও টিকটকে ৪ লাখ ফলোয়ার রয়েছে।

কাবুলের নিত্যনতুন ফ্যাশন ও পোশাক পরে তিনি পোস্ট দিতেন প্রতিদিন।

তবে এখন আয়েদা জানেন তার মতো ফ্যাশন সচেতন নারী উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কী করতে পারে তালেবান সরকার।

জার্মান বার্তা সংস্থা জেডডিএফকে তিনি বলেন, ‘তালেবান কাবুল দখল নিয়ে আমার মতো যারা রয়েছেন তারা আর নিরাপদ থাকবেন না। আমার মতো নারী যারা মাথা ঢাকে না, তাকে তারা গ্রহণ করবে না।’

তালেবানের ভয়ে তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। ভক্তদের জানান যে, তিনি তুরস্কে যাচ্ছেন।

দেশটির অন্য ইনফ্লুয়েন্সাররাও তার পথেই এগোচ্ছেন।

জনপ্রিয় পপ গায়িকা আরিয়ানা সাইদ বুধবার একটি সেলফি দেন, যাতে দেখা যাচ্ছে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর বিমানে দোহা যাচ্ছেন।

ভক্তদের উদ্দেশে করা পোস্টে আরিয়ানা সাইদ লেখেন, ‘দুই অবিশ্বাস্য রাতের পর আমি ভালো আছি ও বেঁচে আছি। আমার হৃদয়, আমার প্রার্থনা ও আমার ভাবনায় সব সময় আপনারা আছেন।’