কুমিল্লায় কলেজ ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনুর মরদেহ থেকে নেয়া বিভিন্ন আলামতের ডিএনএ পরীক্ষার পর তাকে ধর্ষণের আলামত মিলেছে।
আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত সংস্থা সিআইডির বিশেষ সুপার আবদুল কাহহার আকন্দ সোমবার রাতে চ্যানেল আই অনলাইনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
প্রথম ময়নাতদন্তে চিকিৎসকরা না পেলেও সংগৃহীত আলামতের ডিএনএ পরীক্ষা করে সিআইডি বলছে, খুন হওয়ার আগে ধর্ষিত হয়েছিলেন তনু। পরীক্ষায় অন্তত ৩ ব্যক্তির বীর্যের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।
গত ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাসে তনুর লাশ পাওয়ার পর থানা পুলিশ ও ডিবির হাত ঘুরে তদন্তের দায়িত্ব পাওয়া সিআইডি কয়েক দফায় ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় নিয়ে আসে।
গত ৪ এপ্রিল কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ থেকে দেয়া প্রথম ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে তনুকে হত্যা এবং ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়।
কিন্তু ডিএনএ রিপোর্টে তনুকে ধর্ষণের আলামত মিলেছে বলে সিআইডি বিষয়টি নিশ্চিত করায় সকল বিতর্কের অবসান ঘটতে যাচ্ছে।
এর আগে তনুর দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের জন্য গঠিত কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ ফরেনসিক বিভাগের ৩ সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ড তনুর কাপড়, দাঁত, নখের ডিএনএ ও ফিঙ্গার প্রিণ্টের প্রতিবেদন চেয়ে সিআইডি’র কাছে চিঠি পাঠায়।
ওই চিঠিতে সোহাগী জাহান তনুর দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের জন্য পুনরায় কবর থেকে লাশ উত্তোলনের পর তদন্ত সংস্থা সিআইডি কর্তৃক সংগৃহীত নমুনার ৪টি দাঁত, ৪টি ভেজাইন্যাল সোয়াব, ডিএনএ অ্যানালাইসিস ও পরীক্ষার প্রতিবেদন চাওয়া হয়।
সোমবার রাতে কুমিল্লা সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার ড. নাজমুল করিম খান এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের আরও জানান, ফরেনসিক বিভাগ এতো দিন ডিএনএ রিপোর্টের জন্য ২য় ময়নাতদন্ত রিপোর্ট দিতে দেরি করছিলো। এখন ডিএনএ রিপোর্ট হাতে আসায় দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত রিপোর্ট খুব তাড়াতাড়িই দেয়া যাবে।
আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের পর সারাদেশেই শুরু হয় তীব্র প্রতিবাদ-বিক্ষোভ। সম্প্রতি তনুর মা অভিযোগ করেন, সেনানিবাসের একটি অনুষ্ঠানে গান গাইকে অস্বীকার করার কারণেই তনুকে হত্যা করা হয়।








