ইউরোপের বুকে যে পর্তুগালকে এতদিন অভিবাসীদের জন্য অন্যতম নিরাপদ ও সহজ স্বর্গরাজ্য মনে করা হতো, সেখানেই এখন উল্টো স্রোত দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন বসবাসের পরও দেশটিতে থাকা ক্রমবর্ধমান সংখ্যক অভিবাসী পর্তুগাল ছেড়ে চলে যাচ্ছেন।
পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যম এক্সপ্রেসো’তে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
শুক্রবার (২৯ মে) প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পর্তুগাল ছাড়ার এই তালিকায় সবচেয়ে বড় অংশটি হচ্ছে ব্রাজিলের নাগরিক।
তবে শুধু ব্রাজিলীয়রাই নন, এশিয়াসহ অন্যান্য দেশের বহু অভিবাসীও এখন এই তালিকায় রয়েছেন। বছরের পর বছর পর্তুগালে থাকার পরও, তারা এখন হয় নিজ দেশে ফিরে যাচ্ছেন, না হয় প্রতিবেশী দেশ স্পেনে পাড়ি জমাচ্ছেন।অভিবাসন বিশেষজ্ঞ ও ভুক্তভোগীদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে
পর্তুগালে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাড়িভাড়া এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। সাধারণ অভিবাসীদের গড় আয়ের তুলনায় এই ব্যয় মেটানো অসম্ভব হয়ে পড়ছে।
রেসিডেন্স পারমিট বা বৈধ কাগজপত্রের জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এআইএমএ বা পর্তুগালের অভিবাসন দপ্তরের ধীরগতির কারণে অনেকেই হতাশ হয়ে পড়ছেন। প্রতিবেশী দেশ স্পেনে পর্তুগালের তুলনায় কাজের সুযোগ বেশি এবং আবাসন সংকট কিছুটা কম হওয়ায় অনেকেই স্পেনের দিকে ঝুঁকছেন।
তবে দেশটির অভিবাসী বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, অভিবাসীদের এই দেশত্যাগের প্রবণতা পর্তুগালের অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দিতে পারে। কারণ দেশটির কৃষি, পর্যটন, নির্মাণ ও সেবা খাত বহুলাংশে অভিবাসী শ্রমিকদের ওপর নির্ভরশীল। এই সংকট সমাধানে পর্তুগাল সরকার আগামী দিনগুলোতে কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।








