চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘সৃষ্টির সাথে যে বন্ধন তা যেন অটুট থাকে’

পুরনো বন্ধুর কাঁধে কাঁধ রেখে স্মৃতি রোমন্থন করা, জড়িয়ে ধরে হারিয়ে যাওয়া সেই পুরনো স্মৃতির রাজ্যে। বন্ধুত্ব এমনই। কখনো হারিয়ে যায় না এটা বরং সময়ের সাথে সাথে পায় নতুন মাত্রা।

সময়ের সাথে সাথে যৌবনের উত্তাপ ছড়ানো সেই দিনগুলোর অনেকটা পথই পেরিয়ে গেছে। কিন্তু থেমে থাকেনি জীবন।

বিজ্ঞাপন

তাই বন্ধুত্বকে খুঁজে নিতে, বন্ধুকে কাছে পেতে, বন্ধুর সাথে গল্প করতে চিরচেনা টিএসসির মাঠে চলে আসেন অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ, আসমা আব্বাসী, সৈয়দ আব্দুল হাদী, অধ্যাপক গোলাম মুরশিদের মতো বরেণ্য গুণীজনরা।

শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের সকালটি ছিল এমনই প্রাণপ্রাচুর্যে ভরপুর। যেখানে এরকম আরো বহুগুণী মানুষের আগমন ঘটে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ এলামনাই আয়োজিত পুনর্মিলনীতে।

বাংলা বিভাগের সাবেক ছাত্র, শিক্ষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরেটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের সভাপতিত্বে এই পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির চেয়ারে বসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোঃ আখতারুজ্জামান।

দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের বিখ্যাত ‘ধনধান্য পুষ্পভরা, আমাদের এই বসুন্ধরা’ গানের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই আয়োজনের প্রতিপাদ্য ছিল ‘শতবর্ষের পথে বাংলা বিভাগ’।

হারিয়ে যাওয়া সেই পুরনো স্মৃতির রাজ্যে
হারিয়ে যাওয়া সেই পুরনো স্মৃতির রাজ্যে

অনুষ্ঠানের শুরুতেই বাংলা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ডঃ বিশ্বদেব চৌধুরী বাংলা বিভাগের ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরে বলেন, “ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধসহ বাংলাদেশের সকল আন্দোলন সংগ্রামে বাংলা বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা যে আত্মত্যাগ করেছেন তা আমাদের জন্য গৌরবের। আমরা এই শতবর্ষের পথে এগিয়ে যাওয়া বাংলা বিভাগের হৃদ্ধ অংশীদার।”

এসময় ১৯৬০ সালে বিভাগ থেকে পাশ করা ৫ জন, ১৯৬১ সালে পাশ করা ৮ জন ও ১৯৬২ সালে পাশ করা ৫ জন প্রাক্তনীকে ফুল ও ক্রেস্ট দিয়ে সম্মাননা জানানো হয়।

বিজ্ঞাপন

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য আখতারুজ্জামান বলেন, “যারা প্রবীণতম, যারা বয়োজ্যেষ্ঠ তাদের সম্মাননা জানানো বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিভাগ সবার জন্যই গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ। এলামনাইদের বক্তব্য শোনা আমার জন্যেও জরুরি কেননা এর মাধ্যমে আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক না জানা তথ্য জানতে পারবো।”

সামনের সারিতে বসা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “এই বিশ্ববিদ্যালয়টি আপনাদের। আপনারা যেভাবে চান সেভাবেই এই বিশ্ববিদ্যালয় চলবে।”

“১৯২১ সালে প্রতিষ্ঠার সময় যে ১২ টি বিভাগ ছিল তার মধ্যে অন্যতম এই বাংলা বিভাগ। সুতরাং এই বিভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যিক মর্যাদার অংশ।”

প্রাণপ্রাচুর্যে পূর্ণ টিএসসি
প্রাণপ্রাচুর্যে পূর্ণ টিএসসি

পঞ্চাশ ও ষাটের দশককে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বর্ণযুগ অভিহিত করে বাংলা বিভাগ থেকে ১৯৬১ সালে পাশ করা শিক্ষার্থী, গুণীজন আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেন, “এই সময়ে অন্তত ৩০ জন ব্যক্তিত্ব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছেন যাদের দিকে পুরো দেশ তাকিয়ে থাকতো। তাদের মানুষ মিডিয়ার কল্যাণে চিনতো না, তাদেরকে তাদের জ্ঞান ও প্রজ্ঞার কারণে চিনতো। আর এই তালিকার অগ্রভাগে ছিলো বাংলা বিভাগ।”

এসময় তিনি তার সরাসরি শিক্ষক অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী, অধ্যাপক আব্দুল হাই, অধ্যাপক আহমদ শরীফ, অধ্যাপক নীলিমা ইব্রাহিম, অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম ও অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতো কালজয়ী শিক্ষকদের স্মরণ করেন।

অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে বাংলা বিভাগ এলামনাই এর সভাপতি ইমেরেটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান সকল প্রাক্তনদের একই প্রীতিবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমরা যারা বাংলায় পড়াশুনা করেছি, আমরা দাবি করি, আমরা অন্যান্যদের চেয়ে মাটির কাছাকাছি বেশি থাকি। সুতরাং মানুষের সাথে যে বন্ধন, সৃষ্টির সাথে যে বন্ধন তা যেনো অটুট থাকে।”

আয়োজনের দ্বিতীয় পর্বে থাকে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের স্মৃতিচারণমূলক অনুষ্ঠান যেখানে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম।

সন্ধ্যায় বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী বরেণ্য সংগীত শিল্পী সৈয়দ আব্দুল হাদীসহ অন্যান্যদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ‘পুনর্মিলনীর’ এই দিনটি শেষ হবে।

Bellow Post-Green View