এমপিওভুক্তির অপেক্ষায় থাকা ৫ হাজার ২৪২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য নীতিমালা পরিমার্জন চলছে। তালিকায় ঢোকার অপেক্ষায় থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর যোগ্যতা যাচাই করবে শিক্ষামন্ত্রণালয়। এলাকাভিত্তিক প্রয়োজনীয়তার ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমপিওভুক্ত করতে চায় মন্ত্রণালয়।
প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসের পর নতুন এমপিওভুক্তির প্রক্রিয়া সম্পর্কে বলতে গিয়ে এসব কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আফরাজুর রহমান।
এমপিও তালিকায় নাম লেখানোর অপেক্ষায় থাকা অনেক প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম-অস্বচ্ছতা রয়েছে জানিয়ে চ্যানেল আই অনলাইনকে তিনি বলেন: এমপিওভুক্ত হতে চাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোতে অনিয়ম নেই এটা বলা যায় না। এক ইউনিয়নে ১৯টি স্কুল আছে। এক সহকর্মীর কাছে শুনলাম রংপুরের এক থানায় ১৬টি কলেজ আছে! এতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কাদের প্রয়োজনে, শিক্ষক-শিক্ষার্থী আছে? ফলাফল কেমন?
অথচ এমপিওভুক্তির প্রচলিত নীতিমালা অনুযায়ী, গ্রামাঞ্চলে একটি এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ৩-৬ কিলোমিটারের মধ্যে আরেকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকলে সেটিকে এমপিওভুক্ত করা হবে না।
তবুও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে স্বার্থ হাসিলে পরিবারের নামে নামকরণ করা ছোট ছোট স্কুল-কলেজ বানানো চলছে জানিয়ে তিনি বলেন: এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনুমোদন নেয়ার আগে আমাদের বলা হয় স্বঅর্থায়নে পরিচালিত হবে। অথচ কিছুদিন যেতেই এসব প্রতিষ্ঠান আবার এমপিওভুক্ত করার দাবি তোলা শুরু করে।
শিক্ষামন্ত্রণালয়ের দিক থেকে এমন বাস্তবতা যেমন আছে তেমন বাস্তবতা আছে এমপিও’র দাবি তোলা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের দিক থেকেও।
৩১ ডিসেম্বর থেকে শুরু করে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত আমরণ অনশনের মতো কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষকরা। অবশেষে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত আশ্বাসের পর বাড়ির পথ ধরেন তারা।
তবে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে একযোগে এমপিওভুক্ত করা সম্ভব হবে না জানিয়ে তথ্য কর্মকর্তা বলেন: এমপিওভুক্ত করার প্রক্রিয়া আছে। সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে বেতন-ভাতা। বর্তমানে এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসার সংখ্যা ২৩ হাজারেরও বেশি। তাদের জন্য বছরে ৭ হাজার কোটি টাকার বেশি টাকা দিচ্ছে সরকার। নতুন করে ৫ হাজার ২৪২ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করতে সরকারকে প্রতিবছর আরও ২ হাজার ৪’শ কোটি টাকা দিতে হবে। এজন্য বাজেটে বরাদ্দ বৃদ্ধি করতে হবে। শিক্ষামন্ত্রণালয়কে অর্থমন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং পলিসির বিষয়ে আইনমন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বসতে হবে।
নিয়ম-নীতি মেনে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে শিক্ষামন্ত্রণালয় কাজ শুরু করেছে বলে জানান তিনি।
সরকারি অনুমোদনে কার্যক্রম চালানো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর এমপিওভুক্তির দাবিতে গত ২৬ ডিসেম্বর থেকে প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন দেশের বিভিন্ন এলাকার কয়েকশ শিক্ষক। গত ৩১ ডিসেম্বর থেকে তারা আমরণ অনশন শুরু করেন।
তাদের অনশন ভাঙাতে গত ২ জানুয়ারি শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ প্রেস ক্লাবের সামনে গেলেও এমপিওভুক্তির সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণের দাবিতে অনশন চালিয়ে যান শিক্ষকরা।
এরপর ৫ ডিসেম্বর শিক্ষকদের দাবি পূরণে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে আশ্বাস আসছে শেষ হয় ৬ দিনের আমরণ অনশন কর্মসূচি।








