চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ট্যাক্স ফাঁকিবাজ বাড়িঅলাদের ধরার অপেক্ষায় এনবিআর

মাসে পঁচিশ হাজার টাকার বেশি বাড়িভাড়া হলে ব্যাংকে জমা করে ট্যাক্স দেওয়ার নির্দেশ থাকলেও তাতে সাড়া খুবই কম। দশ মাস অপেক্ষা করে এখন এ বিষয়ে প্রচারণা শুরু করলেও জুলাই মাসে রিটার্ন জমার সময় কর ফাঁকিবাজ বাড়িঅলাদের ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

তবে কর ফাঁকি দিতে বাড়িঅলাদের অনেকেই ভাড়া ২৫ হাজার টাকার কম দেখিয়ে ব্যাংকে জমা দেখাচ্ছেন। বাকিটা তারা ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে নিচ্ছেন নগদ টাকায়। অনেকে আবার আদৌ ব্যাংকে বাড়িভাড়ার কোনো হিসাবই দেখাচ্ছেন না।

বিজ্ঞাপন

আক্ষেপের সুরে ভাড়াটিয়া তারেকুজ্জামান বলেন, ব্যাংকের মাধ্যমে ভাড়া দিলে আমরা যেমন হয়রানির হাত থেকে বাঁচি, তেমনই সরকারও কিছু রাজস্ব পায়। ব্যাংকে বাড়িভাড়া জমার আইন থাকার কথা তিনি জানেন না উল্লেখ করে বলেন, শুধু তিনি না; বেশিরভাগ মানুষেরই আইনের কথা জানা নেই।

ভাড়া দিয়েছেন এমন একাধিক বাড়ির মালিকদের পক্ষ থেকে কেউ কেউ আইনের অপব্যাখ্যা দিয়ে বলেছিলেন, একটি বাড়ির ভাড়া ২৫ হাজার টাকার কম হলে ব্যাংকে ভাড়া জমা করার দরকার নেই। কিন্তু এনবিআর পরিস্কার করে বলেছে, এক বা একাধিক বাড়ি বা ঘরের মোট ভাড়া ২৫ হাজার টাকার বেশি হলেই ব্যাংকে জমা করতে হবে।

এনবিআর’র হিসাব মতে, ঢাকায় এক লাখ ৬৬ হাজার বাড়ি আছে যেগুলোর মাসিক ভাড়া ২৫ হাজার টাকা বা তার চেয়ে বেশি। এসব বাড়ির মালিকের অনেকেই কর তালিকার বাইরে। বাড়িঅলাদের মধ্যে এমন ব্যক্তিও আছেন যাদের করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) নেই। ফলে হাজার কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।

বিজ্ঞাপন

এ কারণে ২০১৪ সালের ১ জুলাই থেকে ব্যাংক হিসাবে বাড়িভাড়া জমা করার বিধান কার্যকর হয়। কিন্তু বাস্তবে বিধানের তেমন একটা প্রয়োগ নেই।

এনবিআর সদস্য (কর নীতি) মোঃ পারভেজ ইকবাল চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, ফিল্ডে সাড়া কম। কারণ এরকম করদাতারা দ্বিধা-দ্বন্দ্বে আছেন যে আইনটি আদৌ বলবৎ আছে কি না। কিন্তু তিনি পরিস্কার করে বলেছেন, বিধানটি অবশ্যই কার্যকর আছে। ট্যাক্স রিটার্নের সময় আমরা দেখবো যে কারা সে অনুযায়ী সরকারি কোষাগারে কর জম‍া দিয়েছেন, আর কারা দেননি। এনবিআর’র প্রথম সচিব (আয়কর নীতি) জি এম আবুল কালাম কায়কোবাদ বলেন, ট্যাক্স রিটার্ন থেকে জানা যাবে কে কতো বাড়ি আদায় করেছেন। কেউ যদি দিতে ব্যর্থ হন তবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাজস্ব বোর্ড সূত্রগুলো জানায়, দীর্ঘদিন কর ফাঁকি দেওয়া বাড়ির মালিকের তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয় ২০১২ সালের ১৮ ডিসেম্বর। এক বছরের বেশি সময় জরিপ চালিয়ে এক লাখ ৬৬ হাজার ৫৪৬টি বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সন্ধান পাওয়া যায় যেগুলোর ভাড়া ২৫ হাজার টাকার বেশি। এরপর ২০১৪ সালে কার্যকর হয় বাংকে বাড়িভাড়া পরিশোধ আইন। 

কিন্তু তেমন প্রচার না থাকায় অনেক বাড়ির মালিকই এ বিষয়ে সচেতন হন নি। অনেকে আবার ইচ্ছে করেই ব্যাংকে ভাড়া হিসেবে ২৫ হাজার টাকার কম জমা দেখান। তবে বড় অংশই বাড়িভাড়ার সব লেনদেন করেন নগদে।

ভাড়াটিয়া ঐক্য পরিষদের সভাপতি বাহারাইনে সুলতান বাহার জানান, আইনটি করার সময় জনগণকে জানানো হয়নি। কেউ মানছে বলেও শুনিনি।