চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

জাল প্রশ্ন জাল স্বাস্থ্য

চিকিৎসা পেশা একটি মহান পেশা বলে জানি আমরা। এও জানি সবচেয়ে মেধাবিরা এই পেশায় আসেন কঠিন পড়ালেখার মধ্য দিয়ে। কিন্তু অত্যন্ত দুর্ভাগ্য যে, বাংলাদেশে এই পেশায় আসার পড়ালেখা এখন প্রশ্নবিদ্ধ।

গত পাঁচ বছর যাবৎ মেডিকেল পাশ করা ডাক্তার নাকি প্রশ্নপত্র কিনে মেডিক্যালে ভর্তি হয়েছে। এই প্রশ্নপত্র ফাঁসের একটি বড় চক্রকে সম্প্রতি পুলিশ গ্রেফতার করেছে। উঠে এসেছে ভয়াবহ সব তথ্য। যারা এই প্রশ্নপত্র কিনে মেডিক্যাল পাশ করে ডাক্তার হয়েছেন, তারা জাতিকে কী সেবা দিতে পারেন তাতো এখন দৃশ্যমান।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাত নিয়ে বলার কিছু নেই। প্রতিদিন কেলেংকারির খবর বের হচ্ছে মিডিয়ায়। শুধু যারা ডাক্তার হলেন এই প্রক্রিয়ায়, তাদের দোষ দিয়ে লাভ নেই। পুরো সিস্টেমটাই যেনো নষ্ট হয়ে পচে গেছে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

প্রশ্নপত্র জালিয়াতির ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের প্রধান জসিম উদ্দিন ভুঁইয়া ওরফে মুন্নু। অন্যরা হলেন পারভেজ খান, জাকির হোসেন ওরফে দিপু, মোহাইমিনুল ওরফে বাঁধন ও এসএম সানোয়ার হোসেন। এর মধ্যে মোহাইমিনুল ও সানোয়ার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িত। ১৯ ও ২০ জুলাই রাজধানীর মিরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। জসিমের কাছ থেকে ২ কোটি ২৭ লাখ টাকার সঞ্চয় পত্র, ২ কোটি ৩০ লাখ টাকার চেক এবং পারভেজের কাছ থেকে ৮৪ লাখ টাকার চেক উদ্ধার করেছে সিআইডি। ফাঁস করা প্রশ্নপত্র বিক্রি করে তারা এই টাকা অর্জন করেছেন।

জিজ্ঞাসাবাদে সানোয়ার ২০১৩, ২০১৫ ও ২০১৭ সালের মেডিকেল ও ডেন্টাল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর মিরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে জসিম উদ্দিন, পারভেজ খান, জাকির হোসেন ও মোহাইমিনুলকে গ্রেপ্তার করে। এরাসহ ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে ওই দিনই মিরপুর থানায় পাবলিক পরীক্ষা আইনে মামলা করে সিআইডি। মামলায় ১৫০ থেকে ২০০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়। তাঁদের মধ্যে সানোয়ার ও মোহাইমিনুল গত বুধবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বাকি তিনজনের সাত দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। গ্রেপ্তারকৃতরা সিআইডির জিজ্ঞাসাবাদে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন এবং এর সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে তথ্য দেন। প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত আছেন কি না, জানতে চাইলে সিআইডি কর্মকর্তা কামরুল আহসান বলেন: রিমান্ড মঞ্জুর হওয়া তিন আসামিকে শুক্রবার কারাগার থেকে আনা হবে। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদে সব বেরিয়ে আসবে। আমরা চাই রাঘব বোয়ালদের নাম আসুক।

এখন শুধু প্রেস সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ধরে কোনো লাভ হবে না। এদের সঙ্গে অবশ্যই স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বা মন্ত্রণালয়ের রাঘব বোয়াল জড়িত বলে ধারণা। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আসল হোতাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। এক সাহেদ কিংবা এক সাব্রিনারকে দিয়ে স্বাস্থ্য খাতের বিশাল অপকর্ম বিচার করা যাবে না। তাদের প্রশয়দাতাদের কেনো ধরা হচ্ছে না? কেনো শুধু ডাক্তার প্রেসের মেশিনম্যান দিয়ে মাছ ঢাকতে চাইছে সংশিষ্ট কর্তৃপক্ষ?

আমরা চাই স্বাস্থ্যখাতকে পুনরায় ঢেলে সাজিয়ে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী একটি চিকিৎসা ব্যবস্থা। এভাবে জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করলে জনগণ একদিন সব আস্থা হারিয়ে ফেলবে।