চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

জলিকে ডেকে ২৫ লাখ টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী

ফুসফুসে ক্যানসারের চিকিৎসার জন্য ২৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র জলির হাতে তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

টাকার অভাবে ফুসফুসে ক্যানসারের চিকিৎসা করাতে পারছেন না ‘বাংলা চলচ্চিত্রের মা’ খ্যাত অভিনেত্রী রেহানা জলি। সম্প্রতি এমন একটি খবর শিরোনাম হয় সংবাদ মাধ্যমে। চিকিৎসার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে সহায়তাও প্রার্থনা করেন জলি। অতঃপর ঢাকাই চলচ্চিত্রের এই অভিনেত্রীর চিকিৎসা করতে প্রধানমন্ত্রী তাকে ডেকে ২৫ লাখ টাকা অনুদান দিলেন।

চ্যানেল আই অনলাইনকে সকালে এমন খবরই দিলেন রেহানা জলি।

প্রধানমন্ত্রীর মতো মানুষের তুলনা হয় না। তিনি অসহায়দের সহায়। এটা জানতাম বলেই আমার চিকিৎসার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে সহায়তা চেয়েছিলাম। আজ সকাল সাড়ে আটটায় তিনি আমাকে গণভবনে ডেকে পাঠান। সেখানেই আমার হাতে ২৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র তুলে দেন। কথাগুলো বলছিলেন রেহানা জলি।

এমন সহায়তায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে সারা জীবন চির ঋণী থাকবেন বলেও জানান রেহানা জলি। তিনি বলেন, আমার জীবনে সবচেয়ে বড় উপকারটা তিনিই করলেন। কারণ অর্থাভাবে আমার চিকিৎসাইতো বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো। এখন আবার প্রধানমন্ত্রীর কল্যাণে চিকিৎসা শুরু করতে পারবো। সুস্থ হয়ে কাজে ফিরতে পারবো।

প্রধানমন্ত্রীর সাথে আর কোনো কথা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, সকালে আমাদের ডেকেছিলেন। সেখানে গিয়ে দেখি প্রচুর মানুষের ভিড়। লোকে লোকারণ্য। এতো ব্যস্ততার মধ্যেও তিনি আমাকে সময় দিলেন। সঞ্চয় পত্র তুলে দিলেন, আমাকে দেখে তিনি শুধু একটি কথায় বলেছেন সেটা হলো, ‘এইরকম হয়ে গেছো তুমি?’। আসলে অসুস্থতার কারণে এমন অবস্থা হয়েছে আমার, যে অনেকদিন পর কেউ দেখলে আমাকে চিনতেই পারেন না।

Advertisement

অসুস্থতার খবর প্রধানমন্ত্রীর কানে পৌঁছে দিতে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে শিল্পী ঐক্যজোটের দুই নেতা ডিএ তায়েব ও জিএম সৈকত। ২৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র পেয়ে এই দুইজনের কাছে কৃতজ্ঞতা জানান জলি।

এরআগে নিজের সমস্যার কথা তুলে ধরে চ্যানেল আই অনলাইনকে জলি জানিয়ে ছিলেন, আমি এক বছরের বেশি সময় ধরে অসুস্থ হয়ে পড়ে আছি। প্রথমে আমার ফুসফুসে ইনফেকশান ধরা পড়ে, এরপর ব্যাকবোনের সাত নাম্বার যে হাড্ডিটা আছে ডাক্তাররা জানিয়েছে সেটা গুড়ো হয়ে গেছে। যার ফলে এখন চলাফেরা করাও সমস্যা হয়ে গেছে আমার জন্য। এমনকি হাত পা নাড়াতেও সমস্যা হয়।

ফুসফুসের ক্যানসারটি প্রাথমিক অবস্থায় আছে জানিয়ে তিনি বলেন, ফুসফুসের ক্যানসারটি প্রথম স্টেজে আছে বলে ডাক্তাররা জানিয়েছে। প্রপার ট্রিটমেন্ট করলে এক বছরের মধ্যে ইনশাল্লাহ্ সুস্থ স্বাভাবিক হওয়া সম্ভব। তবে খুব শিগগির চিকিৎসা নিতে বলেছেন ডাক্তার। নাহলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়ারও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

বিগত এক বছর ধরে অসুস্থ হয়ে বোনের বাসায় পড়ে আছেন রেহানা জলি। জানালেন চিকিৎসা ব্যয়ও এতোদিন ধরে তার বোনরাই বহন করে আসছিলেন। কিন্তু এখন তাদের পক্ষেও আর খরচ করা সম্ভব হচ্ছে না। কারণ ক্যানসারের চিকিৎসা বেশ ব্যয়বহুল একটি ব্যাপার। তাদের সেই সামর্থও নেই।

প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা পাওয়ায় এবার নতুন করে চিকিৎসা করবেন বলেও জানান রেহানা জলি।