চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

জগৎ জ্যোতির পর অনন্ত বিজয়

বিজ্ঞাপন

দেড় মাসের মাথায় আবারও এক মুক্তচিন্তার ব্লগার খুন হয়েছেন। সিলেটে অনন্ত বিজয় দাশ নামে এক ব্লগারকে হত্যা করেছে মুখোশধারী দুর্বৃত্তরা। সকালে বাসা থেকে অফিস যাওয়ার পথে বাসার কাছেই তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। তিনি গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক ছিলেন। এর আগে সিলেটেই জামায়াত-শিবিরের হামলায় নিহত হয়েছিলেন গণজাগরণ মঞ্চের আরেক সংগঠক জগৎজ্যোতি।

অনন্ত বিজয় পূবালী ব্যাংক সিলেট শাখায় চাকরি করতেন। তার বয়স  ৩৩। চাকরির পাশাপাশি অনন্ত বিজয় ‘যুক্তি’ নামের একটি ছোট কাগজের সম্পাদক ছিলেন।এছাড়াও ‘মুক্তমনা’, ‘পড়ুয়া’ ও ‘বাঁধভাঙ্গার আওয়াজ’সহ বিভিন্ন ব্লগে লেখালেখি করতেন নিয়মিত।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকালে রিক্সায় কর্মস্থল পূবালী ব্যাংকের ছাতক শাখায় যাওয়ার সময় সিলেট নগরীর সুবিদবাজার এলাকায় হামলার শিকার হন অনন্ত। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেয়া হলে তার মৃত্যু হয়।

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজকর্মে মাস্টার্স করার পর সুনামগঞ্জের জাউয়াবাজারে পূবালী ব্যাংকে ডেভেলপমেন্ট অফিসার হিসাবে যোগ দেন অনন্ত বিজয় দাশ।

সিলেট গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক অনন্ত নিহত হওয়ার পর মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, ব্লগার হত্যার বিচার না হওয়ার কারণে একের পর এক এরকম হত্যাকাণ্ড ঘটেই চলেছে।

শাহবাগে গণজাগরণের অল্পদিনের মধ্যেই সিলেটে জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত হন জগৎজোত্যি নামে মঞ্চের এক সংগঠক। তবে অনন্ত হত্যার দায় স্বীকার করেছে আল-কায়েদার ভারতীয় উপমহাদেশ শাখা। এর আগে ব্লগার অভিজিত রায়, রাজীব হায়দার এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এ কে এম শফিউল ইসলাম লিলন হত্যার দায়ও স্বীকার করেছে তারা।

নিহত অনন্তর ভাই রত্নেশ্বর দাশ বলেন, তারা কখনও কল্পনা করতে পারেননি এভাবে তাদের ভাইকে হত্যা করা হবে। সে (অনন্ত)  চাপা স্বভাবের ছিলো। কোনো উগ্র কথাও বলতো না। কেনো এবং কারা তাকে হত্যা করেছে তা তাদের ধারণার বাইরে বলে জানিয়েছেন রত্নেশ্বর রায়।

পুলিশ বলছে, ঘটনা তদন্ত না করে এর সঙ্গে কারা জড়িত তা বলা যাচ্ছে না। তবে চারজন মাঝারি গড়নের মুখোশধারী যুবক এ হামলা চালায়। হামলার সময় তাদের কাঁধে ব্যাগ ছিল। আনন্তকে পেছন থেকে চাপাতি দিয়ে আঘাত করা হলে তার মাথা থেকে মগজ বের হয়ে যায় বলে জানায় পুলিশ।

নিহত হওয়ার আগের রাতেই অভিজিত ও ওয়াশিকুর হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নিজের ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন অনন্ত বিজয়। অভিজিত রায় হত্যার আড়াই মাসের মাথায় একইভাবে হামলায় মৃত্যু হলো তার যেভাবে ওই হত্যাকাণ্ডের মাসখানেক পর খুন হয়েছেন আরেক ব্লগার ওয়াশিকুর রহমান বাবু।

বাবুর মতো অনন্ত বিজয়ও অভিজিৎ রায় প্রতিষ্ঠিত ‘মুক্তমনা’ ব্লগের নিয়মিত লেখক ছিলেন। সম্পাদক, অনুবাদক এবং লেখক হিসেবে তার একাধিক বই প্রকাশিত হয়েছে। মানবতা এবং যুক্তিবাদ প্রতিষ্ঠায় অনন্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০০৬ সালে ‘মুক্তমনা’ র‌্যাশনালিস্ট অ্যাওয়ার্ড পেয়েছিলেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

Bellow Post-Green View