চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ছোট কিন্তু বড় উদাহরণ

করোনা মোকাবিলায় রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলার মাছপাড়া ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামে মানবিক সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন কয়েকজন তরুণ শিক্ষার্থী।

গ্রামটির দরিদ্র-অসহায় মানুষের পাশে যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে দাঁড়াবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা।

মূলত: করোনা আতংকের এই দুর্দিনে অক্ষম মানুষকে চাল, ডাল, তেল, লবণ এবং আলু সরবরাহ করাই তাদের কাজ। এছাড়া, জ্বর, কাশি, ঠান্ডা এবং পেটের অসুখের ওষুধ সংগ্রহ করা হয়েছে। সেই সাথে মোড়ে মোড়ে হাত-পা ধোয়ার সাবান ও পানির ব্যবস্থা করা এবং মাস্ক বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছে তারা।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের এক পোস্টের মাধ্যমে এ তথ্য জানা যায়।

উদ্যোক্তাদের মধ্যে রয়েছে রাব্বী, নিশান, অভি, রানা, মৃত্তিকা, ইমরোজসহ আরো অনেকে রয়েছেন। ভলেন্টিয়ার টিমে একজন ডাক্তার প্রয়োজন। অনলাইনে সাপোর্ট দিলেই চলবে।

এ উদ্যোগের খবরে গ্রামটির দরিদ্র মানুষের মধ্যে স্বস্তির পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। মুরুব্বীরা উৎসাহ দিচ্ছেন। স্বচ্ছল ব্যক্তিরা সাহায্যের হাত বাড়িয়েছেন।

৬৮ হাজার গ্রামের জন্য এটি একটি ভাল দৃষ্টান্ত। মানুষ মানুষের পাশে দাঁড়ালে আল্লাহ খুশি হন। বিপদ মোকাবেলা সহজ হয়। গ্রামে গ্রামে এভাবে তরুণদের এগিয়ে আসার অনুরোধ জানিয়েছেন তরুণ ওই উদ্যোক্তারা। তাদের বিশ্বাস “তারুণ্যের জয়, হবে নিশ্চয়।”

এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯৫-৯৬ সেশনের ফেসবুক গ্রুপ ‘ডিইউএফএ’ করোনার প্রভাবে দেশ জুরে অচলাবস্থায় নিম্নবিত্তদের সহায়তার জন্য ফান্ড কালেকশন করছে। ব্যাচমেটদের কেউ দুর্দিনে পড়লে তাকেও সহায়তার আশ্বাস দেয়া হয়েছে ওই গ্রুপ থেকে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া পঞ্চগড় জেলার ছাত্রছাত্রীদের সংগঠন ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন অব পঞ্চগড়’ এর সদস্যরা বিভিন্নভাবে অর্থ সংগ্রহ করে পঞ্চগড়ের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বেসরকারি হাসপাতাল ও সাধারণ মানুষের মাঝে স্যানিটাইজার বিতরণ করেছেন। জেলার নিম্ন আয়ের ১৫০ টি পরিবারের মাঝে বিতরণ করেছে একটি করে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের প্যাকেটও। তাতে ছিল ২ কেজি চাল,হাফ কেজি মসুর ডাল,১ কেজি আলু, ১ কেজি আটা ও ১টি সাবান।

‘খেটে খাওয়া মানুষের পাশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ নামের এক ফেসবুক পেজে দেখা যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সদস্য তানভীর হাসান সৈকত প্রতিদিন ১০০ পরিবারের খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করে যাচ্ছেন। ওই পেজের এক পোস্টে তিনি লিখেছেন,

‘চতুর্থ দিনের মত শ্রমজীবী খেটে খাওয়া ১০০ পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছি। দেশের এই দুর্দিনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত খেটে খাওয়া মানুষ গুলো। এই মানুষ গুলোর পাশে দাঁড়ানো খুব প্রয়োজন খুব! বিশ্বাস করুন যখন আমাদের প্যাকেট গুলো শেষ হয়ে যায় আর পাশে দাঁড়ানো অসহায় মানুষগুলোর নিরুপায় চাহনি লজ্জায় ফেলে দেয়,এই লজ্জা আমাদের। আমাদের সামর্থ্য কম আর যাদের আছে তারা তো রাস্তার পাশের পৃথিবীটাকে দেখে না, সব কাঁচের দেয়ালে আটকা পৃথিবী তাদের। আমি প্রতিদিন স্ট্যাটাস দিয়ে শো-অফ করছি,প্লিজ..প্লিজ আপনিও একটু করুন। আমরা শো-অফ না করলে এই মানুষগুলো খেতে পারবে না। এরা খুব কষ্টে আছে। এখন পাশে দাড়ানো খুব দরকার। অনেকের ইচ্ছে থাকার পরেও হয়তো বের হতে পারছেন না।আপনারা চাইলে আমাদের সহযোগিতা করতে পারেন। ‘