চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ভিসির কাছে ছাত্রী অপহরণও যখন স্বামী-স্ত্রীর ব্যাপার

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী দুই-তিন দিন আগে অপহরণের শিকার হয়। পুলিশের সহযোগিতায় তাকে পরে খুঁজে পাওয়া গেছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো সুরক্ষিত জায়গায় এমন একটি ঘটনা ঘটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষকসহ সবার মাঝে এক ধরণের চাঞ্চল্য কাজ করছে। কারো কারো মাঝে বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীদের মনে নিশ্চয় ভয় ও আতঙ্কও বিরাজ করছে। সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশে নারীদের মধ্যে ইভটিজিং, যৌন নির্যাতন, ধর্ষণ ও এসিড নিক্ষেপের মতো অপরাধের ভূক্তভোগী হওয়ার ‘ভয়ের সংস্কৃতি’ সাধারণভাবেই বিদ্যমান আছে। তার উপর এসব ঘটনা সচেতন মানুষের কাছে নতুন ভাবনার সৃষ্টি করেছে।

ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়াসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সংবাদগুলো প্রতিনিয়ত মানুষের কাছে আসছে। ফলে সাধারণ মানুষ, সিভিল সমাজ, বিরোধী রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও এই বিষয়ে সচেতন হওয়ার চেষ্টা করছে। যেহেতু সাধারণ মানুষসহ বিভিন্ন স্টেকহোল্ডার গোষ্ঠীর কাছে তা উদ্বেগের বিষয় তাই সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও বিশেষভাবে অপরাধবিজ্ঞানের শিক্ষক হিসেবে এই বিষয়ে কিছু মতামত প্রকাশ করা জরুরি বলে মনে করছি। যদিও বাংলাদেশে খুন, গুম, হত্যা, জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়া, অপহরণের মতো বিষয়গুলো সাধারণ বিষয় হিসেবে দাঁড়িয়েছে এবং তা নিয়ে লেখালেখি জরুরী ও প্রয়োজনীয়, তবু আমি বর্তমান লেখায় নারী অপহরণ বিষয়টিকেই আমি ফোকাস করার চেষ্টা করবো।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ পুলিশের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী গত কয়েক বছরে অপহরণের সংখ্যা বাড়ছে। তথ্য থেকে দেখা যাচ্ছে যে, ২০১০ সালে যেখানে অপহরণের মোট সংখ্যা ছিল ৭৯২ জন সেখানে ২০১৫ সালে মোট অপহরণের সংখ্যা বেড়ে গিয়ে দাঁড়ায় ৮০৬ এ। ২০১৭ সালের পুলিশ পরিসংখ্যান অনুযায়ী জানুয়ারী, ফেব্রুয়ারী, মার্চ, এপ্রিল মাসে যথাক্রমে ৪৪, ৪৪, ৪০ এবং ৩৬টি অপহরণের ঘটনা ঘটে। তবে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে এই সংখ্যা কমে ৩৪জনে দাঁড়ায়। অপরাধবিজ্ঞানীদের বিবেচনায়, এই পরিসংখ্যানে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো তা নির্ভরযোগ্য তথ্য কি না? তা যাচাই করার ব্যাপার।

সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশে অপরাধ বৈজ্ঞানিক কোন ইস্যুতে গবেষণা করতে গেলে সবচেয়ে বড় যে সমস্যায় পড়তে হয় তা হলো অপরাধ পরিসংখ্যান নির্ভরযোগ্যতার প্রশ্ন। পুলিশ পরিসংখ্যানের তথ্যের সাথে ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় পরিবেশিত তথ্যে সাথে অমিল আছে। আরেকটি সমস্যা হলো পত্রিকায় অনেক ঘটনার খবরাখবর থাকলেও বাস্তবে এসবের অনেক কিছুতেই মামলায় না আসার কারণে সঠিক পরিসংখ্যান খুঁজে পাওয়া দায়। অন্যদিকে, সামগ্রিকভাবে কিডন্যাপিং কিংবা অপহরণের সংখ্যা জানা থাকলেও বিশেষভাবে নারী কিংবা পুরুষের আলাদা কোন পরিসংখ্যান না থাকায় নারী পুরুষের অপহরণের সঠিক তথ্য পাওয়া দূরুহ।

একইভাবে প্রত্যয়গত দৃষ্টিকোণ থেকে অপহরণের সাথে আরও অনেকগুলো বিষয় মিল (গুম, নিখোঁজ, জোরপূর্বক গুম) থাকার কারণে সঠিক পরিসংখ্যান না পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। কারণ এখানে একেকটি অপরাধের উদ্দেশ্যে, মোটিভ কিংবা পরিকল্পনা ভিন্ন ভিন্ন। অপহরণের উদ্দেশ্যে যেখানে মুক্তিপণ আদায় কিংবা তাৎক্ষনিক কোন লাভ (বিয়ে, মত আদায়, রাজি করানো) সেখানে গুম, নিখোঁজের মোটিভ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক। এখানে ব্যক্তিগত লাভের চেয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের প্রভাবই বেশি বলে আমার মনে হয়।

সাধারণভাবে অপহরণের একটা রাজনৈতিক-অর্থনীতিও আমাদের সমাজে বিদ্যমান আছে। যেমন, মোট যে পরিমান অপহরণ হয় তার মধ্যে বড় একটা অপহরণ সংঘটিত হয় মুক্তিপণ আদায়ের জন্য। অপরাধবিজ্ঞানীরা বিভিন্ন গবেষণা থেকে দেখছেন যে অনেক অপরাধীই এই ধরণের বিষয়ের সাথে যুক্ত হচ্ছে অল্পসময়ে বড়লোক হওয়ার জন্য। এখানে তারা এই কার্যক্রমটিকে দেখছে বিজনেস বা অর্থ আদায়ের বাহন হিসেবে। অন্যদিকে, অপহরণের পাশাপাশি ঘুম, জোরপূর্বক তুলে নেয়ার সাথে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যাপকভাবে জড়িত।

তবে নারী অপহরণের কারণ বিশ্লেষণ করতে গিয়ে সমাজবিজ্ঞানী ও অপরাধবিজ্ঞানীগণ চিহ্নিত করতে চান প্রেম ও বিবাহের ফলাফল হিসেবে। একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, অপহরণের সাথে জড়িতদের মধ্যে মোটামুটিভাবে ৩৮ শতাংশ নারীকেই বিয়ের জন্য জোরপূর্বক তুলে নেয়া হয়। একই গবেষণায় যদিও দেখা যায় যে, অপহরণের সাথে ১৮ শতাংশ নারীর সম্মতি আছে, তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অপহরণের ঘটনা আসলেই অপহরণ। নারী অপহরণের সাথে ক্ষমতা সম্পর্কের বিষয়টি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বিশেষ করে নারীবাদী তাত্ত্বিকগণ এই বিষয়ে মত প্রকাশ করেন। তারা দেখান যে, ছোটবেলার থেকে পুরুষের যে সামাজিকীকরণ হয় তার মাধ্যমেই জোর-জবরদস্তির মাধ্যমে নারীর উপর কর্তৃত্বকে ইতিবাচকভাবে দেখা হয়। পুরুষতান্ত্রিক সমাজ নারীকে তুলে আনার বিষয়টিকে বাহবার চোখে দেখেন। আমার মনে হয়, বাংলাদেশে অপহরণের প্রেক্ষাপট বিবেচনা করলে তা অনেকক্ষেত্রেই সঠিক বলে বিবেচিত হবে।

গোল্ডস্টেইন নামক একজন অপরাধবিজ্ঞানী বলেন: অপহরণের সংস্কৃতির সাথে পুরুষের মর্যাদা প্রশ্নটি ব্যাপকভাবে যুক্ত। যে পুরুষ অপহরণ করতে গিয়ে ব্যর্থ হয় সে নীচু প্রকৃতির পুরুষ বলে চিহ্নিত হয়। একইভাবে উত্তর আধুনিক ধারার তাত্ত্বিকগণও অপহরণকে ক্ষমতা সম্পর্কের জাল হিসেবে বিবেচনা করেন। যা হোক তাত্ত্বিক বিষয় নিয়ে খুব বেশি আলোচনার সুযোগ নেই।

অপরাধ সংঘটনের অব্যবহিত পরেই জনমনে একটি প্রশ্ন আসে: ঘটনার জন্য কে দায়ী? সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও এই বিষয়টিকে সামনে নিয়ে আসার একটি প্রবণতা আছে। প্রাচীণকাল থেকেই সাধারণভাবে ভিকটিমকে দোষারোপ করার একটা ব্যাপার থেকেই যায়। যেমন ধরুন একজন মানুষ চুরির শিকার হলো। সবাই এসে প্রথম প্রশ্নটিই করবে যে সেখানে ঘরের তালা লাগানো ছিল কিনা অথবা ঘরের দরজা জানালা লাগানো ছিল কি না? যৌন নির্যাতন কিংবা ধর্ষণের ক্ষেত্রেও নারীকে দোষ দেওয়ার প্রবণতা প্রথমেই কাজ করে। অপরাধবৈজ্ঞানিক আলোচনায় যাকে বলা হয় ‘ভিকটিম ব্লেমিং’।

একজন নারী যখন ধর্ষণ কিংবা গণধর্ষণের শিকার হন, তখন খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে বিচার করা হয় তার গায়ে কোন ধরনের পোশাক ছিল? কিংবা ওই অভিযুক্ত রেপিষ্টের সাথে তার কোন পূর্ব সম্পর্ক ছিলো কি না? সমাজজুড়ে এমন দৃষ্টিভঙ্গি, প্রথা ও মূল্যবোধ আছে যে সাধারণভাবে ভিকটিমকে ‘স্টিগমাটাইজ’  (stigmatize) কিংবা লেভেল দিয়ে খারাপ হিসেবে চিহ্নিত করার প্রবণতা আছেই। নেতিবাচকভাবে চিহ্নিত করে যদিও সনাতন ও প্রথাগত মূল্যবোধ দিয়ে বিচার করার দৃষ্টিভঙ্গির মতো অপরাধবিজ্ঞান কিংবা ভিকটিমোলজিতেও কিছু তাত্ত্বিক আছেন যারা মনে করেন, অপরাধ সংঘটনের সাথে ভিকটিমেরও ইতিবাচক ভূমিকা আছে। বেঞ্জামিন ম্যান্ডেলসন, স্টিফেন সেফার, ওলফগ্যাং নামক তাত্ত্বিকরা এই দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করতেন। তবে, এখানে একাডেমিক তাত্ত্বিক বিষয় আলোচনা করার সুযোগ কম।

এখানে কোন অপরাধের ক্ষেত্রে ভিকটিমের ভূমিকা (role of victims) নিয়েই আলোচনা করা হয়। ধরে নেয়া হয়, ভিকটিমরা ঘটনাটি সংঘটিত হওয়ার ক্ষেত্রে কোন না কোন প্ররোচণা কিংবা নেতিবাচক ভূমিকা ছিল। এটা ঠিক যে কিছু কিছু সিরিয়াস অপরাধের ক্ষেত্রে হয়তো ভিকটিমের ভূমিকা থাকতেও পারে। কিন্তু সব ধরণের অপরাধের ক্ষেত্রে ভিকটিমের ভূমিকা নাও থাকতে পারে। যেমন ধরুন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী অপহরণের পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় ভিসি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কিন্তু ভিকটিমকেই দোষ দেয়ার চেষ্টা করেছেন। বিভিন্ন পত্রিকায় এসেছে, তিনি বলছেন: এটা তাদের স্বামী স্ত্রীর একান্তই ব্যক্তিগত ব্যাপার! ছাত্র-ছাত্রীদের এসব বিষয়ে মাথা ঘামানোর দরকার নেই।’ একবার দেখুন, অপহরণের মতো একটি জঘন্য ঘটনা ঘটার পরও একটা বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি ও প্রশাসন বলছে যে, তা স্বামী স্ত্রীর ব্যাপার।

একটি সিরিয়াস ফৌজদারী অপরাধ ইস্যুকেও আমরা কিভাবে দূর্বল করে দিতে পারি! মনে হচ্ছে স্বামী-স্ত্রী হওয়া মানেই সবকিছু করার বৈধতা দেয়া হল। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী যদি দিনদুপুরে পরীক্ষা দিতে যাওয়ার সময় অপহৃত হন, তখনও যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের এমন দৃষ্টিভঙ্গি থাকে তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সহযোগিতা করবে না এটাইতো স্বাভাবিক। সাধারণ মানুষ, সচেতন নাগরিক এবং সিভিল সমাজের কাছে এটাই অত্যন্ত উদ্বেগের ব্যাপার। কারণ বাংলাদেশে যে কোন অপরাধ সংঘটিত হলে ঝামেলা এড়ানোর জন্য কর্তৃপক্ষ প্রথমেই ঘটনার অস্তিত্ব অস্বীকার করতে চায়।

এখানে একটা ‘অস্বীকারের সংস্কৃতি’ (culture of denial) বিদ্যমান আছে। তবে আমরা সমাজবিজ্ঞান ও অপরাধবিজ্ঞানের শিক্ষকগণ মনে করি যে, এই অস্বীকারের সংস্কৃতি পরবর্তীতে আরো নতুন অপরাধের সৃষ্টি করে। ইতোপূর্বেও বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে যৌন নির্যাতন, নারী নির্যাতন, অপহরণ, ধর্ষণের ঘটনা ঘটলেও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রশাসন প্রথমেই এগুলো অস্বীকার করে। অনেক সময় প্রশাসন দায়িত্ব এড়ানোর জন্য অপরাধের প্রকৃতিকেও বিচার করতে চায় না। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায়ও এমন বিষয়ের বাস্তবতা আছে। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি ছাত্রসংগঠনের নেতা ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত থাকলেও ঐ সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আলামত নষ্ট করার পাশাপাশি ধর্ষককে পর্যন্ত শেল্টার দিয়েছিল। প্রশাসনের নেতিবাচক ও শক্ত ভূমিকার কারণে ওই সময় আন্দোলনকারীগণ মূল অভিযুক্তকে বহিষ্কার করতে পারেনি। ধর্ষণের শিকার নারীও ওই ঘটনার বিচার পায়নি। একইভাবে, বিভিন্ন সময় ক্ষমতাশীল ছাত্র সংগঠনগুলোর কেউ এই ধরনের ঘটনার সাথে যুক্ত হলেও প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিরা অনেক সময় তাদের রাজনৈতিক স্বার্থে এসব বিষয়কে শেল্টার দিয়ে থাকেন।

ইতিপূর্বে থার্টি ফার্স্ট নাইটে ছাত্রী নির্যাতন ও পহেলা বৈশাখে যৌন নির্যাতনে ব্যাপারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ধর্ষক মানিকের ঘটনার সময় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনকেও বিচারের ভূমিকা নেওয়ার ক্ষেত্রে দোদুল্যমানতা লক্ষ্য করেছি। মোট কথা বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সাধারণভাবে নির্যাতন, মারামারি, দলীয় কোন্দল, সন্ত্রাসী কার্যক্রমের সাথে ও বিশেষভাবে অপহরণের সংস্কৃতির সাথে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার (patronisation of politics) একটি সম্পর্ক আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে খুন, সন্ত্রাসবাদী কার্যক্রম, নির্যাতনের মতো ঘটনায় ছাত্রসংগঠনগুলোকে পৃষ্ঠপোষকতা এবং অনেক সময় মদদও দেয়া হয়। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পাশাপাশি এই অস্বীকারের সংস্কৃতির সাথে আইন প্রশাসন, পুলিশ, মন্ত্রনালয় ও বিচারবিভাগও অনেকক্ষেত্রে যুক্ত থাকে। পুলিশ বাহিনী তাই অনেকসময় মামলা পর্যন্ত নিতে চায় না, মামলা নিলেও অনেক সময় অপরাধীকে গ্রেপ্তারে গড়িমসি পরিলক্ষিত হয়। বিচার বিভাগের দীর্ঘসূত্রিতাও অভিযোগকারী ছাত্রছাত্রীকেও মামলা মোকদ্দমার কার্যক্রম থেকে দূরে রাখে।

এই অপহরণের ঘটনা ছাত্র-ছাত্রীদের সামনে একটা বিষয় প্রমাণ করলো যে, তারা কত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার মধ্যে আছে! বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জায়গায় যেখানে প্রত্যেক দেয়াল ও গেট দিয়ে সাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়, এমনকি অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের খোলা জায়গা, হলে সার্বক্ষনিক সিসিটিভি ক্যামেরা দেয়া হয় সেখানে দিনদুপুরে এই ধরনের ঘটনা কিভাবে ঘটে তা নিয়ে অনেকেই আতঙ্কিত। গ্রামাঞ্চলে প্রায়ই একটা কথা শোনা যায়, ‘চোর তো আমার ঘরে চুরি করল না, দুঃখজনক হলো চোরের বেটা চোর আমার বাড়ি চিনে গেল।’ আসলে ঠিক একইভাবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ঘটনা এটাই প্রমাণ করে, বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কতটা অরক্ষিত, নিরাপত্তবেষ্টনীহীন ও ঝুঁকিপূর্ণ।

আজকে নাহয় বর্তমান প্রশাসন স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের ধূঁয়া তুলে এই ঘটনাকে অস্বীকার করলেন। কিন্তু আরেকদিন যে এর চেয়ে বড় ঘটনা ঘটবে না তার কি কোন নিশ্চয়তা আছে? ইতিপূর্বেও তো বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে এই ধরনের ঘটনাগুলো ঘটেছে। আমরা কি দায়িত্ব নিয়ে ওই ঘটনাগুলোর সঠিক তদন্ত করেছি? জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি? আমার মনে হয় তা নেয়া হয়নি।

আমরা মনে করি, আমাদের সময় হয়েছে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিয়ে, ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষাজীবনের মসৃণ পথ তৈরি করার জন্য আমাদের নতুন করে ভাবার । অস্বীকারের সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে কিভাবে অপহরণসহ অন্যান্য জঘন্য অপরাধ ও গুরুতর অপরাধের তদন্তসহ বিচারিক প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করতে পারি তা ভেবে দেখার সময় হয়েছে। সুস্থ-সুন্দর পরিবেশসহ ছাত্র-ছাত্রীদের নিরাপদ জীবন গড়ে তোলার জন্য বহিরাগতদের চলাচল রোধে গতিবিধি চিহ্নিতকরণসহ সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যাবস্থা জোরদারের উদ্যোগ নেয়া এখনই আমাদের আশু কর্তব্য।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে)

বিজ্ঞাপন