জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবের বিরুদ্ধে পার্লামেন্টে মঙ্গলবারই অভিশংসন প্রস্তাব আনতে যাচ্ছে তার নিজের দল ক্ষমতাসীন জানু-পিএফ পার্টি। দলের সিনিয়র নেতা পল মাংওয়ানা বলেছেন, অভিশংসনের এই পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে বড়জোর দু’দিন লাগতে পারে।
অর্থাৎ মঙ্গলবার প্রক্রিয়া শুরু হলে বুধবারের মধ্যেই মুগাবের বিদায় নিশ্চিত করা যাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রবার্ট মুগাবের বিরুদ্ধে স্ত্রী গ্রেস মুগাবেকে অন্যায়ভাবে জিম্বাবুয়ের সাংবিধানিক ক্ষমতায দখলের সুযোগ করে দেয়ার অভিযোগসহ বিভিন্ন অভিযোগ এনে পার্লামেন্টে অভিশংসন প্রস্তাব রাখা হবে।
৯৩ বছর বয়সী প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবের পর প্রেসিডেন্ট পদের উত্তরসূরী হিসেবে অধিষ্ঠিত হওয়ার জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছিলেন স্ত্রী গ্রেস মুগাবে এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট নাঙ্গাগওয়া। এ কারণেই এক পর্যায়ে মুগাবে স্ত্রীর পক্ষ সমর্থন করে নাঙ্গাগওয়াকে চাকরিচ্যুত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
আর এ ঘটনার পরেই গত সপ্তাহে প্রথম রাজধানী হারারে আর পরে পুরো দেশের নিয়ন্ত্রণ নেয় সেনাবাহিনী। এই অভিযোগ নিয়েই অভিশংসনের প্রস্তাব রাখবে জানু-পিএফ।
এর আগে মুগাবেকে তার নিজেরই দল জানু-পিএফ দলীয় প্রধানের পদ থেকে বহিস্কার করে প্রেসিডেন্ট পদ ছেড়ে দেয়ার জন্য সোমবার দুপুর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিল। কিন্তু এরপর পদত্যাগের ঘোষণার জন্য জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেয়ার কথা থাকলেও ভাষণে অভিসংশনের আল্টিমেটাম অগ্রাহ্য করে মুগাবে ঘোষণা দেন, ডিসেম্বরের আগে তিনি কোনোভাবেই ক্ষমতা ছাড়ছেন না।

তারপরই শুরু হয় মুগাবের অভিশংসন নিয়ে জানু-পিএফ ও সেনাবাহিনীর তৎপরতা। যদিও এক বিশ্লেষণে সোমবার থিংক ট্যাংক ভেরিটাস বলেছিল, অভিশংসন প্রক্রিয়াকে যত সহজ মনে করা হচ্ছে, ব্যাপারটা আসলে তত সহজ নয়।
‘মুগাবের অভিশংসন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হলে জিম্বাবুয়ের প্রশাসনকে এক দীর্ঘ এবং খুবই জটিল প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। প্রক্রিয়াগুলো এতটাই জরুরি যে, শত চেষ্টায়ও কোনো একটাকে বাদ দিয়ে আরেকটা করা যাবে না, নেয়া যাবে না কোনোরকম শর্টকাট ব্যবস্থা,’ জানানো হয় ভেরিটাসের পার্লামেন্ট ও আদালত বিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে।
অন্যদিকে সেনা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন: রবার্ট মুগাবের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাদের একটা ‘রোডম্যাপ’ বা ‘পরিকল্পনা’ রয়েছে।
তারা জানান: মুগাবের হাতে বরখাস্ত ভাইস প্রেসিডেন্ট এমারসন নাঙ্গাগওয়া শিগগিরই দেশে ফিরছেন।







