চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

চলচ্চিত্রে বিষণ্ণ হাওয়া, এবার টুটুলের জন্য শোক

গত কয়েক দিনের মধ্যে চলচ্চিত্র অঙ্গন থেকে খসে পড়লেন আনোয়ার হোসেন, আমজাদ হোসেন ও সাইদুল আনাম টুটুলদের মতো তারকারা

একের পর এক চলচ্চিত্রের গুণী মানুষেরা চলে যাচ্ছেন। ক’দিন আগে ‘সূর্য দীঘল বাড়ী’ খ্যাত আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন সিনেমাটোগ্রাফার আনোয়ার হোসেনের মৃত্যুর শোক যেতে না যেতেই চলে গেলেন কিংবদন্তি নির্মাতা আমজাদ হোসেন। গুণী এই নির্মাতা, অভিনেতা, চিত্রনাট্যকার ও লেখকের দাফন হয়নি এখনো, অথচ এরমধ্যেই চলে গেলেন ‘আধিয়ার’ খ্যাত আরেক গুণী নির্মাতা সাইদুল আনাম টুটুল। যিনি কিনা ‘সূর্য দীঘল বাড়ী’ চলচ্চিত্র সম্পাদন করে পেয়েছিলেন জীবনের প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।

গুণী এই মানুষদের আচমকা একে একে চলে যাওয়ায় বিষণ্ণ চলচ্চিত্রাঙ্গন। তাকে ও তার সৃষ্টিকে স্মরণ করে চলচ্চিত্র সমালোচক ফাহমিদুল হক লিখলেন, ‘টুটুল ভাইও চলে গেলেন! ‘সূর্য় দীঘল বাড়ি’, ‘ঘুড্ডি’, ‘দহন’, ‘দীপু নাম্বার টু’ এরকম অনেক বিখ্যাত চলচ্চিত্রের সম্পাদক ও ‘আধিয়ার’ চলচ্চিত্রের পরিচালক সাইদুল আনাম টুটুল। ইনাদের অন্য পরিচয়ও আছে, কিন্তু কয়েকদিনের ব্যবধানের চলচ্চিত্রাঙ্গনের তিনজন গুণী মানুষ পরলোকগত হলেন। আনোয়ার হোসেন, সিনেমাটোগ্রাফার (ও ফটোগ্রাফার)। আমজাদ হোসেন, পরিচালক (ও লেখক-অভিনেতা)। সাইদুল আনাম টুটল, চলচ্চিত্র-সম্পাদক (ও চলচ্চিত্র পরিচালক)।

টুটুল ভাইকে কাছে থেকে দেখার কিছুটা সুযোগ হয়েছিল, চলচ্চিত্রবিষয়ক নানান সভায়, জুরির কাজের সহকর্মী হিসেবে। সজ্জন, নরম স্বভাবের এই সৃজনশীল মানুষটির জন্য তীব্র শোক অনুভব করছি।’

সাইদুল আনাম টুটুলের মৃত্যুতে নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু লিখলেন, ঢাকা থিয়েটারের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য মুক্তিযোদ্ধা চলচ্চিত্র নির্মাতা সাইদুল আনাম টুটুল ১৮ ডিসেম্বর ২০১৮ প্রয়াত হয়েছেন। আমরা তাঁর প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করছি।

সুরকার ও সংগীত পরিচালক আলাউদ্দিন আলী লিখেছেন, আমাদের কষ্ট সইবার শক্তি দাও। আল্লাহ, তুমি টুটুলকে বেহেস্ত নসিব করো।

Advertisement

নির্মাতা শামীম আখতার বলেন, সিনেমা করা মানে একই দল হয়ে যাওয়া। যতটা না পরিবার, একই ক্ষেত্রে কাজের সুবাদে তারাই বন্ধু, তারাই আপনজন। প্রতিযোগিতা, প্রতিদ্বন্দ্বিতা আমরা যারা স্বাধীন নির্মাতা বলে দাবি করে থাকি, তাদের মধ্যে তুলনামূলকভাবে কম। সুতরাং চোখে চোখ রেখে কথা হয়। আরো বেশি কথা হয় তাদের সংগে, রাজনৈতিক আদর্শ বিভাজিত দেশে যাদের সংগে অকপটে মন খুলে কথা বলা যায়। তারা দেখা মাত্রই বুঝে যান কে কেমন আছি। এমন একজন মানুষ ছিলেন সাইদুল আনাম টুটুল। কাজে, আদর্শে কাছের মানুষ। টুটুল ভাইকে সত্যি মিস করবো। বড্ড তাড়াতাড়ি চলে গেলেন।

টুটুলের হঠাৎ মৃত্যু ছুঁয়ে গেছে ‘সূর্যদীঘল বাড়ী’ নির্মাতা নেয়ামত আলী খানের ছেলে নিপুণ নেয়ামতকেও। সোশাল মিডিয়ায় এক টুকরো স্মৃতি তুলে ধরে তিনি লিখলেন, চলে গেলেন প্রাণবন্ত সাইদুল আনাম টুটুল। তিনি কালজয়ী চলচ্চিত্র ‘সূর্য দীঘল বাড়ি’ সম্পাদনা করেছেন। আমার কাছে তিনি টুটুল কাকু। সেদিন আনোয়ার(আনোয়ার হোসেন) কাকুর স্মরণ সভায় আমার সাথে আবার দেখা, সালাম দিয়ে পরিচয় দিতেই, তিনি অবাক হয়ে বলেন, ‘নিপুন! নিয়ামত ভায়ের ছেলে’টা’। তারপর সেই দারুণ হাসি, আপনি আমার কাছে এমনই থাকুন কাকু। আপনি যেখানে থাকুন, ভাল থাকুন!

সাইদুল আনাম টুটুলের মৃত্যুতে চলচ্চিত্র সংগঠক বেলায়েত হোসেন মামুন লিখলেন, কী নিদারুণ এক মাস এটা! আনোয়ার ভাইয়ের স্মরণসভায় আনোয়ার ভাইকে স্মরণ করলেন ৫ ডিসেম্বর। আজ ১৮ ডিসেম্বর চলে গেলেন চলচ্চিত্রকার, চলচ্চিত্র সম্পাদক, চলচ্চিত্র সংসদকর্মী ও মুক্তিযোদ্ধা সাইদুল আনাম টুটুল…! বিদায় টুটুল ভাই…

টুটুলের মৃত্যুতে স্মৃতিকাতর অভিনেত্রী শাহনাজ খুশী। সাইদুল আনাম টুটুলের স্ত্রীর সঙ্গে একটি ছবি শেয়ার করে তিনি লিখেছেন, টুটুল ভাই! বৃন্দাবনের নাট্যকার বৃন্দাবন দাস হয়ে ওঠা আপনার হাত ধরে। প্রথম বন্ধুবরেষু নাটক থেকে শুরু করে দীর্ঘ পথ চলা। শুধু কাজ নয় ব্যক্তিগত আবেগের জায়গাও ছিলেন ভাবী আর আপনি। সাহস, শক্তির অভিভাবক ছিলেন। বুকটার ভেতর তচনছ হয়ে যাচ্ছে টুটুল ভাই। কত আবেগী সময়, কত স্মৃতি! এখনো অনেক কাজ বাঁকী আপনার। এ কেমন চলে যাওয়া..!

তরুণ নির্মাতা অং রাখাইন লিখেন, আমার ‘মাই বাইসাইকেল’ রি-এডিট করার কথা ছিল। এক সাথে বসা গেল না এই যান্ত্রিক জীবনে। ভালো থাকবেন নির্মাতা ও চিত্র সম্পাদক সাইদুল আনাম টুটুল। হারিয়ে যাচ্ছে দিন দিন। অপেক্ষায় আছে শূন্যতা…!