চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

চলচ্চিত্রের অনুসরণে ‘ফার্স্ট হিটলার বস’ কিশোর গ্যাং, অস্ত্রসহ আটক ১৪

রাজধানীর উত্তরা থেকে ফার্স্ট হিটলার বস (এফএইচবি) নামের কিশোর গ্যাং গ্রুপের ১৪ সদস্যকে অস্ত্রসহ আটক করেছে র‌্যাব-১। এই গ্রুপটি ‘তুফান গ্রুপ’ নামেও পরিচিত।

শনিবার রাত সাড়ে ১১টায় উত্তরার রাজউক অফিসের সামনে থেকে গ্রুপ গ্যাংয়ের সক্রিয় সদস্যদের আটক করা হয়।

বিজ্ঞাপন

আটক হওয়া কিশোরেরা হলো- বিশু চন্দ্র শীল, মো. নাঈম মিয়া, মো. ইয়াসিন আরাফাত , আসিফ মাহমুদ, মো. ফরহাদ হোসেন, মো. আল আমিন হোসেন, মো. বিজয়, শাওন হোসেন সিফাত, মো. ইমামুল হাসান মুন্না, মো. তানভীর হাওলাদার, মো. আকাশ মিয়া, মো. মেরাজুল ইসলাম জনি, হযরত আলী ও মো. রাজিব। এসময় তাদের কাছ থেকে একটি এসবিবিএল অস্ত্র ও দুটি ধারালো ছোড়া উদ্ধার করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে র‌্যাব-১ এর কমান্ডিং অফিসার (সিও) লেফটেন্যান্ট কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: বেশ কিছুদিন ধরে উত্তরাসহ আশপাশের এলাকায় কয়েকটি কিশোর গ্যাং গ্রুপের দৌরাত্ব্য দেখা যায়।এই গ্যাং গ্রুপের কাজ হলো এলাকার আধিপত্য বিস্তার, স্কুল কলেজে র‍্যাগিং করা, স্কুল কলেজের ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করা, মাদক সেবন, ছিনতাই, উচ্চ শব্দ করে মটরসাইকেল চালিয়ে জনমনে আতংক সৃষ্টি করা, ছিনতাই, অশ্লীল ভিডিও শেয়ার করাসহ এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করা।

তিনি আরও বলেন, এছাড়াও তারা বিভিন্ন অনুষ্ঠানের নামে উচ্চশব্দে গান বাজিয়ে এলাকায় পৈশাচিক পরিবেশ তৈরি করে এবং কেউ তাদের বাধা দিতে গেলে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়। এরা এলাকার নিরীহ ও মেধাবী যুবক ও কিশোরদের চাপে রেখে জোর পূর্বক দলে আসতে বাধ্য করে। গ্যাং ভিত্তিক এদের নিজস্ব লোগো আছে যা দেয়াল লিখন ও ফেসবুকে ব্যবহার করে।

বিজ্ঞাপন

এরা ফেসবুকে এক গ্রুপ অন্য গ্রুপকে হুমকি দিয়ে স্ট্যাটাস দেয় এবং পরস্পরের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ ও আপত্তিকর মন্তব্য করে ফেসবুকে পোস্ট করে থাকে। তারা হ্যাকারের মাধ্যমে অন্য গ্যাংয়ের ফেসবুক আইডি ও গ্রুপ হ্যাক করার চেষ্টা করে। প্রায়ই আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এক গ্রুপ অন্য গ্রুপের সঙ্গে কোন্দলে লিপ্ত হয়। কিশোর গ্যাং গ্রুপের আন্তকোন্দল ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কয়েকটি হত্যাকাণ্ডে যার প্রমাণ পাওয়া যায়।

র‌্যাব-১ এর সিও বলেন, এসব কিশোর গ্যাং এর সদস্যরা পশ্চিমা বিভিন্ন গ্যাং কালচারের উপর নির্মিত চলচ্চিত্র দেখে উৎসাহিত হয় এবং চলচ্চিত্রসমূহের চরিত্রগুলোকে অনুসরণ করে থাকে।

আটকদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, তারা এফএইচবি গ্যাং গ্রুপের সক্রিয় সদস্য। তারা গ্রুপে সদস্য বাড়ানোর কৌশল হিসেবে একটি ‘পিএসবি’ নামক নাচের একাডেমী পরিচালনা করে। এই নাচের একাডেমিতে কম খরচে নাচ শিখানো হয়। আটক বিশু অন্যান্যদের নাচ শেখায়। বিশু নাচের মাস্টার হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিলেও আদতে তার নাচের বিষয়ে কোন প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান নেই। সে শুধু উঠতি বয়সের কিশোদের তাদের গ্রুপে বেশি আকৃষ্ট করার উদ্দেশ্যে এই ড্যান্স ক্লাব পরিচালনা করে।

তাদের গ্রুপে ছাত্র, দিনমজুর, বাস ড্রাইভার, অটো ড্রাইভার-হেল্পার থেকে শুরু করে সকল পেশার উঠতি বয়সের কিশোর আছে। যারা তাদের পিতা-মাতার উদাসীনতার সুযোগ নিয়ে এসব গ্যাং কালচারের সাথে জড়িত হচ্ছে এবং এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের জন্য বিভিন্ন অপরাধমূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

আটকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলেও জানান তিনি।

Bellow Post-Green View