জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) প্রথমবারের মতো আন্ত:বিষয়ক গবেষণা নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজন করেছে জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটি রিসার্চ সোসাইটি (জেইউআরএস)। আয়োজিত সম্মেলনে দেশ-বিদেশের ২৬৫ জন গবেষক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, নীতিনির্ধারক, শিল্প খাতের পেশাজীবী ও গবেষণানুরাগী অংশ নেন।
শনিবার (২৯ আগস্ট) সাভারে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘টেকসই ভবিষ্যতের জন্য আবিষ্কার থেকে প্রয়োগ: আন্ত:বিষয়ক গবেষণা’ প্রতিপাদ্যে দিনব্যাপী এ হাইব্রিড সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
সম্মেলনে মৌখিক ও পোস্টার উপস্থাপনা, দেশি-বিদেশি বক্তাদের আলোচনা, চারটি বিষয়ভিত্তিক সেশন এবং সেরা গবেষণাপত্র পুরস্কার দেওয়া হয়। চারটি ট্র্যাকে সামাজিক বিজ্ঞান, সুশাসন ও উন্নয়ন; কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মেশিন লার্নিং, ডিপ লার্নিং ও পরিসংখ্যান; জনস্বাস্থ্য, বায়োস্ট্যাটিস্টিকস, বায়োইনফরমেটিকস ও জীবনবিজ্ঞান এবং পরিবেশ, জলবায়ু ও টেকসই উন্নয়ন বিজ্ঞান নিয়ে গবেষণা উপস্থাপন করা হয়।
এতে সুশাসন, গণতন্ত্র, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডেটা সায়েন্স, জনস্বাস্থ্য, বায়োটেকনোলজি, জলবায়ু পরিবর্তন, জীববৈচিত্র্য, টেকসই উন্নয়ন ও গ্রিন ইকোনমিসহ বিভিন্ন বিষয় আলোচনায় উঠে আসে।
সেরা গবেষণাপত্রের পুরস্কারে ট্র্যাক-১-এর পোস্টার বিভাগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৌসিফ ফুয়াদ এবং মৌখিক উপস্থাপনায় একই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রজ্ঞা পারমিতা কর্মকার নির্বাচিত হন। ট্র্যাক-২-এর পোস্টার বিভাগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রত্না দীপ লোধ এবং মৌখিক উপস্থাপনায় বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের মৃন্ময় সাহা পুরস্কার পান।
ট্র্যাক-৩-এর পোস্টার বিভাগে ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের মো. রিফায়েত হোসেন এবং মৌখিক উপস্থাপনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নূর-ই-মীম সেরা হন। ট্র্যাক-৪-এর পোস্টার বিভাগে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদিয়া ইসলাম তানহা এবং মৌখিক উপস্থাপনায় মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মারজিয়া খানম জুথি পুরস্কার পান।
সম্মেলনে আইসিডিডিআর,বির অ্যাসোসিয়েট সায়েন্টিস্ট ও প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর সৈয়দ মঈনউদ্দীন সাত্তার এবং জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)-এর টিম লিডার হিরোনারি ওনিশি বক্তব্য দেন। ওনিশি নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে মৌলিক গবেষণার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং গবেষণা সক্ষমতা বাড়াতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান এ উদ্যোগের প্রশংসা করেন। সমসাময়িক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্ত:বিষয়ক গবেষণার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি তরুণ গবেষকদের গবেষণার ঘাটতি চিহ্নিত করা, বিদ্যমান জ্ঞানকে সমালোচনামূলকভাবে পর্যালোচনা করা এবং নতুন জ্ঞান তৈরিতে অবদান রাখার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম এবং উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মো. শামসুল আলম উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকদের মতে, সম্মেলনটি বিভিন্ন শাখার গবেষকদের মধ্যে ধারণা বিনিময় ও সহযোগিতার সুযোগ তৈরি করেছে। টেকসই উন্নয়ন ও উদ্ভাবনে গবেষণাকে উৎসাহিত করার ক্ষেত্রেও জেইউআরএসের এই সম্মেলন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।









