চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

গোপালগঞ্জের শিক্ষকদের সাহসী করে তুললো শিক্ষার্থী জিনিয়া

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বশেমুরবিপ্রবি) এর শিক্ষার্থী ফাতেমা তুজ জিনিয়ার বিতর্কিত বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের পর এবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে বেশ কিছু দাবি তুলে ধরেছেন ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সচেতন শিক্ষক সমাজ’।

এতদিন চুপ থাকলেও ব্যাপক সমালোচনার শিকার হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করায় ফাতেমা তুজ জিনিয়ার পাশে অবস্থান নেন বশেমুরবিপ্রবি’র সচেতন শিক্ষক সমাজ।

বিজ্ঞাপন

তারা বলছেন, শুধু জিনিয়া নন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক ও শিক্ষার্থী যারা অন্যায় কারণ দর্শানোর নোটিশের শিকার হয়েছেন তাদের পাশে সচেতন শিক্ষক সমাজের এ অবস্থান।

সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়ায় উপাচার্যের রোষানলে পড়েন আইন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ও ক্যাম্পাসে কর্মরত সাংবাদিক ফাতেমা তুজ জিনিয়া। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাকে সাময়িক বহিষ্কারও করা হয়। ইতোমধ্যে অবশ্য তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে।

মূলত জিনিয়ার বহিষ্কারাদেশ নিয়ে সারাদেশে ব্যাপক সমালোচনার শিকার হন বশেমুরবিপ্রবি’র উপাচার্য অধ্যাপক খোন্দকার নাসির উদ্দিন। নিজ বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জিনিয়ার পাশে দাঁড়ান। পাশাপাশি বশেমুরবিপ্রবি’র উপাচার্য অধ্যাপক খোন্দকার নাসির উদ্দিনের পদত্যাগও দাবি করেন শিক্ষার্থীরা।

এমন পরিস্থিতিতে ফাতেমা তুজ জিনিয়াসহ যারা অন্যায় কারণ দর্শানোর শিকার হয়েছেন তাদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন সচেতন শিক্ষক সমাজ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে যে দাবিগুলো তুলে ধরেছেন, তা হলো:

বিজ্ঞাপন

  • অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের সম্মানিত শিক্ষকদের প্রতি জারি করা সকল অন্যায্য কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রত্যাহার করা।
  • বিগত সময়ে বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যানশিপের ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘনের ঘটনা দ্রুত সংশোধন করা এবং ভবিষ্যতে এর পুনরাবৃত্তি না করার নিশ্চয়তা দেয়া।
  • সকল বিভাগেই বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী প্ল্যানিং কমিটি গঠন নিশ্চিত করা।
  •  বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান প্রমোশন বিধিমালা সংশোধন ও সকলের জন্য সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করা এবং আপগ্রেডেশেনের ক্ষেত্রে শর্ত পূরণের তারিখ থেকেই কার্যকর করা।
  • বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল একাডেমিক, প্রশাসনিক পদ ও আবাসিকতাসহ বৈধ সুযোগ প্রদানের ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো সংশোধন করা এবং ভবিষ্যতে সকল ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতা অনুযায়ী বন্টন নিশ্চিত করা।
  • বিভিন্ন দাপ্তরিক সভায়, সামাজিক-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ও শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের সামনে শিক্ষকগণের বিরুদ্ধে যেকোন অসম্মানজনক বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি না হওয়ার নিশ্চয়তা প্রদান করা।
  • বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগ্য শিক্ষার্থীদের সুযোগ নিশ্চিত করা।
  • সকল ক্ষেত্রেই বাক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা।
  • ছাত্র ভর্তির ক্ষেত্রে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।
  • মেধা যাচাই সাপেক্ষে বিভিন্ন বিভাগে বিদেশি ছাত্র ভর্তি নিশ্চিত করা।
  • শিক্ষার্থীদের সকল ন্যায্য দাবির সাথে সংহতি জানাই, বিশেষ করে শিক্ষা সংক্রান্ত শিক্ষার্থীদের সকল ব্যয় বিদ্যমান বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাপেক্ষে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নিয়ে আসা।
  • ছাত্রদের বিরুদ্ধে জারি করা সকল অন্যায্য কারণ দর্শানোর নোটিশ ও একাডেমিক শাস্তি প্রত্যাহার করা।
  • ভর্তি পরীক্ষার ফর্মের দাম সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাপেক্ষে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নিয়ে আসা।
  • ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশের দিনেই ফলাফলের হার্ডকপি সকল ডিন এবং বিভাগীয় প্রধান বরাবর প্রেরণ করা।
  • ভর্তি পরীক্ষার আয়কৃত অর্থসহ সকল আয়-ব্যয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।
  • বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপর সকল সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা জানাই। বিশেষ করে, সাম্প্রতিক সময়ে সাংবাদিক সমিতির একজন সদস্যের (অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী) উপর সংঘটিত ন্যাক্কারজনক হামলার দ্রুত বিচার চাই।

এসব দাবি দ্রুততম সময়ে পূরণ করার জন্য প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন সচেতন শিক্ষক সমাজ।

দেরিতে হলেও শিক্ষকদের একটি অংশকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দাবি তোলার ক্ষেত্রে কি সাহসী করে তুললো শিক্ষার্থী জিনিয়া?

এ বিষয়ে বশেমুরবিপ্রবি’র সহকারী অধ্যাপক ও শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ঈশিতা রায় চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: দেখুন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৫০ জন শিক্ষক আছেন। তাহলে ৮ থেকে ১০ জনের একদল শিক্ষককে আপনি সচেতন শিক্ষক সমাজ বলবেন কিভাবে? তারা যদি সচেতন শিক্ষক সমাজ হয়ে থাকেন তাহলে বাকি শিক্ষক যারা আছেন তারা কি সচেতন নন?

তিনি বলেন: তারা যদি কোনো দাবি প্রশাসনের কাছে তুলে ধরতে চান তাহলে সেটা কেন এতদিন হয়নি। এখন একটি ঘটনা সামনে আসায় তারা এসব করছেন। একে আমি সাহসিকতা বলতে চাই না, এর পেছনে তাদের অন্য কোনো উদ্দেশ্য থাকতে পারে। আর তারা যদি কোনো দাবি তুলে ধরতে চান তাহলে শিক্ষকদের ফোরাম শিক্ষক সমিতি আছে, তার মাধ্যমে তারা দাবি তুলে ধরতে পারতেন। তা না করে কয়েকজন মিলে একটা ফোরাম করে ফেললেন, যার কোনো ভিত্তি ক্যাম্পাসে নেই।

এই ফোরামের শিক্ষকদের তিনি চেনেন কিনা জানতে চাইলে ঈশিতা রায় বলেন: আমরা যখন বঙ্গবন্ধুর আদর্শের প্যানেলে শিক্ষক সমিতির নির্বাচন করি তারা আমাদের বিরোধী পক্ষে ছিলেন। তারা বিএনপি-জামায়াতপন্থী শিক্ষক সমাজ কিনা আমি তা বলতে চাই না, তবে তারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের প্যানেলের বিরোধী পক্ষে নির্বাচন করেছিলেন।

শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদকের অভিযোগের বিষয়ে জানতে সচেতন শিক্ষক সমাজের সঙ্গে  সংশ্লিষ্ট একজন শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তিনি এ বিষয়ে কথা বলবেন না বলে জানান। শাহজাহান নামের ওই শিক্ষক বলেন: এ বিষয়ে কথা বলবেন আমাদের মুখপাত্র ড. রাজিউর রহমান। পরে ড. রাজিউর রহমানকে একাধিকবার ফোন দেয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

Bellow Post-Green View