২০০২ সালে ভারতের গুজরাটের গোধরায় সবরমতি ট্রেনে আগুনের ঘটনায় ৫৯ জন নিহত হয়েছিল। এরপর শুরু হয় গুজরাটের আলোচিত সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, যাতে এক হাজারের বেশি লোক নিহত হয়। নিহতদের অধিকাংশই মুসলিম। আর ট্রেনে নিহত হওয়া ৫৯ জনের বেশিরভাগই ছিল হিন্দু সেবক। তারা উত্তর প্রদেশের অযোধ্য ভ্রমণের পর ফিরছিল। পরে ওই ঘটনায় ৯৪ জনকে বিচারের মুখোমুখি করা হয়। ২০১১ সালে ৩১ জনকে দোষী সাব্যস্ত করে বিশেষ আদালত। তাদের মধ্যে ১১ জনের মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয় ২০ জনের। আর মুক্তি পায় ৬৩ জন। আদালতের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে গুজরাটের হাইকোর্টে একাধিক মামলা হয়। রোববার সেসব মামলার রায় দিয়েছে হাইকোর্ট। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১১ জনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন দিয়েছে আদালত। এদের মধ্যে মৌলভি উমারজিও রয়েছেন যাকে ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী বলা হয়েছিল। বহু বর্ণের সম্মিলনে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ হিসেবে বহুল পরিচিত দেশ ভারতে এ রায়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে। তবে, সেই উত্তাপ যেন না ছড়ায় ভারত সরকারকে শুরুতেই সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। বৈশ্বিক জঙ্গিবাদের সাম্প্রতিক যে উত্থান, তার সঙ্গে ধর্মীয় উগ্রবাদ ও সাম্প্রদায়িক বিষয়াবলী গুরুতরভাবে জড়িত বলে ধারণা করা হয়ে থাকে। ভবিষ্যতে যেকোন ধরণের নেতিবাচক পরিস্থিতি এড়াতে এ অঞ্চলের সব জায়গাতেই সতর্কতা প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি। দক্ষিণ এশিয়াসহ বিশ্বজুড়ে শান্তি ও সম্প্রীতিই আমাদের প্রত্যাশা।









