চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

গার্ড অব অনারে নারী কর্মকর্তায় আপত্তি সংবিধান বিরোধী

বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মৃত্যুর পর গার্ড অব অনার দেওয়ার ক্ষেত্রে নারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) পরিবর্তে বিকল্প ব্যক্তি নির্ধারণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদসহ বিভিন্ন সংগঠন।

গতকাল রোববার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয়। এ ছাড়া দিনের বেলা গার্ড অব অনার আয়োজন করার সুপারিশ করা হয়েছে কমিটির বৈঠকে। কমিটির সভাপতি শাজাহান খানের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, রাজি উদ্দিন আহমেদ, রফিকুল ইসলাম, কাজী ফিরোজ রশীদ, ওয়ারেসাত হোসেন ও মোছলেম উদ্দিন আহমদ অংশ নেন।

ওই বৈঠকের বিভিন্ন তথ্য বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশ, বৈঠকে সংসদ সদস্যদের ভাষ্য, সাধারণত নারীরা জানাজায় অংশ নেন না। এটি নিয়ে সমাজে অনেকে প্রশ্ন তোলেন। তাই বীর মুক্তিযোদ্ধাদের গার্ড অব অনার দেওয়ার ক্ষেত্রে যেখানে নারী ইউএনও আছেন, সেখানে বিকল্প একজন পুরুষ কর্মকর্তা নির্ধারণ করা প্রয়োজন। সহকারী কমিশনার (ভূমি), উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বা এ ধরনের কোনো কর্মকর্তাকে বিকল্প রাখা যেতে পারে। এরপর কমিটি ওই সুপারিশ করে।

বিজ্ঞাপন

বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে সামাজিক মাধ্যমে নানা আলোচনা-সমালোচনার পাশাপাশি নারীর প্রতি বৈষম্য ও দেশের সংবিধানে নারীর অধিকারের বিষয় লঙ্ঘন হচ্ছে বলে অনেকে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় কৃতকার্য হওয়া প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী হলেও আলাদা করে ‘নারী বা পুরুষ ইউএনও’ বলে কোন পদ নেই। এই অবস্থায় এধরণের সুপারিশ সরাসরি নারী-পুরুষ বিভাজন, যা সংবিধানবিরোধী বলে আমাদের মনে হয়েছে।

সংবিধানের ২৮(১) অনুচ্ছেদে বলা আছে, ‘কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী,বর্ণ, নারী-পুরুষভেদে বা জন্মস্থানের কারণে কোন নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্র বৈষম্য প্রদর্শন করিবেন না’। এছাড়া সংবিধানের ২৮ (২) অনুচ্ছেদে বলা আছে, ‘রাষ্ট্র ও গণজীবনের সর্বস্তরের নারী পুরুষের সমান অধিকার লাভ করিবেন’। সংবিধানের ৬৫(৩) অনুচ্ছেদেও বলা আছে নারীর প্রতিনিধিত্ব করার কথা। ওই সংসদীয় কমিটির সম্মানিত সদস্যরা নিশ্চয় এই ধারাগুলো সর্ম্পকে জ্ঞাত আছেন।

দীর্ঘ কয়েকযুগ দেশের প্রধানমন্ত্রী পদসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পদে নারীরা সাফল্যের সাথে দায়িত্বপালন করে আসছেন। নারীর ক্ষমতায়ন ও বৈষম্য দূর করতে জাতিসংঘের বিভিন্ন সনদেও বাংলাদেশ সাক্ষর করেছে। এতোকিছুর পরেও অগ্রসর চিন্তাধারার অভাব ও মানসিকতার দৈনতার বশে নারী-পুরুষের বিভাজন মূলক কোনো পরিস্থিতি কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমাদের আশাবাদ, সংশ্লিষ্ট সবাই এ বিষয়ে সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত নেবেন।

বিজ্ঞাপন