চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘গণহত্যার স্বীকৃতি পায়নি, স্বৈরতন্ত্রের স্বীকৃতি পেয়েছে আ.লীগ’

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, যারা নিজেদের মুক্তিযুদ্ধের ঠিকাদার মনে করেন তারা ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চকে আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবসের স্বীকৃতি আনতে পারেননি। তবে গণহত্যার স্বীকৃতি আনতে না পারলেও স্বৈরতান্ত্রিক দেশের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ঠিকই এনেছে আওয়ামী লীগ।

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে ‘স্বৈরতন্ত্রের কবলে স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও মৌলিক অধিকার’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

মোশাররফ বলেন: ‘বিশ্বের নতুন ৫টি স্বৈরতান্ত্রিক দেশের তালিকায় বাংলাদেশের স্বীকৃতি এনে আমাদেরকে লজ্জিত করেছে তারা। মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা ছিলো গণতন্ত্র। কিন্তু তা আজ আওয়ামী লীগের বাক্সে বন্দী।’

তিনি অভিযোগ করে বলেন: ‘দেশে গণতন্ত্র নেই, বিরোধী দলকে এখন সভা সমাবেশ করতে দেওয়া হয় না। অথচ স্বৈরাচারী এরশাদের সমাবেশ সফল করার জন্য সরকারি সহযোগিতা দিয়ে, লোক ভাড়া করে এনে সমাবেশ সফল করাচ্ছে। আর আমরা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ৩ বার অনুমতি চেয়েও সমাবেশের অনুমতি পাচ্ছি না। আমরা করলে নাকি বিশৃঙ্খলা হবে, নৈরাজ্য হবে। আসলে সরকার ভালো করেই জানে আমরা সমাবেশ করলে জনসমুদ্রে রূপান্তরিত হবে। সে কারণে সমাবেশ করতে দেওয়া হয় না।’

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন: ‘কোনো কোনো মন্ত্রী বলেছেন, তাদেরকে যে স্বৈরাচার বলা হয়েছে তা নাকি ভিত্তিহীন। আমি বলবো এটাই সত্য। যে সংসদে বিরোধী দল নেই সে সংসদের কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই। পৃথিবীর কোথাও এমন সংসদ নেই। পৃথিবীর কেউ এটিকে স্বীকার করে না। রাষ্ট্রের তিনটি স্তম্ভকে যে সরকার ভেঙে দিয়েছে সে দেশকে কিভাবে গণতান্ত্রিক বলবে? কাজেই দেশে আজ স্বৈরাচারী শাসন চলছে। হিটলারের দেশ এখন বাংলাদেশের সরকারের কাছ থেকে স্বৈরাচারিতার সংজ্ঞা শিখছে।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সমালোচনা করে মোশাররফ বলেন: ‘তিনি বলেছেন, পৃথিবীর কোথাও নির্বাচনের পূর্বে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের নজির নেই। আমি বলবো, অনেক নজির আছে। শুধু বাংলাদেশের উদাহরণ দিবো। গণআন্দোলনের মুখে এরশাদ পদত্যাগ করেছিলেন। খালেদা জিয়া ১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অনুমোদন দিয়ে পদত্যাগ করেছিলেন। ২০০১ সালে শেখ হাসিনা নিজেও পদত্যাগ করেছিলেন। আর ওবায়দুল কাদের নাকি পৃথিবীর কোথাও উদাহরণ পেলেন না! বাংলাদেশেই আছে।’

পার্লামেন্ট বহাল রেখে আরেকটি নির্বাচন হতে পারে না
খন্দকার মোশাররফ বলেন: ‘‘ওবায়দুল কাদেরকে আমি নিজে ছাত্র রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করেছিলাম। আমি মহসীন হলের ভিপি থাকাকালীন তাকে রাজনীতিতে এনেছি। তিনি তখন প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলেন। তিনি বেশি কথা বলেন। ফলে সত্য কথা বলে ফেলেন। তিনি এর আগে আওয়ামী লীগকে ‘কাউয়ার দল’ বলেছেন আর সর্বশেষ বলেছেন, আগামী নির্বাচন আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। এসব সত্য কথা তিনি বলেন।’’

‘এর মাধ্যমে প্রমাণ হয়, তারা আরেকটি অবৈধ নির্বাচন দিতে চায়। কিন্তু তা সম্ভব হবে না। আগামী নির্বাচনে আমরা অংশগ্রহণ করব। আগেই ঘোষণা করেছি। তাই সরকার ভীত হয়ে খালেদা জিয়াকে কারাগারে বন্দী রেখেছে। আমরা খালেদা জিয়াকে মুক্ত করেই নির্বাচনে যাবো।’

সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সভাপতি আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ। বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লাহ বুলুসহ অন্যান্যরা।