চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘গণপিটুনি’ আর ‘গুজবে’র পিঠে চলছে স্বদেশ

রাজধানীর বাড্ডায় চার বছর বয়সী মেয়েকে বিদ্যালয়ে ভর্তির তথ্য জানতে গিয়ে ছেলেধরা গুজবের কারণে গণপিটুনিতে প্রাণ হারালেন এক নারী। আর নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে একজন বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী যুবক নিজের মেয়েকে স্কুলে দেখতে গিয়ে একই গুজবে প্রাণ হারালেন। বাড্ডার ওই নারী বারবার নিজের পরিচয় বলার পরে রক্ষা পাননি, সিদ্ধিরগঞ্জের যুবকতো কথাই বলতে পারতেন না, পরিচয় দেয়া তো দূরের কথা।

পদ্মাসেতুতে শিশুদের কাটা মাথা লাগবে এবং অনেক শিশু গুম হয়েছে, এমন গুজব ছড়িয়েছিল কিছুদিন আগে। সেসময় রাষ্ট্রীয়ভাবে ওই গুজব প্রতিরোধে গণমাধ্যমসহ সামাজিক মাধ্যমে বিবৃতি দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যবস্থা নেয়া হয়। গুজব ছড়ানোর দায়ে বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতারও করা হয়। কিন্তু ১৮ জুলাই নেত্রকোনা জেলায় ব্যাগে করে এক শিশুর ছিন্ন মাথা নিয়ে পালানোর সময় এক যুবককে (২৮) পিটিয়ে হত্যা করে ক্ষুব্ধ জনতা। ওই ঘটনার পর থেকে সারাদেশে ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনির ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা বেড়ে চলেছে। প্রতিবন্ধী, অপ্রকৃতিস্থ ও অচেনা বেশভূষার মানুষজন সন্দেহভাজন হিসেবে মারাত্মক হুমকির মুখে আছে। বিষয়গুলো খুবই উদ্বেগজনক।

বিজ্ঞাপন

কাগজে কলমে দেশের শিক্ষার হার বাড়ছে, জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিকাশ ও চর্চায় আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। তারপরেও এধরণের ঘটনা! নির্মাণাধীন সেতুতে মানুষের মাথা লাগবে- মানুষ এমন ধারণা কী করে করে? আরেকটি বিষয় আমাদের ভাবাচ্ছে, তা হলো- আইন নিজের হাতে তুলে নেয়া। কারো আচার আচরণ ও কার্যক্রমে যদি সন্দেহ জাগে তাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তুলে দেয়া উচিত। তা না করে নিমর্মভাবে পিটিয়ে হত্যা করতে হবে!

বলতে বাধা নেই, প্রকৃত শিক্ষার অভাবেই এধরণের ঘটনা ঘটছে। আর আইনের প্রতি ভরসার জায়গা কমতে থাকলেও এরকম পরিস্থিতির তৈরি হতে পারে। অভিযুক্ত বা অপরাধীকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তুলে দিতে কি ভরসা পাচ্ছে না জনগণ? আসলে জনগণের সেরকম ভরসা অর্জন করতে পেরেছে কি আইন-আদালত? সব প্রশ্নের উত্তর ‘না’ হলে, কারণ খুঁজে বের করা জরুরি।

বিভিন্ন ঘটনাচক্রে আলাদা আলাদা প্রেক্ষাপটে জাতির চিন্তা ও মননের দুর্বলতাগুলো ভয়াবহ আকারে প্রকোট হচ্ছে। কোনো নির্দিষ্ট ঘটনা ঘটলেই শুধু হইচই ও সাময়িক সচেতনতা, পরে আবার ভুলে গেলেতো কাজ হবে না। “অন্ধ হলে প্রলয় বন্ধ থাকে না”- এই উক্তির মতো বাস্তবতা মেনে নিয়ে আমাদের দ্রুতসম্ভব জাতির দুর্বলতা দূর করতে দীর্ঘমেয়াদি কাজ করা উচিত বলে আমরা মনে করি। আশাকরি সংশ্লিষ্ট সবাই বিষয়গুলো নিয়ে ভাববেন এবং দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন।

বিজ্ঞাপন