চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘গণধর্ষণের পর হত্যার শিকার’ কিশোরী জীবিত ফেরায় হাইকোর্টে আবেদন

গণধর্ষণের পর শ্বাসরোধে কিশোরীকে হত্যার পর শীতলক্ষ্যা নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয় বলে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, পরে সেই কিশোরীর জীবিত ফিরে আসার ঘটনায় হাইকোর্টে একটি রিভিশন আবেদন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ আইনজীবীর পক্ষে আবেদনটি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।

বিজ্ঞাপন

নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ সুপার, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, বাদী ও আসামিকে রিভিশনে বিবাদি করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

হাইকোর্টে করা আজকের রিভিশন আবেদনে ওই কিশোরী নিখোঁজ হওয়ার পর নারায়ণগঞ্জ মডেল থানায় তার বাবার করা অপহরণ মামলার নথি তলবের আরজির পাশাপাশি অপহরণ মামলায় গ্রেপ্তার তিন আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি এবং মামলাটির বৈধতা এবং যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

ওই কিশোরীর বিষয়ে সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৪ জুলাই শহরের দেওভোগ এলাকার বাড়ি থেকে বের হয়ে ওই কিশোরী নিখোঁজ হয়। তাকে না পেয়ে প্রায় মাসখানেক পর ৬ আগস্ট নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় অপহরণ মামলা করেন তার বাবা।

সে মামলায় বলা হয়, আসামি আব্দুল্লাহ তার মেয়েকে স্কুলে যাওয়া-আসার পথে উত্ত্যক্ত করতেন। এই মামলার পর পুলিশ ওই কিশোরীর মায়ের মুঠোফোনের কল লিস্ট চেক করে অটোরিকশা চালক রকিবের সন্ধান পায়। যে রকিবের নম্বর দিয়ে আব্দুল্লাহ ওই কিশোরীর সঙ্গে যোগাযোগ করতেন।

বিজ্ঞাপন

একপর্যায়ে পুলিশ অটোরিকশা চালক রকিব (১৯), আব্দুল্লাহ (২২) ও খলিলকে (৩৬) গ্রেপ্তার করে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তারা নারায়ণগঞ্জের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মিল্টন হোসেন ও বিচারিক হাকিম আহমেদ হুমায়ুন কবিরের পৃথক আদালতে ওই কিশোরীকে গণধর্ষণের পর হত্যা করে লাশ শীতলক্ষ্যা নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। পরবর্তীতে এই তিনজনকে কারাগারে নেয়া হয়।

‘নিখোঁজ’ হওয়ার ৪৯ দিন পর ওই কিশোরী তার বাড়িতে টাকা চেয়ে ফোন করলে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। পরে পুলিশ গত রোববার কিশোরীকে উদ্ধার করে।

এরপর কিশোরীর স্বামী ইকবালকে আটক করা হয়। পরে ইকবাল প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে জানিয়েছেন, ‘তারা বিয়ে করে বন্দর এলাকায় একটি বাড়িতে বসবাস করছিলেন।’

কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় বলে আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, পরে ওই কিশোরী জীবিত ফেরার বিষয়টি বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চের নজরে আনলে আদালত এ বিষয়ে লিখিত আবেদন করতে বলেন।

সে অনুযায়ী আজ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আসাদ উদ্দিন, মো.জোবায়েদুর রহমান, মো. আশরাফুল ইসলাম, মো. আল রেজা আমির এবং মো.মিসবাহ উদ্দিনের পক্ষে রিভিশন  আবেদন করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।

এই আইনজীবী চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, ‘ওই কিশোরীর ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা আজ যে পদক্ষেপটা নিয়েছি, সেটি প্রচলিত কোন পদক্ষেপ নয়, এটি একটি ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ। কারণ, রিভিশন মামলা দায়ের করতে হয় সাধারণত কোনো রায় অথবা আদেশের বিরুদ্ধে।’

“কিন্তু আজকের রিভিশন আবেদনটি কোন রায় কিংবা আদেশের বিরুদ্ধে নয়, করা হয়েছে একটি ব্যতিক্রমী ঘটনার আইনী প্রেক্ষাপটে। যেহেতু আমারা জানি ব্যতিক্রমী ক্ষেত্রে হাইকোর্ট তার রিভিশনাল পাওয়ার প্রয়োগ করতে পারেন। সে অনুযায়ী কিশোরীর ঘটনার বিষয়টি নিয়ে হাইকোর্টে রিভিশন আবেদন করা হয়েছে।”