পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দেশটির ১৯৯২ বিশ্বকাপজয়ী ক্রিকেট দলের অধিনায়ক ইমরান খানের কারাবাস নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন তার দুই ছেলে সুলেমান খান ও কাসিম খান। তাদের দাবি, কারাগারে বাবাকে প্রচণ্ড মানসিক ও শারীরিক চাপের মধ্যে রাখা হয়েছে এবং তাকে হত্যার চেষ্টাও করা হচ্ছে।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পাকিস্তানের দ্বিতীয় টেস্ট চলাকালে লর্ডসে সাবেক ইংলিশ ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার মাইক আথারটনের নেয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব অভিযোগ করেন তারা। স্কাই স্পোর্টস বৃহস্পতিবার লর্ডসে দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম সেশনের পর মধ্যাহ্ন বিরতিতে সাক্ষাৎকারটি সম্প্রচার করে।
জানা গেছে, সাক্ষাৎকারটি প্রচার নিয়ে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) আপত্তি জানিয়েছিল। তবে সেই আপত্তি সত্ত্বেও পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী সাক্ষাৎকারটি সম্প্রচার করে স্কাই স্পোর্টস।
সাক্ষাৎকারে ইমরানের শারীরিক অবস্থা, কারাগারে তার জীবনযাপন, চিকিৎসা নিয়ে পরিবারের উদ্বেগ এবং স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগের সীমাবদ্ধতা নিয়ে কথা বলেন তার দুই ছেলে।
ইমরানের ছোট ছেলে কাসিম খান বলেছেন, ‘তারা এখন আর কোন কৌশলও অনুসরণ করছে না। তারা কী করছে, সেটিও পরিষ্কার নয়। স্পষ্টতই তাকে সেখানে হত্যার চেষ্টা চলছে। যতটা সম্ভব তাকে আটকে রাখা এবং তার কণ্ঠ স্তব্ধ করে দেয়াই যেন উদ্দেশ্য।’
কাসিমের দাবি, ইমরান দিনে ২৩ ঘণ্টারও বেশি সময় একটি ছোট কক্ষে একা থাকেন। সম্প্রতি পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের সময় ইমরান কারাগারের পরিস্থিতির অবনতি এবং অন্য রাজনৈতিক বন্দিদের সঙ্গে নিজের অবস্থার তুলনা করেছেন বলেও জানান তিনি।
ইমরানের চোখের সমস্যা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন কাসিম। তিনি জানান, ‘বাবার চোখে প্যাচ দেখা গেছে এবং তাকে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি চাপগ্রস্ত মনে হয়েছে।’
চিকিৎসা নিয়েও অভিযোগ করেন সুলেমান। তার দাবি, ‘ইমরানকে বেসরকারি হাসপাতালে নেয়ার কথা থাকলেও শেষপর্যন্ত সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রে কয়েক ঘণ্টার জন্য নেয়া হয়। স্বাধীন হাসপাতালের চিকিৎসক ও পরিবারের চিকিৎসক অপেক্ষায় থাকলেও তাকে সেখানে না নিয়ে আবার কারাগারে ফেরত পাঠানো হয়।’
ইমরানের দুই ছেলে আরও জানান, ‘পাকিস্তানে গিয়ে বাবার সঙ্গে দেখা করতে তারা ভিসা পাচ্ছেন না। ‘প্রযুক্তিগত কারণ’ দেখিয়ে তাদের ভিসা আটকে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।
ইমরানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের কাছে একাধিক চিঠিও পাঠানো হয়েছে। এসব উদ্যোগে সাবেক ইংলিশ ক্রিকেটার মাইকেল আথারটনসহ কয়েকজন সাবেক ক্রিকেট অধিনায়ক স্বাক্ষর করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
লর্ডসে সাক্ষাৎকার প্রচারের পর পাকিস্তান দল লাঞ্চের পর মাঠে ফিরতে অনীহা দেখিয়েছিল বলেও খবর আসে। পরে ইসিবির হস্তক্ষেপে তারা মাঠে ফেরে।









