মাঠের ক্রিকেটকে আরো আকর্ষণীয় করতে ও ভালোভাবে পরিচালনার জন্য নতুন কিছু নিয়মের চিন্তা-ভাবনা নিয়ে অনেক আগে থেকেই কাজ করে আসছে আইসিসি। সংস্থাটির ক্রিকেট কমিটির নতুন এক প্রস্তাবে তার কিছু বাস্তবায়নের সুপারিশও করা হয়েছে।
আইসিসির ক্রিকেট কমিটিতে অনিল কুম্বলের নেতৃত্বে আছেন রাহুল দ্রাবিড়, অ্যান্ড্রু স্ট্রাউস, মাহেলা জয়াবর্ধনে, ড্যারেন লেম্যান এবং কেভিন ও’ব্রায়েনের মতো সাবেক ও বর্তমান ক্রিকেটাররা। তারা সর্বশেষ প্রস্তাবে কিছু সিদ্ধান্তের সুপারিশ করেছেন ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির কাছে। নির্বাহী কমিটির সভায় প্রস্তাবিত সুপারিশের যেগুলো পাশ হবে, সেগুলো আগামী অক্টোবর থেকে কার্যকর করা হতে পারে।
এক নজরে ক্রিকেটে আসতে পারে যেসব নতুন নিয়ম-
লাল কার্ড: ফুটবলের ক্ষেত্রে কার্যকরী এই লাল কার্ড আইন ক্রিকেটেও আসতে পারে। আইসিসির ক্রিকেট কমিটি নতুন প্রস্তাবে আম্পায়ারদের এমন ক্ষমতা দেওয়ার কথা বলেছে। মাঠে অতি আক্রমণাত্মক ক্রিকেটারদের অসদাচরণের কারণে বের করে দেওয়ার ক্ষমতা প্রয়োগে আম্পায়ারদের কাছে থাকবে এই লাল কার্ড।
ডিআরএস: ডিসিশন রিভিউ সিস্টেম (ডিআরএস)’এ পরিবর্তন আসতে পারে। তাতে আম্পায়ার্স কলের বিপরীতে রিভিউ ডেকে কোন দল হেরে গেলে তাদের নির্ধারিত রিভিউটি নষ্ট হবে না। তারা আরেকবার রিভিউ নিতে পারবে। যেহেতু ‘আম্পায়ার্স কল’র ক্ষেত্রে মাঠের সিদ্ধান্ত উল্টো হলেই রিভিউ সঠিক হয়ে যেত, সেক্ষেত্রে রিভিউটি বাতিল হওয়া দুর্ভাগ্যজনক। তাই রিভিউতে সফল হলে তাদের নির্ধারিত রিভিউটি অক্ষত থাকবে। বর্তমান নিয়মানুযায়ী, টেস্টের প্রথম ৮০ ওভারে প্রতিটি দল দুটি করে রিভিউ নিতে পারে। ওডিআইতে ইনিংসে একটি করে। নতুন নিয়ম হলে, প্রতি ৮০ ওভারে নতুন দুটি রিভিউ পাওয়ার নিয়মটা বাতিল হয়ে পুরো ইনিংসেই শুধু দুটো রিভিউ থাকবে।
এলবিডব্লিউর নিয়মানুযায়ী মাঠের আম্পায়ার আউট ঘোষণা করার পর রিভিউ নিলে রিপ্লেতে যদি ‘বেনিফিট অব ডাউট’ অর্থাৎ এমন থাকে যে- আউট দিলেও দেয়া যায়, না দিলেও হয়; তখন থার্ড আম্পায়ার আউট ঘোষণা করেন। অর্থাৎ, মাঠের আম্পায়ারকে তিনি সমর্থন করেন। সেটি আরো কার্যকরী করবে নতুন সুপারিশ। সঙ্গে এখন পর্যন্ত টেস্ট এবং ওয়ানডেতে রিভিউ পদ্ধতি চালু থাকলেও টি-টুয়েন্টিতে নেই। কমিটির টি-টুয়েন্টিতেও রিভিউ চালু করার সুপারিশ করেছে। আবার টেস্টের প্রতি ইনিংসে রিভিউর সংখ্যাও বাড়তে পারে।
বদলি খেলোয়াড়: ক্রিকেটে আগেও একবার বদলি খেলোয়াড়ের নিয়ম চালু করা হয়েছিল। তবে এবারেরটি হবে সম্পূর্ণ ভিন্ন। মাথায় আঘাত পেয়ে কোন ক্রিকেটার মাঠ ছাড়লে, তার বদলি হিসেবে নতুন একজনকে নামানোর নিয়ম করতে সুপারিশ এসেছে কমিটির থেকে। নিয়মটি দুই বছরের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে চালু করার কথা বলেছে কমিটি।
রান আউট: সংশোধন আসতে পারে রান আউটের নিয়মেও। চলতি নিয়মে ব্যাটসম্যান ক্রিজ পার হয়েও পা ও ব্যাট দুটোই বাতাসে রাখলে, তখন স্টাম্প ভেঙে দিলে সেটা রান আউট। নতুন নিয়মে ব্যাট বা পা একবার ক্রিজ অতিক্রম করলেই আর রান আউট হবে না।
নো বল: এক্ষেত্রে টিভি আম্পায়ারের ক্ষমতা বাড়ানোর প্রস্তাব এসেছে। এখন মাঠের আম্পায়াররা ব্যাটসম্যান আউট হলেই কেবল রিপ্লেতে দেখে নেন যে বলটা নো ছিল কিনা, নতুন প্রস্তাবে বল ডেলিভারির সঙ্গে সঙ্গেই রিপ্লে দেখে তৃতীয় আম্পায়ার সিদ্ধান্ত জানাতে পারবে।
ব্যাটের পুরুত্ব: নতুন সুপারিশে একটি নির্দিষ্ট মাত্রার বেশি পুরু ব্যাট ব্যবহারের ওপর কড়াকড়ি আসতে যাচ্ছে।










