চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

কাশ্মীর নিয়ে বিশ্বের উদাসীনতায় ‘হতাশ’ ইমরান

ভারত শাসিত জম্মু-কাশ্মীর ইস্যুতে বিশ্বনেতারা উদাসীন অভিযোগ করে তাদের আচরণে হতাশা প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৭৪তম অধিবেশনে দেয়া ভাষণে তিনি বলেন, প্রায় ৮০ লাখ কাশ্মীরি সেখানে ‘খোলা আকাশের নিচে কারাগারে’ বন্দী অবস্থায় চরম দুর্দশায় দিন কাটাচ্ছে।

পাকিস্তানের গণমাধ্যম ডন জানায়, কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে ভারতের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধের বিষয়ে আবারও সতর্ক করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী। অধিবেশন শেষে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সামনে ইমরান খান কাশ্মীরের হিমালয়ান অঞ্চলে ভারতের নৃশংস কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরেন।

কারফিউ উঠিয়ে নেয়া হলে কাশ্মীরে স্থানীয় অধিবাসীদের ওপর হত্যাযজ্ঞ চালানো হবে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন ইমরান। কাশ্মীরে রক্তপাত বন্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বিশ্বনেতাদের প্রতি জোর আহ্বান জানান।

গত ৫ আগস্ট জম্মু-কাশ্মীরকে বিশেষ মর্যাদা দেয়া ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয় দেশটির সরকার। এরপর থেকে সেখানে টেলিযোগাযোগ থেকে শুরু করে নানা ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। পরে কিছু অবরোধ তুলে নেয়া হলেও বিভিন্ন এলাকায় দফায় দফায় কারফিউ চলছে।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে ইমরান খান বলেন, তার কাছে নিউইয়র্কে বসবাস করা এমন বহু মানুষ এসে অভিযোগ করেছেন যে, তারা ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর এলাকায় থাকা তাদের পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না।

‘আমরা জানি সেখানে গণগ্রেপ্তার হয়েছে। আমরা জানি কাশ্মীরের পুরো নেতৃত্ব – এমনকি যে নেতারা ভারতপন্থি – তারাও এখন ভারতেরই কোনো কারাগারে বন্দী,’ বলেন তিনি।

‘আমরা জানি কিশোর ও তরুণদের ঘর থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। হাসপাতালগুলোও সেখানে ঠিকঠাক কাজ করছে না। এখানে আমার আসার মূল উদ্দেশ্য ছিল এই বিষয়গুলো তুলে ধরা। বর্তমান সময়ে এটি নজিরবিহীন ও অনাকাঙ্ক্ষিত।’

ইমরান খান বলেন, কাশ্মীর ইস্যু দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়, ভারত সরকারের এমন দাবি করা এবং বিশ্বনেতাদের ভারতের সেই কথা মেনে বসে থাকাটা ‘অর্থহীন’।

তিনি মনে করিয়ে দেন, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ১১টি নীতিমালার মাধ্যমে কাশ্মীরকে একটি বিতর্কিত অঞ্চলের স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। যার অর্থ হলো, কাশ্মীরের অবস্থা ও অবস্থান কী হবে তা গণভোটের মাধ্যমে নির্ধারণ করার অধিকার কাশ্মীরের জনগণের আছে।

বিজ্ঞাপন