চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনা: দেশেই প্রথমবারের মতো উৎপাদন হচ্ছে ভেন্টিলেটর

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের বেশিরভাগই মারা যাচ্ছে শ্বাসকষ্টে। এই শ্বাসকষ্ট স্বাভাবিক রাখার কাজটি সহজ করে দেয় ভেন্টিলেটর নামের এক ধরনের যন্ত্র। কিন্তু বিশ্বব্যাপী করোনার প্রকোপ মহামারি আকার ধারণ করায় যন্ত্রটির ব্যাপক ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এমতাবস্থায় বাংলাদেশে যন্ত্রটি উৎপাদন করতে যাচ্ছে দেশিয় ইলেকট্রনিক পণ্য উৎপাদনকারী কোম্পানি ওয়ালটন। সপ্তাহখানেকের মধ্যেই তারা উৎপাদনে যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন

চীন থেকে উৎপত্তি হলেও বর্তমানে সারাবিশ্বেই ছড়িয়ে পড়েছে করোনাভাইরাসের আঘাত। তাই সব দেশেই অক্সিজেন সরবরাহ যন্ত্রের (ভেন্টিলেটর) ব্যাপক ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ফলে এর চাহিদা বেড়েছে ব্যাপক। এই যন্ত্রটা এখন বিশ্বের কোন দেশে পাওয়া যাচ্ছে না। পাওয়া গেলেও এর দাম নেয়া হচ্ছে অত্যন্ত চড়া।

বিজ্ঞাপন

জানা গেছে, বাংলাদেশের ইলেক্ট্রনিক পণ্য উৎপাদনকারী কোম্পানি ওয়ালটন প্রথমবারের মতো এই ভেন্টিলেটর যন্ত্র উৎপাদন করতে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করে রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি।

এই বিষয়ে চ্যানেল আই অনলাইনের সাথে কথা বলেন ওয়ালটন গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক উদয় হাকিম।

তিনি বলেন: আমাদের ধারণা বাংলাদেশে যদি এই রোগ মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ে তাহলে আক্রান্ত রোগীদের বাঁচানোর একমাত্র উপায় হচ্ছে এই ভেন্টিলেটর। যার মাধ্যমে ফুসফুসে অক্সিজেন সরবরাহ করা হয়। মূলত অক্সিজেন সংকটে এই রোগে মানুষ মারা যাচ্ছে বেশি। দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে মানবিক দিক চিন্তা করেই ওয়ালটন এমন উদ্যোগ নিয়েছে।

“আমাদের অনেক কাঁচামাল আছে। দেশ সেরা ইঞ্জিনিয়ারও আছে। সব মিলিয়ে আমি মনে করি, ভেন্টিলেটর উৎপাদন করার মতো আমাদের সক্ষমতা রয়েছে। সে কারণে উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়েছি।”

উদয় হাকিম বলেন, ‘আমাদের সব আয়োজন প্রস্তুত। যেকোনো সময় উৎপাদনে যেতে পারি। তবে উৎপাদনে যাওয়ার আগে ডিজাইন, গবেষণা এবং উন্নয়ন বিষয়ে কিছু কাজ রয়েছে। এগুলা যাচাই-বাছাই করে উৎপাদনে যাওয়া হবে। আমরা যে উৎপাদনে যাচ্ছি সেই ঘোষণা হয়তো ২/১ দিনের মধ্যেই দেয়া হতে পারে।’

বিজ্ঞাপন

উৎপাদন করা হলে ওয়াল্টনের ভেন্টিলেটরের দাম কেমন হতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন: যেহেতু আমাদের সস্তা শ্রম, নিজস্ব প্রকৌশলী রয়েছে, উত্তম ব্যবস্থাপনা ও কাঁচামাল রয়েছে; সেক্ষেত্রে আমরা বলতে পারি যে, দাম হাতের নাগালে থাকবে।

দামের বিষয়ে আরো আশ্বস্ত করে ওয়ালটনের এই নির্বাহী পরিচালক বলেন: আমাদের উৎপাদন খরচ কম হবে। অধিক মুনাফার উদ্দেশ্য থাকবে না। বর্তমানে এর প্রয়োজন অনেক বেশি। এখন মানবকল্যাণের বিষয়টাকে গুরুত্ব দিতে হবে বেশি। এ বিষয়টাকে মাথা রেখেই এই পণ্য উৎপাদনে যাচ্ছি। তাই দাম খুব বেশি হবে বলে মনে হচ্ছে না।

কবে নাগাদ চূড়ান্ত উৎপাদন হতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন: এটা উচ্চ প্রযুক্তি পণ‌্য। বিষয়টা সময়সাপেক্ষ। তবে অন‌্যদের যেখানে এক বছর লাগবে, ওয়ালটন সেটা এক মাসে সম্ভব করবে। সব ঠিকঠাক থাকলে আশা করি শিগগিরই উৎপাদনে যাব আমরা।

তবে কী পরিমাণে উৎপাদন করা হবে তার কোনো ধারণা এই মূহুর্তে দেননি তিনি। এক্ষেত্রে উদয় হাকিম বলেন: চাহিদা, কাঁচামাল ও সক্ষমতার উপরই নির্ভর করবে কী পরিমাণ উৎপাদন করতে হবে।

ভেন্টিলেটর কী? এর কাজ কী?
সহজভাবে বললে, এটি এমন এক যন্ত্র; যা রোগীর ফুসফুস যদি কাজ না করে তাহলে রোগীর নিঃশ্বাস-প্রশ্বাসের কাজটা করে দেয়। অর্থাৎ ফুসফুসে পানি জমে গেলে সেখানে অক্সিজেন সরবরাহের কাজটি করে ভেন্টিলেটর। এর মাধ্যমে সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়তে এবং পুরোপুরিভাবে সেরে উঠতে রোগী কিছুটা সময় পান।

অর্থাৎ রোগীর ফুসফুস কাজ না করলে রোগীর নিশ্বাস-প্রশ্বাসের কাজটা ভেন্টিলেটর করে দেয়।
রোগীর দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা যখন ব্যাপারটা টের পায় তখন রক্তের শিরা-উপশিরাগুলোকে বেশি করে খুলে দেয়- যাতে রোগ প্রতিরোধকারী কণিকাগুলো আরও বেশি হারে ফুসফুসে ঢুকতে পারে।

কিন্তু এর ফলে ফুসফুসের ভেতরে পানি জমে যায়। তখন রোগীর নিঃশ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা শুরু হয়। এবং দেহে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যায়।এই সমস্যা দূর করার জন্য যান্ত্রিক ভেন্টিলেটর ব্যবহার করো হয়।

এটি চাপ দিয়ে ফুসফুসে বাতাস ঢোকানো হয়। তখন দেহে অক্সিজেনের সরবরাহ বেড়ে যায়। এতে রোগী স্বাভাবিক শ্বাসপ্রশ্বাস নিতে পারে।

বাংলাদেশে কতগুলো ভেন্টিলেটর আছে?
সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন: দেশে প্রায় ৫শ’ ভেন্টিলেটর রয়েছে। আরও ২৫০টি ভেন্টিলেটর বিদেশ থেকে আনা হচ্ছে। সেগুলো আসলে দেশে মোট ভেন্টিলেটরের সংখ্যা দাঁড়াবে ৭৫০টি। যদিও বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় এই সংখ্যা খুবই নগন্য।