চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনায় বিপর্যয়ের মাঝেও মোদির ১.৮ বিলিয়ন ডলারের ‘স্বপ্নের প্রকল্প’, বিরোধীদের ক্ষোভ

করোনাভাইরাস মহামারীতে পুরোপুরি বিপর্যস্ত ভারত। হাসপাতালে হাসপাতালে মৃত্যুর মিছিল। এমন ঘোর দুর্দিনেও চলছে ভারতের নতুন সংসদ ভবন নির্মাণ (সেন্ট্রাল ভিস্তা) প্রকল্পের কর্মযজ্ঞ। ৪৭ হাজারের অধিক লোক এই প্রকল্প নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত থাকছে, যারা তীব্র সংক্রমণের ঝুঁকিতে রয়েছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ১.৮ বিলিয়ন ডলারের ‘স্বপ্নের প্রকল্প’ নিয়ে তৈরি হয়েছে বিরোধীদের মাঝে ক্ষোভ।  এমন ভয়াবহ সময়ে কেন নির্মাণ প্রকল্প চলতে হবে-তা নিয়ে সমালোচনা চলছে। এখানেই থেমে নেই, এ ঘটনা আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে।

মহামারীর এই দু:সময়ে নতুন সংসদ ভবন তৈরির প্রক্রিয়া স্থগিত করতে মামলা দায়ের করা হয়েছে সুপ্রিমকোর্টে৷ সেই মামলা শুনানিও হয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত৷

সিএনএন বলছে, এর আগে দিল্লী হাইকোর্টেও একই দাবিতে মামলা করা হয়েছিল ৷ কিন্তু আগামী ১৭ মে পর্যন্ত সেই মামলার শুনানি স্থগিত করে দেয় দিল্লী হাইকোর্ট ৷ এরপর এই বিষয়ে প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয় ৷ দুই মামলাকারীর হয়ে আদালতের সামনে মামলাটি উপস্থাপিত করেন প্রবীণ আইনজীবী সিদ্ধার্থ লুথরা৷

বিজ্ঞাপন

সেন্ট্রাল ভিস্তা বা নতুন সংসদ ভবন তৈরি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘স্বপ্নের প্রকল্প’৷ মহামারী পুরো দেশের অর্থনীতির গ্রাফ যখন ক্রমশ নিম্নমুখী, ঠিক তখনই এই প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। পরে তা কতোটা যুক্তিযুক্ত, সে বিষয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে৷ সেই প্রশ্ন আরও জোরদার হয় করোনা সংক্রমণ বেড়ে গেলে৷

প্রথম  লকডাউনের পর স্বাভাবিক পরিস্থিতি সামলাতে না সামলাতেই  এসে পড়ে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ। অক্সিজেনের অভাবে শুরু হয় হাহাকার৷ পর্যাপ্ত ওষুধ ও টিকা না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ে জনতা৷ তারপরও নতুন সংসদ ভবন তৈরির সিদ্ধান্ত থেকে সরেনি নরেন্দ্র মোদির সরকার৷

এমনকি, মহামারীর লকডাউন জারি হলেও যাতে সেন্ট্রাল ভিস্তার নির্মাণকাজ বন্ধ না হয়, সেই রাস্তা পাকা করা হয়েছে৷ ২০ হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্পকে ‘জরুরি পরিষেবা’ হিসাবে ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় সরকার।

ফলে এই ঘটনা ক্ষুব্ধ বিরোধীরা৷ কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধি থেকে শুরু করে অন্যান্য বিভিন্ন দলের নেতানেত্রীরা এই বিষয়ে কেন্দ্রের ভূমিকার সমালোচনা করেছেন ৷ সমালোচনা করা হয়েছে সমাজের অন্যান্য স্তর থেকেও ৷ কিন্তু থেমে রাখা যাচ্ছে না প্রকল্প নির্মাণ কাজ।

বিজ্ঞাপন