চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনার ভয়াবহ তাণ্ডবে একদিনে মৃত্যু ও শনাক্তের রেকর্ড

কয়েকটি দেশে করোনা ভ্যাকসিনের পরীক্ষামূলক ব্যবহারের মধ্যে বুধবার ভাইরাসটির ভয়াবহ তাণ্ডব দেখেছে বিশ্ব। শেষ ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ মৃত্যু ও আক্রান্ত শনাক্তের রেকর্ড হয়েছে।  

ওয়ার্ল্ডোমিটার জানিয়েছে, বিশ্বজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণ করেছে ১৩ হাজার ৪৪৬ জন মানুষ। যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। এর আগে গত ১০ ডিসেম্বর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড ছিল ১২ হাজার ৯৪৯ জন।

বিজ্ঞাপন

মৃত্যুর পাশাপাশি এই সময়ে আক্রান্ত শনাক্তের সংখ্যাতেও সর্বোচ্চ রেকর্ড হয়েছে। সারাবিশ্বের আক্রান্ত হয়েছে ৭ লাখ ১৪ হাজার ৯০৮ জন। গত ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত একদিনে রেকর্ড ছিল ৭ লাখ ১২ হাজার ২৪২ জন।

সর্বশেষ পরিসংখ্যানের হিসাবে এই ভাইরাসে মোট মৃতের সংখ্যা ১৬ লাখ ৫৫ হাজার ছাড়িয়েছে। আর আক্রান্ত হয়েছে ৭ কোটি ৪৫ লাখ ২৬ হাজারের বেশি মানুষ।

বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত একদিনের ব্যবধানে  আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা ভয়াবহভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। একদিনে দেশটিতে ২ লাখ ৪৬ হাজার আক্রান্তের মধ্য দিয়ে দেশটিতে মোট আক্রান্ত ১ কোটি ৭৩ লাখ ৯২ হাজারের বেশি মানুষ।

আর ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে মৃত্যুবরণ করেছে ৩ হাজার ৪৮৬ জন। মোট মৃতের সংখ্যা ৩ লাখ ১৪ হাজার ছাড়িয়েছে। একদিনে ১ লাখ ১৩ হাজারের বেশি রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে।

ভারতে মোট আক্রান্ত প্রায় কোটির কাছাকাছি। দেশটিতে একদিনে মৃত্যু হয়েছে ৩৫৭ জন।

বিজ্ঞাপন

পরিসংখ্যান বলছে দ্বিতীয় ধাক্কায় গত তিন মাসের পর মৃত্যু এবং আক্রান্ত আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে  ব্রাজিলে। দেশটিতে ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছে ৯৬৮জন।

তবে এরচেয়ে আশঙ্কার খবর জানিয়েছে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম। তাদের দাবি সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় আইসিইউ বেড আর খালি নেই ইটালিতে। একই অবস্থা সুইজারল্যান্ডেও।

ইটালির মতো সংক্রমণ বেড়েছে ইউরোপের আরেক দেশ জার্মানিতেও। ইটালিতে একদিনে মৃত্যু ৬৮০, জার্মানিতে ৭৪৯, মেক্সিকোতে ৮০১, পোলান্ডে ৬০৫, যুক্তরাজ্যে ৬১২, ফ্রান্সে ২৮৯ জন।

গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের উহানে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। চীনে করোনায় প্রথম কোনো রোগীর মৃত্যু হয় চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি। তবে তার ঘোষণা আসে ১১ জানুয়ারি।

চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি চীনের বাইরে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় থাইল্যান্ডে। পরে বিভিন্ন দেশে করোনা ছড়িয়ে পড়ে।

করোনার প্রাদুর্ভাবের পরিপ্রেক্ষিতে ৩০ জানুয়ারি বৈশ্বিক স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। ২ ফেব্রুয়ারি চীনের বাইরে করোনায় প্রথম কোনো রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটে ফিলিপাইনে।

১১ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা করোনাভাইরাস থেকে সৃষ্ট রোগের নামকরণ করে কোভিড-১৯। ১১ মার্চ করোনাকে বৈশ্বিক মহামারি ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।