চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনার দুঃসময়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের প্লাজমা ব্যাংক

বিশ্ব মহামারী করোনাভাইরাস সমগ্র পৃথিবীর অনেক দেশের মতো বাংলাদেশও আক্রান্ত। শুরুতে এ ভাইরাস নিয়ে কাজ করে আতঙ্ক ও ভয়। কোনো চিকিৎসা না থাকায় মানুষ সমাধান খুঁজতে থাকে বিকল্প সব চিকিৎসা পদ্ধতিতে।

এমনই পরিস্থিতিতে চিকিৎসাহীন এই রোগের জন্য জনপ্রিয় হয়ে উঠে প্রাচীন পদ্ধতি “প্লাজমা থেরাপি।

বিজ্ঞাপন

করোনা আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হয়েছেন এমন কারো রক্তের প্লাজমা আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে দেয়ার নাম প্লাজমা থেরাপি।

বিজ্ঞাপন

করোনা থেকে সুস্থ হওয়ার অন্তত ১৪ দিন পার হলে, এন্টিবডি তৈরি হওয়ার পর শারীরিকভাবে উপযুক্ত হলে যে কেউ করোনা রোগীকে প্লাজমা দান করতে পারেন।

কিন্তু বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে মুমূর্ষু রোগীর পরিবারের জন্যে প্লাজমা সংগ্রহ করাটা বিরাট এক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দেয়।

সেই চ্যালেঞ্জকে সহজ করে দিতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মিলে গড়ে তুলেছেন প্লাজমা ব্যাংক, বাংলাদেশ (কোভিড-১৯) নামের স্বেচ্ছাসেবী ফেসবুক গ্রুপ।

গত ৩০ মে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো: ইসতিয়াক উদ্দিন রোগীর পরিবারকে সহযোগিতা করার চিন্তা থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ ফেসবুক গ্রুপ খুলেন।

জরুরি মুহুর্তে মুমূর্ষু রোগীদের কীভাবে প্লাজমা সংগ্রহ করে দেয়া যায় সেটাই ছিলো তার প্লাজমা গ্রুপ খোলার লক্ষ্য।।

বিজ্ঞাপন

করোনা আক্রান্ত থেকে সুস্থ হয়ে ইসতিয়াক প্রথমে নিজেই দান করেন প্লাজমা৷ এভাবেই যাত্রা। প্রথমদিকে একা লড়তে গিয়ে হিমশিম খেতে হয়েছে তাকে। গ্রুপের মাধ্যমে দিন দিন প্লাজমা সংগ্রহ করে মুমূর্ষু রোগীদের সেবা দেয়ার পরিমাণটা বেড়ে যায়।

গ্রুপের কার্যাবলী ছড়িয়ে পড়ে দেশের নানা প্রান্তে। ফেসবুক গ্রপে প্রতিনিয়ত আসতে থাকে প্লাজমা চেয়ে পোস্ট। আসতে থাকে ফোনের পর ফোন।ফলে এর ব্যাপ্তি বাড়াতে ইসতিয়াক সারাদেশ থেকে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করেন। সারাদেশ থেকে তরুণরাও ব্যাপক সাড়া দেন দু:সময়ে মানুষের পাশে থাকার জন্য।

বর্তমানে এই গ্রুপে কাজ করছেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ এবং জেলার ৭১ জন তরুণ, যাদের নিয়ে প্লাজমা ব্যাংক ফেসবুক গ্রুপ থেকে গঠন করা হয় “টিম-৭১”।

প্রতিনিয়ত নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে যাচ্ছেন “টিম-৭১” এর সকল স্বেচ্ছাসেবক।

“টিম-৭১” নাম দেয়ার পেছনে কারণ জিজ্ঞেস করলে ইসতিয়াক জানান, ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধসহ জাতির সকল অর্জনে শিক্ষার্থীসহ তরুণদের ভূমিকাই ছিল মুখ্য। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হওয়া এই তরুণরা করোনাযুদ্ধ মোকাবেলা করে যাচ্ছে শুরু থেকেই। সেই চেতনা থেকেই এই নামটি দেয়া। আমরা তরুণরা আশাবাদী এই করোনা মোকাবেলায় খুব দ্রুত সফলতা পাবো।

স্বেচ্ছাসেবক ছাড়াও তাদের সাথে যুক্ত পুলিশের অনেক কর্মকর্তা ও সদস্য সহ ১০ জন অভিজ্ঞ ডাক্তার।

প্লাজমা ব্যাংক ফেসবুক গ্রুপ প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিগত ৯০ দিনে তারা এই গ্রুপের মাধ্যমে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ২৬৫ জন কোভিড রোগীকে প্লাজমা ও ১১০ জন সাধারণ রোগীকে রক্ত দান সহ সর্বমোট ৩৭৫ জন রোগীকে ডোনেট করতে পেরেছে।

এ গ্রুপের সহায়তায় অনেকেই প্লাজমা থেরাপি গ্রহণ করে সুস্থ হয়ে উঠেছেন৷