চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনাভাইরাস: মৃত্যুর মিছিল কত লম্বা হলে সচেতন হবো?

করোনা একদিন হয়তো স্বাভাবিক হয়ে যাবে আমাদের কাছে। অন্য দু’য়েকটা ঘাতক ব্যাধির মতোই করোনা পৃথিবীতে থেকে যাবে, এটা মোটামুটি নিশ্চিত করে বলা যায়। তবে সহজে এ অসুখ নির্মুল হবে না। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা থেকে শুরু করে অনেক গবেষণায় এটা উঠে এসেছে।

আস্তে আস্তে পৃথিবী থেকে লকডাউন উঠে যাবে। অফিস আদালত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে যাবে বিধিসম্মতভাবে। স্কুল, কলেজ আবার শিক্ষার্থীদের কলকাকলিতে মুখর হয়ে উঠবে। তবে, সেদিন আসতে একটু সময় হয়তো লাগবে। তার আগে আমাদের কঠিন প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে। নিয়মের বেড়াজালে আবদ্ধ থাকতে হবে। নইলে অবধারিত মৃত্যুকে হয়তো মেনে নিতে হবে।

বিজ্ঞাপন

আগের সেই স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে ঠিক কতদিন, কত বছর লাগবে- সেটা হলফ করে বলা যাবে না।

বিজ্ঞাপন

ঈদের দিন বা তার দুএকদিন আগে থেকে ঢাকা শহরের পাড়া মহল্লায় মানুষের ভেতরে যেন উৎসব দেখা গেল। কোনো প্রকার সামাজিক দূরত্ব তো নেই, বরং মনে হচ্ছিল যুদ্ধ করার পর বিজয়ী হবার যে আনন্দ সে রকম এক পরিবেশ।

এ বিষয়টি দেখা গেছে সেইসব এলাকায় বেশি, যেসব এলাকায় করোনাক্রান্তের সংখ্যা শূন্যের কোঠায় বা করোনাক্রান্ত হয়ে কেউ মারা যায়নি। এসব এলাকার শিশুকিশোর, তরুণ-যুবক থেকে বয়স্কদের ভেতর যেন কোনো প্রকার ভয়ভীতি নেই। করোনাভাইরাস যেখানে বিশ্বব্যাপী মহামারির মত ছড়িয়ে পড়েছে সেখানে কোনো প্রকার মাস্ক ছাড়াই রাস্তায় গোল হয়ে দাড়িয়ে গল্পগুজব করছে তারা। সামাজিক দূরত্ব কী জিনিস তারা কোনোকালেই মনে হয় শোনেনি।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে একজন শিক্ষকের অভিমত এ রকম: কোনো পাড়ায় করোনাক্রান্ত হয়ে যদি দু’চারজন মারা গেছে, বা করোনাক্রান্ত হয়ে মৃত ব্যক্তির লাশ কেউ ভয়ে ধরছে না, জানাজা হচ্ছে না, এরকম অবস্থা যতক্ষণ পর্যন্ত কেউ না দেখবে ততক্ষণ পর্যন্ত কারো ভেতর সচেতনতা তৈরি হবে না। করোনাকে বৃদ্ধাঙুল তারা দেখিয়েই যাবে।

কথাটা নির্মম মনে হলেও এর ভেতরে কঠিন সত্য লুকানো আছে। সেটি হলো যার পরিবারের কোনো সদস্য করোনায় মারা গেছে সেই ব্যাক্তিই কেবল বোঝেন করোনা কতটা ভয়ঙ্কর ভাইরাস। আরো সহজ করে বলা যায়-যার যায় সেই বোঝে কষ্ট। তা হলে আমরা কবে সচেতন হবো?

করোনা ভয়ঙ্কর, আবার প্রত্যেকটি মানুষ একটু সচেতন হলে এর থেকে সহজেই দূরে থাকা সম্ভব। আমরা কি তা হলে ততক্ষণ পর্যন্ত করোনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাবো যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের কাছের কেউ মৃত্যুর মিছিলে নাম না লেখাবে? আমরা কি সন্ধ্যার পরে পাড়ার চায়ের দোকানে আড্ডা দিতেই থাকবো সামাজিক দূরত্ব না মেনে? যার প্রিয়জন করোনায় মারা গেছে তার কষ্ট না দেখা পর্যন্ত বা তার কষ্টে কষ্ট না পাওয়া পর্যন্ত আমরা কি সামাজিক দূরত্ব না মেনে চলাফেরা করতেই থাকবো।

মৃত্যুর মিছিল কত লম্বা হওয়ার পর আমরা সচেতন হবো?

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)