চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনাভাইরাস: বিশ্বব্যাপী মৃত্যু প্রায় তিন লাখ

করোনাভাইরাস মহামারীতে বৈশ্বিক মৃত্যু তিন লাখ (২ লাখ ৯৮ হাজার ১৬৫) ছুঁই ছুঁই করছে। আক্রান্তের সংখ্যা গতকাল সাড়ে ৪৪ লাখ ছাড়িয়েছে। এসময় সুস্থ হয়েছেন ১৬ লাখ ৫৮ হাজারের বেশি মানুষ।

এর মধ্যে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যায় শীর্ষে থাকা যুক্তরাষ্ট্রেই ৮৫ হাজার মানুষ মারা গেছেন; আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ১৫ লাখ। চীনের উহান শহরে প্রথমবারের মতো এই ভাইরাসটি শনাক্তের সাড়ে চার মাসের মাথায় বৈশ্বিক এ পরিস্থিতি দাঁড়িয়েছে।

বিজ্ঞাপন

পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গত ২০ দিনে বিশ্বে করোনায় এক লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে ১৮ দিনে একই পরিমাণ মানুষের মৃত্যু হয়। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, গত কয়েক দিন ধরে বৈশ্বিক মৃত্যুর হার কমতে শুরু করেছে।

গত ৩১ ডিসেম্বর উহানে নতুন করোনাভাইরাস শনাক্তের কথা জানায় চীন। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, সেখানকার একটি বন্য প্রাণীর বাজার থেকে ভাইরাসটি মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। তবে এখনও ভাইরাসটির উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। মেলেনি কোনো কার্যকর প্রতিষেধক।

তবে এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশে সংকটাপন্ন রোগীদের ক্ষেত্রে ইবোলার ওষুধ ‘রেমডেসিভির’ কোভিড-১৯ রোগে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে ৩৩ হাজারের বেশি মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধে গত ২৩ মার্চ থেকে সেখানে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছিল।দেশটিতে ২৪ ঘণ্টায় করোনায় প্রাণহানি ঘটেছে ৪৯৪ জন।

গতকাল প্রকাশিত মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) তালিকায় দেখা গেছে, ফেব্রুয়ারির তুলনায় মার্চে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হ্রাস পেয়েছে। পুরো মাস লকডাউনে থাকায় এপ্রিলের চিত্র আরও ভয়াবহ।

বিজ্ঞাপন

আধা স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল স্কটল্যান্ড, ওয়ালস ও নর্দান আয়ারল্যান্ড অবশ্য এখনও নাগরিকদের বাড়িতে থাকার বার্তা দিয়ে যাচ্ছে। তবে সবচেয়ে জনবহুল ইংল্যান্ডে জনগণকে কাজে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয়দের সম্ভব হলে গণপরিবহন এড়িয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। স্কুলগুলো অবশ্য এখনো বন্ধ রাখা হয়েছে। সরকারের জারি করা নতুন নির্দেশনায় পার্কে প্রাতঃ বা সান্ধ্য ভ্রমণ, পার্কে বন্ধুর সঙ্গে দেখা করা এবং বাড়ি বদলানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

করোনাভাইরাস মোকাবেলা ও অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে ২০ লাখ কোটি রুপির বিশেষ আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। যা ভারতের জিডিপির প্রায় ১০ শতাংশ।দেশটিতে একদিনে মারা গেছে ১৩৬ জন।এবং আগামী ১৭ মে শেষ হচ্ছে ভারতের তৃতীয় দফার লকডাউন।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যের পর ব্রাজিলে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড। ব্রাজিলে একদিনে করোনায় ৭৫৪ জনের প্রাণহানি হয়েছে।এ নিয়ে ব্রাজিলে করোনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে মোট ১৩ হাজার ১৫৮ জনে এবং আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে এক লাখ ৮৯ হাজার ১৫৭ জনে দাঁড়িয়েছে।

করোনায় মৃত্যু ও আক্রান্তের দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইতালি, ফ্রান্স ও স্পেনের পর ষষ্ঠ সর্বোচ্চ ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হচ্ছে ব্রাজিল।

বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, ব্রাজিলে করোনাভাইরাসে প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা অনেক বেশি হতে পারে। কারণ দেশটিতে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম পরীক্ষা করা হচ্ছে। গত সপ্তাহে প্রকাশিত এক জরিপে বলা হয়, ব্রাজিলে সরকারিভাবে ঘোষিত সংখ্যার চেয়ে দেশটিতে করোনায় প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা ১৫ গুণ বেশি হতে পারে।

করোনায় মৃত্যু ঝুঁকিতে যোগ হওয়া নতুন দেশটি হচ্ছে মেক্সিকো। দেশটিতে একদিনে করোনায় মৃত্যুবরণ করেছেন ৩৫৩জন। মোট আক্রান্ত এবং মৃত্যুর সংখ্যা ৩৮ হাজার ৩২৪ এবং প্রায় ৪ হাজার।

এর আগে চীনের উহানে ভাইরাসটি মহামারি রূপ পায়। মাসখানেক আগে দক্ষিণ এশিয়ার দেশটি করোনাকে একেবারে নিয়ন্ত্রণে আনে। এখন দ্বিতীয় দফায় ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় সতর্কতা অবলম্বন করছে বেইজিং। এ দফায় উহানের একটি আবাসিক এলাকায় গুচ্ছ সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে।