চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনাভাইরাস: নগদ টাকার সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ

ব্যাংকে নগদ টাকার সরবরাহ বাড়াতে বিশেষ ছাড় দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এরই অংশ হিসেবে এক শতাংশ কমানো হয়েছে ব্যাংকগুলোর নগদ জমা সংরক্ষণ বা সিআরআর (ক্যাশ রিজার্ভ রিকোয়ারমেন্ট)।

এছাড়াও রেপো বা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে স্বল্প মেয়াদে ধারের (পুনঃক্রয় চুক্তি) সুদহার কমানো হয়েছে বেসিস পয়েন্ট ৫০ শতাংশ।

বিজ্ঞাপন

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংকের রেপো সুদহার বিদ্যমান বার্ষিক ৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ থেকে দশমিক ৫০ শতাংশ কমিয়ে ৫ দশমিক ২৫ শতাংশ করা হয়েছে। এছাড়া সিআরআর বা নগদ জমা সংরক্ষণের হার এক শতাংশ কমিয়ে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতি বিভাগের আলাদা দু’টি সার্কুলারের মাধ্যমে ব্যাংকগুলোকে এ তথ্য জানিয়ে দেয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

করোনা ভাইরাসের কারণে অর্থনৈতিক ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার ৫টি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। এর মধ্যে ২টি প্যাকেজের আওতায় এসএমএমই, শিল্প ও সেবা খাতে ৫০ হাজার কোটি টাকার ঋণ দিতে হবে ব্যাংকগুলোর নিজস্ব উৎস থেকে। এক্ষত্রে সরকার সুদ ভর্তুকী দেবে। ব্যাংকগুলোর যেন কোনো সমস্যা না হয় টাকা বাড়াতে তাই এসব ছাড় দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

আমানতকারীদের সুরক্ষার লক্ষ্যে প্রতিটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের মোট তলবি ও মেয়াদি দায়ের একটি অংশ বাংলাদেশ ব্যাংকে সংরক্ষণ করতে হয়। এর মধ্যে একটি অংশ রাখতে হয় নগদে যাকে সিআরআর বলে। বাকি অংশ রাখতে হয় বিভিন্ন বিল ও বন্ডের বিপরীতে। ২টি মিলে গত ১ এপ্রিল থেকে প্রচলিত ধারার সুদ ভিত্তিক ব্যাংকগুলোকে ১৮ শতাংশ এবং ইসলামি ব্যাংকগুলোকে সাড়ে ১০ শতাংশ হারে সংরক্ষণ করতে হচ্ছে। আরও এক শতাংশ কমায় এখন থেকে প্রচলিত ধারার ব্যাংকগুলোকে ১৭ এবং ইসলামি ব্যাংকগুলোকে সাড়ে ৯ শতাংশ হারে সংরক্ষণ করতে হবে। গত জানুয়ারি পর্যন্ত ব্যাংকগুলোর মোট তলবি ও মেয়াদি দায়ের পরিমাণ ছিল ১১ লাখ ৩৭ হাজার ৮৮৫ কোটি টাকা।

আজ প্রকাশিত বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, গত ১ এপ্রিল থেকে ব্যাংকগুলোকে দ্বি সাপ্তাহিক ভিত্তিতে মোট তলবি ও মেয়াদি দায়ের ন্যূনতম ৫ শতাংশ এবং দৈনিক ভিত্তিতে ন্যূনতম সাড়ে ৪ শতাংশ নগদ জমা রাখতে হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় তারল্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে আগামী ১৫ এপ্রিল থেকে দ্বি সাপ্তাহিক ভিত্তিতে ন্যূনতম ৪ শতাংশ এবং দৈনিক ভিত্তিতে ন্যূনতম সাড়ে ৩ শতাংশ রাখতে হবে।

অপর এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের রেপো সুদহার বিদ্যমান বার্ষিক শতকরা ৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ থেকে বেসিস পয়েন্ট ৫০ শতাংশ কমিয়ে ৫ দশমিক ২৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হলো। এ নির্দেশনা আগামী ১২ এপ্রিল থেকে কার্যকর হবে। এর আগে গত ২৩ মার্চ রেপোর সুদহার বেসিস পয়েন্ট ২৫ শতাংশ কমিয়ে ৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ করা হয়।