এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ায় খরায় বিপর্যস্ত সোমালিয়ায় শিশুদের অপুষ্টি পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে তীব্র অপুষ্টি ও নানা জটিলতায় চিকিৎসা নিতে আসা শিশুর সংখ্যা ৩২ শতাংশ বেড়েছে বলে জানিয়েছে ইউনিসেফ।
আল জাজিরা জানিয়েছে, শুক্রবার (২১ আগস্ট) ইউনিসেফের মুখপাত্র জেমস এল্ডার জেনেভায় সাংবাদিকদের বলেন, অর্থের সংকটে দেশটির দুই শতাধিক স্বাস্থ্য ও পুষ্টিকেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেছে। অর্থায়ন আরও কমলে সারা দেশে ৬১৮টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সোমালিয়ায় সহায়তা কমে যাওয়ায় স্বাস্থ্যসেবা ও পুষ্টি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে মানুষের জন্য পানি, শিক্ষা ও সুরক্ষা ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকারও কমে যাচ্ছে। এখন পিছিয়ে যাওয়ার সময় নয়।
ইউনিসেফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছর সোমালিয়ায় প্রায় ১৯ লাখ শিশু অপুষ্টিতে ভুগতে পারে। বিশেষ করে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু, কিশোরী ও নারীদের মধ্যে প্রায় ১০ লাখ মানুষ পুষ্টিসেবা হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী খরায় দেশটির কৃষি ও পশুপালন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ফসল নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক গবাদিপশু মারা গেছে এবং মানুষের জীবিকা ধ্বংস হয়েছে। জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত খরার কারণে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এর আগে থেকেই প্রায় ৩৩ লাখ সোমালি বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রয়েছে।
দেশটির ১৯ কোটি জনসংখ্যার মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ তীব্র খাদ্যসংকটে রয়েছে। এর মধ্যেই চলতি বছর সোমালিয়ার কিছু অঞ্চলে তীব্র অপুষ্টি মোকাবিলার অর্থায়ন ৮০ শতাংশের বেশি কমেছে বলে জানিয়েছে মেডেসাঁ সঁ ফ্রঁতিয়ের। সহায়তা কমে যাওয়ার পাশাপাশি খরার কারণে পানির সংকটও তীব্র হয়েছে। গ্রামীণ ও পশুপালননির্ভর এলাকায় পানির দাম চার গুণ পর্যন্ত বেড়েছে। একই সময়ে জ্বালানি ও সারের ব্যয়ও বেড়েছে।
জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব ও সম্ভাব্য ভারী বন্যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। ফলে সহায়তা দ্রুত না বাড়ালে সোমালিয়ার শিশুদের ক্ষুধা ও অপুষ্টি সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।









