চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনাকাল: চয়নিকা চৌধুরীর পরিকল্পনায় নেপথ্যের মানুষেরা একসঙ্গে

‘নেপথ্যের আলো’য় কে কথা বলেননি? পরিচালক, নাট্যকার থেকে শুরু করে সহকারি পরিচালক, ক্যামেরাম্যান, এডিটর, লাইট ক্রু, মেকাপম্যান, প্রোডাকশন ক্রু, শুটিং হাউস মালিকসহ মোট ৫০ জন…

‘নেপথ্যের আলো দেখানো মানুষগুলো যদি নিজেদের জীবনের আলো দেখতে না পায়, ওরা যদি ভালো না থাকে, যদি ওরা হয়ে যায় অস্তিত্বহীন, যাদের আলোতে আলোকিত হয় বিনোদন তারকারা, তারাই যদি আজ আলো দিতে না পারে, তবে আমরা যারা নিজেদের তারকা বলি, তারা আলোকিত হবো কী করে?’

নাটক, টেলিভিশন অনুষ্ঠান নির্মাণের নেপথ্যের মানুষদের নিয়ে হৃদয়স্পর্শি এই কথাগুলো বলছিলেন টিভি পর্দার সুঅভিনেতা মাহফুজ আহমেদ। শুধু তিনি একা নন, কথা বলেছেন ইমদাদুল হক মিলন, শমী কায়সারের মতো গুণী মানুষেরাও।

বিজ্ঞাপন

মূলত এটি করোনাকালীন সময়ে শোবিজের নেপথ্যের মানুষের সংকট ও বাস্তবতা তুলে ধরা একটি ভিডিও প্রোডাকশন। ‘নেপথ্যের আলো’ নামে যে প্রোডাকশন নির্মাণের পরিকল্পনায় আছেন ছোটপর্দার জনপ্রিয় নির্মাতা চয়নিকা চৌধুরী ও নাট্যকার ফারিয়া হোসেন।

নাটক নির্মাণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত নেপথ্যে থাকা প্রতিটি বিভাগের মানুষ করোনাকালে তাদের সংকট আর অস্তিত্বের কথা বলেছেন চয়নিকার নির্মাণে প্রায় ১১ মিনিটের ওই ভিডিওতে।

কে কথা বলেননি সেখানে? পরিচালক, নাট্যকার থেকে শুরু করে সহকারি পরিচালক, ক্যামেরাম্যান, এডিটর, লাইট ক্রু, মেকাপম্যান, প্রোডাকশন ক্রু, শুটিং হাউস মালিকসহ মোট ৫০ জন! আর এই কাজটি করতে গিয়ে প্রচুর শ্রম দিতে হয়েছে চয়নিকা চৌধুরীর। সহকর্মীদের বর্তমান অবস্থার কথা তুলে ধরতে, এবং এই পরিকল্পনাকে বাস্তবায়ন করতে লকডাউনের এই করুণ সময়েও একদিন ঘরের বাইরেও যেতে হয়েছে তাকে।

চয়নিকার ভাষায়, ‘৫৫ দিন পর লকডাউন ভেঙে ‘নেপথ্যের আলো’র এডিটিংয়ের লাইনআপ ঠিক করতে একদিন বের হয়েছিলাম। এছাড়া আর কোনো উপায় ছিলো না।’

সার্বিক পরিকল্পনার কথা জানিয়ে চয়নিকা চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, এপ্রিলের শেষ দিকে আমার মাথায় পরিকল্পনা আসে। ভেবে দেখিছি, আমাদের কোন স্বীকৃতি নেই, প্রণোদনা নেই, অথচ মেধাসত্ত্ব ঠিকই বিক্রি হয়ে যায়! দিন আনে দিন খায় যারা তাদের চোখে জল। তখন মনে হলো এই করোনা কালের সাক্ষী এবং সারা দেশের মানুষকে জানানো উচিত আমরা নেপথ্যের মানুষগুলো কতো কষ্টে আছি! ফারিয়া হোসেনকে জানালে তিনি আমাকে একটা লাইন-আপ পাঠান। এরপর স্ক্রিপ্টটা বড় করে সবার কাছে পাঠাই। প্রত্যেকেই সাড়া দিয়েছেন, এটা আমার পরম পাওয়া!’

তবে এই প্রোডাকশন নির্মাণে বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন ভিডিও এডিটর শুভ্র খান ও নির্মাতা শ্রাবণী ফেরদৌস। চয়নিকা বলেন, তারা এগিয়ে না এলে হয়তো ‘নেপথ্যের আলো’ আসতে আরো একটু দেরী হতো। যখন এডিটর খুঁজে পাচ্ছিলাম না, তখন শুভ্র খান নিজের কাজ মনে করে এটির সম্পাদনার দায়িত্ব নেন। রমজান মাসে তাকে আমার অনেক যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়েছে।

তবে কাজটি প্রকাশ্যে আসতেই ফলও পাচ্ছেন হাতেনাতে! ভিডিওটির প্রশংসা করেছেন ছোটপর্দার সঙ্গে জড়িত সকলেই। সেই সঙ্গে সাধারণ মানুষও এমন কাজের প্রশংসা করছেন। নতুন করে ভাবছেন নেপথ্যের মানুষদের নিয়ে।