চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

এবার অস্ট্রেলিয়ার গণমাধ্যমে প্রশংসিত ‘শনিবার বিকেল’

হলিউড রিপোর্টারের পর এবার অস্ট্রেলিয়ার গণমাধ্যমে ‘শনিবার বিকেল’-এর রিভিউ:

মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর বহুল প্রতীক্ষিত ‘শনিবার বিকেল’ ছবিটি বাংলাদেশে মুক্তির অনুমতি পায়নি এখনো। তবে প্রশংসা পাচ্ছে বিদেশের মাটিতে। ৪১তম মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের পর ছবিটি এবার অংশ নিয়েছে ‘সিডনি চলচ্চিত্র উৎসব ২০১৯’-এ। সোমবার ছবিটি প্রদর্শিত হওয়ার পর ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।

সিডনি থেকে ফারুকী চ্যানেল আই অনলাইনকে জানান, সোমবারের শো’টি দুর্দান্ত হয়েছে। আগত দর্শক ছবিটির প্রশংসা করেছেন বলেও জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

‘শনিবার বিকেল’ ছবিটি নিয়ে প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন গণমাধ্যমে। অস্ট্রেলিয়ার ‘মেইক দ্য সুইচ’-এ একটি রিভিউ প্রকাশ পেয়েছে ছবিটির। চলচ্চিত্র সমালোচক চার্লি ডেভিড এর লেখা সেই রিভিউতে বলা হয়েছে, ছবির দৃশ্যগুলোকে বাস্তব মনে হয়েছে। পুরো সিনেমাটি ক্যামেরার এক শটে ধারণ করা হয়েছে। এই কৌশলটি পরিস্থিতির অস্থিরতাটিকে অনুভব করিয়েছে, দৃশ্যগুলোকে বাস্তবের মতো করেছে। সেই সঙ্গে সরাসরি সন্ত্রাস না দেখিয়ে বিষয়টি ক্যামেরার বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে অথবা অভিনয়শিল্পীদের মুখভঙ্গির মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে।

ক্যামেরার এক শটে পুরো সিনেমা করার বিষয়টি অভিনয়শিল্পীদের কাঁধে অনেক কঠিন একটি দায়িত্ব। তবে দায়িত্ব খুব ভালোভাবেই পালন করতে পেরেছেন তারা।

নুসরাত ইমরোজ তিশা রাইসা চরিত্রটিতে রূপদান করেছেন। উগ্রপন্থীদেরকে নানা ভাবে বুঝানোর চেষ্টা করলেও তারা নিজেদের মতবাদে অটল থাকে। সন্ত্রাসবাদ এবং উগ্রপন্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া এই ছবিটি পশ্চিমা দর্শকদের সামনে জঙ্গিবাদের ভয়াবহতা তুলে ধরেছে। ছবির সমাপ্তিতে সব ঝাপসা হয়ে অন্ধকার হয়ে যায়। ফলে শেষ পরিণতি আর জানা হয়না, শুধু হারাতে হয় অনেকগুলো প্রাণ।

২০১৬ সালের ঢাকার গুলশানের হোলি আর্টিজান হামলার ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে বাংলাদেশ-জার্মানির যৌথ প্রযোজনায় ছবিটি নির্মাণ করা হয়েছে ‘শনিবার বিকেল’। ছবিতে অভিনয় করেছেন নুসরাত ইমরোজ তিশা, জাহিদ হাসান ও পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। এর আগে ৪১তম মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিয়ে ইন্ডিপেন্ডেন্ট জুরি পুরস্কার পায় ছবিটি।

বিশ্বমিডিয়াতে এবারই প্রথমবারের মতো ‘শনিবার বিকেল’ এর রিভিউ প্রকাশ করা হয়নি, এরআগে গেল মে মাসের ‘হলিউড রিপোর্টার’-এ বাংলাদেশি এই ছবিটি নিয়ে রিভিউ লেখেন আমেরিকার অভিনেত্রী, নির্মাতা, লেখিকা এবং সমালোচক দেবোরাহ ইয়ং।