চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

একনলা-দোনলা নিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যাংকিং খাতে সতর্কতা নোটিশ

আশুলিয়ায় রক্তাক্ত ব্যাংক ডাকাতির ঘটনার পর দেশের ব্যাংকিং খাতে সতর্কতা নোটিশ জারি করা হয়েছে। সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকার পাশাপাশি নিজ নিজ নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করে কোথাও কোনো গলদ থাকলে তা জানাতে ব্যাংকগুলোর শাখাগুলোর কাছে নির্দেশনা গেছে প্রধান দপ্তরগুলো থেকে।

তবে কর্মকর্তারা বলছেন, একটি একনলা বা দোনলা বন্দুক আর একটি লাঠি নিয়ে এক বা দু’জন নিরাপত্তারক্ষী এবং কথিত ‘পাগলা ঘণ্টি’র যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা, তাতে আশুলিয়ার মতো অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটলে তেমন কিছু করার নেই। সেক্ষেত্রে পুলিশের তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপ কিংবা আশুলিয়ার মতো সাধারণ মানুষের এগিয়ে আসার উপর নির্ভর করাই একমাত্র বিকল্প।

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা জানান, সশস্ত্র সংগঠন সক্রিয় এমন দেশগুলো ছাড়া সারাবিশ্বেই ব্যাংকগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়মিত পুলিশ বাহিনীর সাধারণ আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে পড়ে। বাংলাদেশেও কমজোরি নিরাপত্তারক্ষী রেখে ব্যাংকগুলো পুলিশের উপর নির্ভর করে। এখানে পুলিশের উপর নির্ভর করার আরেক কারণ ব্যাংক ডাকাতির মতো ঘটনা খুব বেশি না ঘটা, ঘটলেও পুলিশের মাধ্যমে টাকা উদ্ধার এবং ডাকাতদের বিচারের মুখোমুখি করতে পারার ইতিহাস। পাশাপাশি ব্যাংকগুলোর ইন্সুরেন্স এবং কাউন্টার ইন্সুরেন্সও করা থাকে।

Advertisement

চ্যানেল আই অনলাইনকে ব্যাংকাররা বলেছেন, বাংলাদেশে ব্যাংক ডাকাতির ঘটনা এতোই কম যে এরকম অপরাধের তালিকায় বাংলাদেশ একেবারে তলানিতে ১০০’র পরে অবস্থান করে। শুধু বাংলাদেশ নয়, পুরো উপমহাদেশেই এ অপরাধের সংখ্যা কম। তালিকায় বাংলাদেশের আগে পরে আছে ভারত, নেপাল এবং পাকিস্তানের নাম। আর একেবারে শীর্ষে লাতিন আমেরিকার কয়েকটি দেশ। যুক্তরাষ্ট্রও আছে উপরের দিকে।

তবে বাংলাদেশে অতীত ব্যাংক ডাকাতির ইতিহাসে আশুলিয়ার মতো রক্তাক্ত ঘটনার নজির নেই বলে এখন তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদারের উদ্যোগ নিয়েছে প্রায় সব ব্যাংক। এ মুহূর্তে দেশে সরকারি- বেসরকারি ব্যাংকের সংখ্যা ৬১, দেশজুড়ে তাদের মোট শাখা সাত হাজারেরও বেশি।

মাঠ পর্যায়ের ব্যাংক কর্মকর্তারা আশা করছেন, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের উজ্জ্বল এক কর্মকর্তা মো. ওয়ালীউল্লাহর নিহত হওয়ার ঘটনার পর বাংলাদেশ ব্যাংক ভল্ট নিরাপত্তার জন্য নির্দেশনার মতো জীবনের নিরাপত্তায়ও ব্যাংকগুলোকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেবে। তারা জানান, জয়পুরহাটে ব্র্যাক ব্যাংকের ভল্ট ভেঙে ডাকাতির ঘটনার পর কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ভল্টের নিরাপত্তায় ‘লাইট ক্যামেরা’ স্থাপনসহ বেশকিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়। মানুষের জীবনের নিরাপত্তায় আগে থেকে শুধু সর্বোচ্চ ব্যবস্থার নির্দেশনা আছে, খুব গভীরে বিস্তারিত কিছু নেই।

তবে সম্পদের পাহারায় প্রযুক্তিগত নিরাপত্তাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে সব ব্যাংক। তারা সিসিটিভির পাশাপাশি আইপি ক্যামেরা, রিমোট সেন্সরিং, অটো মেসেজিং এবং অটো কলিং এর মতো ব্যবস্থার নানা উদ্যোগ নিচ্ছে।