চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

একটি পরিবর্তনমুখী ও মানবিক বাজেটের প্রত্যাশা

করোনার স্মরণকালের ভয়াবহ এই বৈশ্বিক মহামারীর সময়ে দেশে আগামী অর্থবছরের বাজেট পেশ করতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী। নতুন বছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর মাত্র পাঁচ দিন আলোচনা হবে। আর পুরো বাজেট পাসের প্রক্রিয়া ব্যয় হবে ১০ দিন। সেক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২০ ঘণ্টা বাজেট আলোচনা হতে পারে। গতবছর প্রায় ৬০ ঘণ্টা আলোচনা হয়েছিল। প্রতিদিন সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত এই আলোচনা চলবে। আগামী ২৯ জুন অর্থবিল ও ৩০ জুন মূল বাজেট পাস হবে।

স্বাস্থ্য নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে জাতীয় সংসদে নেয়া হয়েছে নানামুখী পদক্ষেপ। বাজেট উপলক্ষে সংসদের কর্মকর্তাদের করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) পরীক্ষার পর ৪৩ জনের শরীরে ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছে। তারও আগে সংসদ সচিবালয়ে দায়িত্বরত ৮২ জন ব্যাটালিয়ন আনসার ও তিনজন পুলিশ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। বাজেট যেহেতু গুরুত্বপূর্ণ একটি রাষ্ট্রীয় পর্ব, কাজেই ঝুঁকির মুখেই সে পর্ব সম্পন্ন করবেন সংসদ সদস্যগণ।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

করোনাকালে দেশে নানামুখী সমস্যা ইতিমধ্যে দেখা দিয়েছে। সেইসব সমস্যাকে মাথায় রেখে নিশ্চয় নতুন করে ভাবছেন দেশের নীতি নির্ধারকরা। কারণ করোনার বর্তমান সময়ের সঙ্কটের সাথে সামনের দিনগুলিতে অপেক্ষা করছে আরও নানামুখী সঙ্কট। অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞার আলোকে কীভাবে কোনখাতে বাজেটে কতো বরাদ্দ থাকবে, তা একটি বড় চ্যালেঞ্জ বলে আমরা মনে করি।

বিজ্ঞাপন

বাজেটে প্রতিবছরই বিভিন্নখাতে পরিকল্পনা অনুসারে বরাদ্দ থাকে। সেগুলো হয়তো অবশ্যই থাকবে। তারপরেও স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষিসহ বিভিন্ন জনগুরুত্বপূর্ণ খাতে বিশেষ বরাদ্দ হয়তো আসবে। মেগা-প্রকল্পসহ বেশি খরুচে বিষয়ে কিছুটা লাগাম টানা হবে, এমনটা আশা করছেন দেশের চিন্তাশীল নানা গোষ্ঠি। আরেকটি বিষয় লক্ষ্যণীয়, দেশের মানুষের আয় ও কর্মসংস্থানে বড় আঘাত করেছে এই করোনা। কীভাবে বাজেটের মাধ্যমে একটি কর্মমুখর অর্থনীতির ধারা ধরে রাখা যায়, তা ভেবে দেখা এবং আয়কর কাঠামো পরিবর্তন, নিত্যপণ্যের দাম কমানো, প্রয়োজনে সেসবে ভর্তুকি, তামাক ও বিলাসবহুল পণ্যে করারোপসহ নানা পদক্ষেপ খুবই জরুরি। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে একটি মানবিক ও পরিবর্তনমুখী বাজেটের মাধ্যমে করোনার এই ক্ষতি ও চাপ মোকাবেলা করতে পারবেন বলে আমাদের আশাবাদ।