মাগুরা শহরের কাঁচাবাজার এলাকায় এক পুলিশ সদস্যকে প্রকাশ্যে মারধরের অভিযোগ উঠেছে জেলা বিএনপির সদস্য ও মাগুরা জেলা মাইক্রোবাস সমিতির সভাপতি নাইমুজ্জামান নয়নের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর তাকে আটক করে থানায় নেওয়া হলেও পরে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে শহরের ঢাকা রোড বাসস্ট্যান্ড এলাকার জুলাই-আগস্ট শহীদ বেদিতে দায়িত্ব পালন শেষে পুলিশ কন্ট্রোল রুমে কর্মরত ইমরান হোসেন মোটরসাইকেলে করে শহরের দিকে ফিরছিলেন। পথে কাঁচাবাজার এলাকায় একটি প্রাইভেটকার থেকে নয়ন পেছন থেকে জোরে হর্ন দেন বলে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে।
ইমরান হোসেনের ভাষ্য, সড়কের বাম পাশে জায়গা না থাকায় তিনি মোটরসাইকেল থামাতে বাধ্য হন। এরপর নয়ন গাড়ি থেকে নেমে কেন সাইড দেওয়া হয়নি জানতে চান। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়।
এ সময় ওই পথ দিয়ে যাওয়া পুলিশের উপপরিদর্শক মাসুদ হোসেন ও শরিফ বিষয়টি জানতে পেরে ইমরানের সঙ্গে ভায়না এলাকার দিকে যেতে থাকেন। অভিযোগ রয়েছে, ভায়নার কাছে মাইক্রোবাসস্ট্যান্ড এলাকায় নয়ন তার প্রাইভেটকার সড়কে রেখে তাদের পথ আটকে দেন।
সেখানে আবারও কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে নয়ন ইমরানের মোটরসাইকেলের চাবি নিয়ে ফেসবুক লাইভে গিয়ে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে থাকেন। পরে ইমরানকে চড় মারেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, উত্তেজিত অবস্থায় নয়ন ফেসবুক লাইভে কথা বলছেন। এ সময় আশপাশে লোকজন জড়ো হন এবং সঙ্গে থাকা পুলিশ সদস্যরা তাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তিনি ইমরানের মোটরসাইকেলের চাবি নিয়ে তার ঘাড়ের পেছনে চড় মারেন। পরে আরও আঘাত করার চেষ্টা করলে উপস্থিত পুলিশ সদস্য ও স্থানীয় কয়েকজন তার হাত ধরে ফেলেন।
ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সদর থানা পুলিশ নয়নকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে রাতে বিএনপির এক নেতার নেতৃত্বে একটি দল থানায় গেলে মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
পুলিশ সদস্য ইমরান হোসেন বলেন, ‘এক রকম বিনা কারণেই আমি মারধরের শিকার হয়েছি। নয়ন মাইক্রোবাসস্ট্যান্ডে আমাদের সঙ্গে গালিগালাজসহ বিভিন্ন ধরনের অসদাচরণ করেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের তিন পুলিশ সদস্যকে মাইক্রোবাস সমিতির অফিসে আটকে রাখার হুমকি দেওয়া হয়। এছাড়া আমরা তার কিছুই করতে পারব না বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।’
মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, ঘটনার পরপরই নয়নকে আটক করা হয়েছিল। পরে মুচলেকার বিনিময়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ বিষয়ে আপাতত আর কিছু বলতে চাননি তিনি।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সদর থানার একাধিক পুলিশ সদস্য অভিযোগ করেন, পুলিশ সদস্যকে আঘাত করার পরও রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে নয়নকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, মাইক্রোবাস সমিতির সভাপতি হওয়ার পর সেখানে প্রায়ই এ ধরনের ঘটনা ঘটে।
নয়ন মাগুরা শহরের ভায়না এলাকার বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।









