চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

আয়েশার চরিত্রের সার্জারি করা কি এখন মুখ্য বিষয়?

প্রকাশ্যে একটা খুন হলো। মানুষ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখেছে। আবার ভিডিও করে সামাজিক মাধ্যমে প্রচার করেছে। ধরে নেয়া যায়, সন্ত্রাসীদের হাতে প্রাণ যাবার ভয়ে কেউ এগিয়ে আসেনি। এমন কি কেউ পুলিশকে খবর দিলে হয়তো ছেলেটা এভাবে মারা যেত না। বোধ করি তাৎক্ষণিকভাবে সে কাজটি না করে সিনেমার দৃশ্য বাস্তবে অবলোকন করেছে। নয়ন বন্ড এলাকার যে ত্রাস তা উঠে এসেছে সংবাদ মাধ্যমে। সন্ত্রাসীদের হাত থেকে স্বামী রিফাতকে বাঁচাতে আয়েশা প্রাণপণ চেষ্টা করেছে। যা ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে সবাই দেখেছে। যদিও পুরো ঘটনাটিতে মানবিকতা পরাজিত। তবু যারা ভিডিওটি করেছে একদিকে তারা সাধুবাদ প্রাপ্য। কারণ ভিডিওটা করেছে বলে সন্ত্রাসীদের চেহারাগুলো উন্মোচিত হয়েছে।

সারা দেশের মানুষ দেখেছে কতটা বর্বর হলে মানুষ এমন করে রক্তের হোলিখেলা করতে পারে। সন্ত্রাসীদের দায়ের কোপে রক্তের নহর বইয়ে দিয়ে চলে গেছে রিফাত। যা দেখে মহামান্য হাইকোর্ট ও হতবাক হয়ে প্রশ্ন তুলেছে সমাজের মানুষের মানসিকতার পরিবর্তন নিয়ে। রেড এলার্ট জারী হয়েছে নয়ন বন্ড যেন পালিয়ে যেতে না পারে সে জন্য।

বিজ্ঞাপন

নয়ন বন্ড আর তার সহযোগীদের সন্ত্রাস মাদকের মূল শক্তির উৎসটা নিয়ে প্রশ্ন আসে না কারো। কিন্তু রিফাতের হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার বা বিচারের চেয়ে অনেক বেশি আলোচিত হচ্ছে আয়েশার জীবন নিয়ে। সরগরম পত্রিকা-অনলাইন আর সামাজিক মাধ্যম। বলতে গেলে আদালতের বিচারের আগেই রায় দিচ্ছে সকলে। ‘যত দোষ নন্দ ঘোষ’ – প্রবাদের মতই আয়েশার চরিত্রের কারণেই সব হয়েছে।

আসলে বাঙ্গালী অতীত মনে রাখে না। তা না হলে আয়েশার চরিত্রের সার্জারির আগে মনে করত এ সমাজে প্রেম পরকীয়ার কারণে কত প্রাণ চলে গেছে। পুরুষ বা নারী বলে কথা নয়। পরকীয়া বা বেআইনি ভাবে দ্বিতীয় বিয়ে অপরাধ৷ কিন্তু আইনিভাবে কোন বৈবাহিক সম্পর্কচ্ছেদ হবার পরে দ্বিতীয় বিয়ে করতে পারে যে কেউ। রিফাত আয়েশা নয়ন এ তিনজনের পারস্পরিক সম্পর্ক হত্যার অন্তরালের ঘটনা তা পরিষ্কার। আর এ ঘটনাকে নিয়ে জল ঘোলা করার সময় এটা নয়। কারণ রিফাত হত্যার বিচারে আদালতেই প্রকাশিত হবে সব কিছু ।

বিজ্ঞাপন

দুঃখজনক হলেও সত্যি এ সমাজে এখনো নারীদের চরিত্র চর্চিত হবার চেয়ে আনন্দদায়ক আর কোন বিষয় নেই। সে কারণেই রিফাতের জন্য হা হুতাশ উবে গেছে সামাজিক মাধ্যমে। মানুষ হিসাবে মানবিকবোধগুলো হারিয়ে যাচ্ছে ক্রমশ। তাই একজন পিতা বা মাতার সন্তান হারানোর যন্ত্রণা উপলব্ধি করতে পারে না সমাজ। বরং হত্যাকারী নয়নের সাথে আয়েশার ছবি, প্রেমালাপ হয় মুখ্য বিষয়।

আইনের কাছে আবেগের কোনো স্থান নেই। আয়েশার স্বামীকে বাঁচানোর বিষয়টা যদি কোন নাটকীয়তা হয়ে থাকে তবে এ হত্যা মামলাতে আয়েশাও অভিযুক্ত হবে। আর এর জন্য অপেক্ষা করতে হবে মামলার তদন্তের সময় পর্যন্ত ।

আয়েশাকে নয়ন ও তার সহযোগীরা কেন আঘাত করেনি এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে মেয়েটিকে অসম্মান করার অধিকার কারো নেই। আয়েশা যদি রিফাতের হত্যার জন্য অপরাধী হয় তবে আইনই তাকে সাজা দিবে। তাই এখন আয়েশার চরিত্রের হালখাতা খুলে হত্যার ঘটনাকে অন্যদিকে ধাবিত না করাই শ্রেয়।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

Bellow Post-Green View