চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

আল কায়েদা এখনও তালেবান বাহিনীর অন্তর্ভুক্ত: জাতিসংঘ

আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার নিয়ে তালেবানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তি স্বাক্ষর সত্ত্বেও আল-কায়েদা এখনও তালেবান বাহিনীর সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত বলে সর্তক করেছেন জাতিসংঘের এক প্রবীণ কর্মকর্তা।

বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এ বছরের শুরুর দিকে দীর্ঘ ১৯ বছর ধরে চলা আফগান যুদ্ধের অবসানে কাতারের মধ্যস্থতায় এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। কাতারের রাজধানী দোহায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এবং তালেবান নেতাদের উপস্থিতিতে এই চুক্তি সই হয়।

বিজ্ঞাপন

চুক্তি অনুযায়ী, তালেবান শর্ত মেনে চললে আগামী ১৪ মাসের মধ্যে আফগানিস্তান থেকে সব সৈন্য প্রত্যাহার করবে যুক্তরাষ্ট্র ও তার ন্যাটো মিত্ররা। অন্যদিকে আফগানিস্তানে আর কোনো হামলা চালাবে না তালেবান। তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে আল কায়েদাকে কোনো তৎপরতা চালাতে না দেয়ারও অঙ্গীকার করেছে তারা।

তবে জাতিসংঘের ইসলামিক স্টেট, আল-কায়েদা এবং তালেবান মনিটরিং টিমের সমন্বয়কারী এডমন্ড ফিটন-ব্রাউন বিবিসিকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে তালেবানের চুক্তিটি শেষ হওয়ার ক্ষেত্রে তালেবান আল-কায়েদার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে দুটি গ্রুপই মিত্র থাকবে।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, ঐতিহাসিক এই চুক্তির সময় তালেবানরা নিয়মিত আল-কায়েদার সাথে কথা বলেছিল এবং আশ্বাস দিয়েছিল তারা এই চুক্তিকে সম্মান জানাবে।

তিনি বলেছিলেন, চুক্তি হওয়ার কারণে আল-কায়েদার এবং তালেবানদের মধ্যে সম্পর্ক পরিবর্তন হয়েছে মনে করা হলেও এখনও আল-কায়েদার সাথে তালেবান বাহিনী প্রচুর পরিমাণে যোগাযোগ করেছে। আল কায়েদা তালেবানদের সাথে সামরিক প্রশিক্ষণমূলক কাজ করার জন্য একটি চুক্তিও করেছে।

আল কায়েদা ২০০১ সালের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের টুইন টাওয়ারে হামলা চালানোর কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই আফগানিস্তানে অভিযান চালায় যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন বাহিনী। ১৯ বছরের এই যুদ্ধে কত সংখ্যক আফগান বেসামরিক, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও তালেবান সদস্যের প্রাণ গেছে, তার সঠিক পরিসংখ্যান বের করাটা কঠিন।

তবে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতিসংঘের এক প্রতিবেদন মতে এই যুদ্ধে ৩২ হাজারের বেশি সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছে। আর যুক্তরাষ্ট্রের রোড আইল্যান্ডের ব্রাউন ইউনিভার্সিটির ওয়াটসন ইনস্টিটিউটের তথ্য মতে, আফগান যুদ্ধে নিরাপত্তা বাহিনীর ৫৮ হাজার সদস্য এবং বিরোধী পক্ষের ৪২ হাজার যোদ্ধা নিহত হয়েছে।