রাজধানীর ইসলামপুরের এক মসজিদের মুয়াজ্জিনকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
মসজিদের দানের অর্থ এবং দোকানের ভাড়া ওঠানো নিয়ে তাকে হত্যা করা হতে পারে
বলে ধারণা করছে পুলিশ। ওই ঘটনায় নিহতের ছেলে বাদি হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা
করেছেন।
ইসলামপুরের ঝব্বু খানম জামে মসজিদে গত বিশ বছর ধরে মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালন করছিলেন বিল্লাল হোসেন। প্রতিদিন আযান দিলেও সোমবার ফজরের আযান দিতে পারেননি তিনি।
তিন তলা মসজিদের একটি রুমে বসবাস করতেন তিনি। দ্বিতীয় তলার সিঁড়ি থেকে তার রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে। রাতের যে কোনো এক সময় তাকে হত্যা হয়েছে বলে মনে করছে পুলিশ। 
গেলো রমজানেও ওই মুয়াজ্জিনকে দুর্বৃত্তরা মারধর করলে এক সপ্তাহ হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন বিল্লাল।
কয়েকজন এলাকাবাসী জানান, প্রতিদিন উনি আযান দেন, কিন্তু আজকে আর আযান দেয় নাই। এর আগে রমজান মাসেও ওনাকে মেরে হাত পা বেঁধে অর্থ নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছিলো। এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে উনি (মুয়াজ্জিন) বলতেন, আপনারা কি বিচার করতে পারবেন? সুতরাং শোনার দরকার নেই।
মুয়াজ্জিন খুনের ঘটনায় মসজিদের অর্থ নিয়ে কোনো বিরোধ নাকি জঙ্গিরা জড়িত তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
ডিএমপি’র অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ) শেখ মারুফ হাসান বলেন, ধস্তাধস্তি কিছুটা হয়েছে। কারণ এমন কিছু জায়গায় আঘাত আছে, যেখানে আঘাত করার কোন প্রয়োজন নাই। সবচেয়ে মারাত্মক আঘাতটি ছরয়েছে উনার পেটে।
কোন টাকা পয়সা তার কাছ থেকে নিয়েছে কিনা সে বিষয়ে খোঁজ রাখছেন উল্লেখ করে মারুফ বলেন, তার কারণ মাঝে মাঝে তার কাছে টাকা পয়সা থাকতো। মসজিদের টাকা বা মসজিদের নিচে যে দোকান ভাড়া এগুলোর টাকাও কিন্তু সে সংগ্রহ করতো।
লালবাগ জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার মফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, মসজিদের দান, দোকানের ভাড়ার টাকাও আমরা ধারণা করছি সে নিতো। ব্যাংক এ্যাকাউন্ট হয়তো তার নামে হয়েছিলো। কোন দিক থেকে তার শত্রুতা হলো? তা আমরা যাচাই বাছাই করছি।
হত্যাকাণ্ডে ঘটনায় কোন জঙ্গি সম্পৃক্ততা আছে কিনা প্রশ্নের জবাবে, তা জানতে বিষয়টা আরও ঘাটতে হবে বলে জানান তিনি। ওই ধরনের কোন সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া গেলে তা বলা যাবে। এই মুহুর্তে বলা যাচ্ছে না।

জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মসজিদের ইমাম, খতিব, সহকারি মুয়াজ্জিন ও বিল্লালের ছেলে ইয়াছিনকে আটক করেছে পুলিশ।










