চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

অরাজনৈতিক ধান কাটার মহোৎসব

১৯৭৬ সালের ১লা নভেম্বর। উলাশী-যদুনাথপুর; যেখানে খাল কাটা শুরু করেন মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান।

যথা সময়ে হেলিকপ্টার থেকে নেমে জিয়াউর রহমান এগিয়ে গেলেন খাল কাটা প্রকল্পের দিকে, সাথে সেনাবাহিনীর অনেক উচ্চ পদস্থ অফিসার। তার পরনে ছিল সামরিক পোষাক। হাতে ছিল ছড়ি।

বিজ্ঞাপন

এটাই স্বাভাবিক। দেশের একজন সরকারি কর্মকর্তা বা আমলা; তার পাশে সরকারি কর্মকর্তা বা অন্যান্য আমলাই থাকার কথা।

বিজ্ঞাপন

কিন্তু মহামারি করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে সাম্প্রতিক আওয়ামী লীগের কতিপয় সিনিয়র নেতা, এমপি, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী জিয়াউর রহমানের আদর্শ বা ‘খাল কাটা প্রকল্প’ যা ‘ধান কাটা প্রকল্প’ এ অনুকরণ করেছে বলে প্রতীয়মান হয়েছে।

আবার ছোঁয়াচে করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯ এর মহামারির এই সময়ে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা, আইইডিসিআর-এর কোনো রকমের স্বাস্থ্যবিধিও মানা হয়নি। তাহলে দেশের সাধারণ জনগণ কী অনুকরণ করবে বা কাকে অনুসরণ করবে?

আর একজন তো রীতিমত ধান এখনো পাকেনি-সেই ধান কেটে কৃষকের বারোটা বাজিয়েছে-এমন ছবিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

পাঠক! ১৯৭৬ সালে রাজনৈতিক অবস্থান আর আজকের ২০২০ সালের রাজনৈতিক অবস্থানের হাল-হাকিকতের কোনো মিল খুঁজে পান?

আওয়ামী লীগের ওইসব সিনিয়র নেতা, এমপি, মন্ত্রী আর প্রতিমন্ত্রীর এইসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এটাই প্রতীয়মান-দেশে আসলে কোনও রাজনীতি নেই। রাজনৈতিক নেতার জায়গা দখল করে আছে সরকারের আমলা-কামলা আর ব্যবসায়িক; যাদের কালো টাকার ছড়াছড়ি। আবার অনেকে রাজনৈতিক মাঠ থেকে উঠে আসলেও সেই কালো টাকাওয়ালার মতন হতে বাধ্য হয়েছেন যা রাজনীতির জন্য অশনি সংকেত। যে কারণে সত্যিকারের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ আজ কোণঠাসা, অসহায়। কালো টাকা নেই, তাই শত-শত কোটি টাকা দিয়ে নমিনেশন কিনতে পারছে না। আর এ কারণেই দিন-কি-দিন; রাজনীতি আর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা থেকে তারা দূরে সরে যাচ্ছেন।

বিজ্ঞাপন

সোশ্যাল মিডিয়াতে ধান কাটার মহোৎসবে যাদের ছবি ভাইরাল হয়েছে তাদের অনেকে রাজনীতির প্লাটফর্ম থেকে সরকারের এমপি, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী হলেও মূলত তারা কর্মীহীন নেতা। জোর করে, ভয় দেখিয়ে কিংবা লোভে ফেলে (ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা) তারা সব সময় ছাত্রলীগকে ব্যবহার করেছে। তাই সব সময় ছাত্রলীগের কতিপয় উদীয়মান ছেলে-মেয়ে ছাড়া সত্যিকারের কোনও কর্মী তাদের সাথে নেই, পাশেও নেই।

আর স্থানীয় জনগণ কতটুকু সাথে আছে-শেখ হাসিনার একক গ্রহণযোগ্যতা আর জনপ্রিয়তা না থাকলে; বাড়ির দারোয়ানের ভোট পেত কিনা সন্দেহ।

আর ছাত্রলীগের ধান কাটা-অর্জন; ওইসব নেতা, এমপি, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছে।

ভাইরাল হওয়া ছবিগুলোতে এটাই প্রতীয়মান-ধান কাটার চেয়ে ধান নষ্ট করাই হয়েছে বেশি। সরকারের আমলা-কামলা ছবি তোলার জন্য যে, যেখানে পেরেছে সেখানেই দাঁড়িয়েছে, নষ্ট করেছে কৃষকের ধান। ছবি তুলে হয়তো ওইসব ফটোসেশন করা ব্যক্তিদের বাহবা পেয়েছে।

কিন্তু, কিছুটা ক্ষতি ওই গরীব কৃষকেরই হয়েছে।

একজন রাজনৈতিক নেতা জানে কিভাবে খেত থেকে ধান কেটে কৃষকের গোলায় তুলতে সহায়তা করতে হয়, তার নেতাকর্মীকে যেকোনো সংকটে জনগণের পাশে কিভাবে দাঁড় করিয়ে দিতে হয়। আজ একশ্রেণীর নেতা, এমপি, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী সত্যিই রাজনীতিকে আঙ্গুল দিয়ে তুলে ধরেছে।

অন্যদিকে আধুনিক একবিংশ শতাব্দীতে কৃষিকাজে সহায়তার জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতি আবিষ্কার হয়েছে। হাজার শ্রমিকের কাজ একটি মেশিন বা যন্ত্র একাই করতে পারে। সেখানে আমরা নিজেরাই মাঠে নেমে নিজেদের অজ্ঞতা, দক্ষতার ঘাতটি তুলে ধরছি না…?

মূলত, রাজনীতি নির্ভর নয়-এমন লোকের কাছে জনকল্যাণকর কিছু আশা করা কঠিন। আর এমনটাই হয়েছে।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)